দেহরক্ষীর সঙ্গে দুই ধর্ষকের ছবি প্রকাশ

প্রকাশঃ মে ১১, ২০১৭

 বিডিমর্নিং ক্রাইম ডেস্ক-

জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে দেহরক্ষীধারী ধর্ষকদের হাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণী ধর্ষিত হওয়ার ঘটনায় সারাদেশে এখন তুমুল আলোচনার ঝড় চলেছে। কিন্তু সেই দেহরক্ষীদের নাম বা ছবি পাওয়া যাচ্ছিল না,যাদের প্রহরায় ধর্ষণ করা হয়ে ছিল । মামলার এক সপ্তাহের মাথার এবার প্রকাশ পেল সেই দেহরক্ষীদের ছবি।

শনিবার রাতে এ মামলা করেন ধর্ষিত দুই তরুণী বনানী থানা যে ধর্ষণ মামলা করে তাতে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলেকে প্রধান অভিযুক্ত সাফাত আহমেদ মামলা করা হয়। সাফাতের ড্রাইভার বিল্লাল ও দেহরক্ষীকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। দেহরক্ষীদের পরিচয় পাওয়া গেলেও, এখনও সাফাতের ড্রাইভার বিল্লাল কোনো ছবি পাওয়া যায়নি।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২৮ মার্চ বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে তারা ধর্ষণের শিকার হন। সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ নামে দু’জন তাদের সারা রাত হোটেলের দুটি কক্ষে অস্ত্রের মুখে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছে ধর্ষকরা। এখন ওই ভিডিও প্রকাশসহ তাদের খুন ও গুম করার হুমকি দিচ্ছে।

এই ঘটনা ঘটেছে মাস খানেকেরও বেশি আগে। আর এ নিয়ে মামলা হয়েছে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায়!তবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ধর্ষণের শিকার এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেছেন, লোকলজ্জার ভয়ে তাঁরা বিষয়টি চেপে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আসামির তরফে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল, আসামির দেহরক্ষী তাঁকে নিয়মিত অনুসরণ করতে থাকেন এবং দুজনের বাসায় গিয়ে খোঁজখবর নেন। এমনকি ধর্ষণের ভিডিও আপলোড কারার হুমকিও দেওয়া হয়।

ধর্ষণের শিকার দুই তরুণী বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানী থানায় এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দেন। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ অভিযোগ নিতে গড়িমসি করে। অনেক অনুনয়-বিনয় করার পর অভিযোগ নিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। তার পরও চেষ্টা চালিয়ে যান ধর্ষিত দুই তরুণী। ৪৮ ঘণ্টার চেষ্টার পর সফল হন তারা। তার পরও ভোগান্তি পিছু ছাড়েনি তাদের- স্বাস্থ্য পরীক্ষার নাম করে মামলার বাদীকে থানায় আটকে রাখা হয়েছে বলে  অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে আসামিদের রক্ষার জন্য পুলিশকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

ধর্ষিত দুই তরুণীর অভিযোগ, ২৮ মার্চ সাফাতের জন্মদিন ছিল। সাদনান তাদের বারবার ফোন করে বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যায়। অনুষ্ঠান শেষে গভীর রাতে সাদনান তাদের ফেলে চলে আসে। পরে সাফাত ও নাঈম তাদের হোটেলের দুটি কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। সেই ঘটনার ভিডিও করে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল।

Advertisement

কমেন্টস