তিন যুবকের সঙ্গে হোটেলে সারারাত,অজ্ঞাত নামের লাশ হয়ে মর্গে পড়ে আছে তানিয়া

প্রকাশঃ জুন ২৯, ২০১৭

Advertisement

বিডিমর্নিং ক্রাইম ডেস্ক-

ঈদের দিন রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সংলগ্ন হোটেল স্টার থেকে উদ্ধার হয় এক তরুণীর লাশ। হোটেল সুত্রে জানা গিয়েছে এই তরুণীর নাম তানিয়া। পুলিশ ধারণা করছে স্থানীয় ইয়াবা সিন্ডিকেটের হাতে খুন হয়েছে তানিয়া।  ঘটনার তিনদিন হয়ে গেলেও মামলার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি ভাটারা থানার এসআই  জিয়াউর রহমান।

ঈদের আগের দিন রবিবার সন্ধ্যার দিকে এলাকার ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা আলমগীর, জামান ও নাঈম নামে তিন যুবক তানিয়াকে নিয়ে হোটেলে আসে। পূর্ব পরিচয়ের খাতিরে তাদের একটি রুম বরাদ্দ দেওয়া হয়। হোটেলের নিয়ম অনুযায়ী নাম ঠিকানা রেকর্ড করার কথা থাকলেও এর কোনটিই করতে হয়নি তাঁদের। পরে চাঁদরাতে নাঈম, জামান ও আলমগীর তানিয়াকে নিয়ে ওই রুমে অবস্থান করলেও ভোরে তানিয়াকে ছাড়া তারা তিন জন বেড়িয়ে যান।সকালের দিকে হোটেলের স্টাফ রুম ক্লিন করতে গিয়ে দেখেন ওই রুম তালাবদ্ধ । পরে দীর্ঘক্ষণ  দরজা নক করলে দরজা খুললে পুলিশকে দেওয়া হয়।

পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করলে দেখে রুমের ফ্যানের তানিয়ার লাশ ঝুলচ্ছে। পরে অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে ভাটারা থানার এসআই জিয়াউর রহমান বলেন, দ্রুত-ই মামলার রহস্য উদঘাটন হবে। ঈদের কারণে ময়নাতদন্তের ফলাফল পেতে একটু কষ্ট হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরে থেকে হোটেলের মালিক-কর্মচারীরা গা ঢাকা দেওয়ার কারণে তদন্তে একটু সমস্যা। কারণ হোটেলে কে বা কারা এসেছিল এই বিষয়ে কিছুটা হলেই তথ্য পাওয়া যেত। তবে যারা ওই তরুণীকে হোটেলে নিয়ে গিয়েছিলেন তাদের নাম জানতে পেরেছেন। তারা হলেন- নাঈম,জামান ও আলমগীর।এদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এসআই জিয়া আরও  জানান, ওই নারী যদি আত্মহত্যাই করবেন, তবে হোটেলে গিয়ে আত্মহত্যার কোন কারণ নেই। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা অনুমান করছি।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, নিহত তরুণীর নাম তানিয়া। তবে তার বাড়ি কোথায় সে ব্যাপারে কিছুই জানা যায় নি। অন্য এক আবাসিক হোটেলের এক স্টাফ জানান, এর আগেও নাইম, আলমগীর ও জামানের সঙ্গে ওই তরুণী এই হোটেলসহ বসুন্ধরার আবাসিক হোটেল হ্যাভেন টাচ, পার্ক ও কুড়িলের শিকদার হোটেলে যাতায়াত করতেন। ওই সময় তারা মেয়েটিকে তানিয়া নামে ডাকতে দেখেছেন। সেদিনও তারা এক সঙ্গে হোটেল স্টারে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাইম, জামান ও আলমগীর এ এলাকার ইয়াবা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের অন্যতম নেতা। বিশেষ করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা, নর্দা, কুড়িলসহ আশপাশের এলাকায় ইয়াবার ডিলার হিসেবে পরিচিত। প্রশাসনের সঙ্গে এদের একপ্রকার সখ্যতার কারণে এলাকায় তারা বেপরোয়া।

Advertisement

Advertisement

কমেন্টস