বনানীর ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত ও সাদমান ডিবি কার্যালয়ে

প্রকাশঃ মে ১২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ক্রাইম ডেস্ক-

রাজধানীর বনানীতে দুই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে ঢাকায় আনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) হেফাজতে গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে তাদের।

শুক্রবার সকালে পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপ-কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার সময় সিলেট নগরীর জালালাবাদ এলাকার এক প্রবাসীর বাসা থেকে তাদের দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া গতকাল জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট শহরের একটি বাড়ি থেকে সাফাত ও সাকিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে রাতেই তাদের ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,সাফাত আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে। এবং সাদমান পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক ও রেগনাম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে।

গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন দুই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী। সেদিন রাত নয়টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত একটি কক্ষে আটকে রেখে সাফাত ও নাঈম তাদের একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় আসামি সাফাত গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। পরে বাসায় দেহরক্ষী পাঠিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখান।

ঘটনার ৪০ দিন পর ভুক্তভোগী ওই দুই ছাত্রী গত ৬ মে সন্ধ্যায় বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

তারা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে শাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, শাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও তাঁর দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

মামলার প্রধান আসামি সাফাতকে ধরতে পুলিশ তাদের গুলশানের বাসায় দুই দফা অভিযান চালায়। কিন্তু তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। অবশেষ গতকাল রাতে তাকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। মামলার অন্য তিন আসামি এখনো পলাতক আছেন।

মামলার পর ওই শিক্ষার্থীদের পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়া হয় এবং বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিন তাঁর খাসকামরায় দুইজনের জবানবন্দি নেন। বেলা একটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত বিচারক তাদের জবানবন্দি নেন।

কমেন্টস