হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ

প্রকাশঃ মার্চ ৬, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

রাজধানীর হাজারীবাগে থাকা সব ট্যানারি অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন।

পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করারও আদেশ দেন আদালত।

আগামী ৬ এপ্রিলে এ বিষয়ে অগ্রগতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদেরও নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়।

বেলার পক্ষে শুনানি করেন ফিদা এম কামাল, সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান।

এর আগে হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর না হওয়ায় পরিবেশ দূষণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বকেয়া ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা দুই সপ্তাহের মধ্যে ১৫৪ ট্যানারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধের নির্দেশ দেন।

বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

আদেশে আদালত বলেছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে জরিমানার বকেয়া টাকা জমা না দিলে ট্যানারি মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওই দিন হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি উচ্ছেদের পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ক্ষতিপূরণের বকেয়া পরিশোধ করতে ট্যানারিগুলোকে আদালত দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা টাকা জমা না দিলে কারখানা বন্ধ বা মালিকদের গ্রেফতারের জন্য আবেদন করা হবে।’

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুসারে হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর না হওয়ায় ট্যানারি মালিক ও সরকার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে ‘আদালত অবমাননা’ মামলা করেন পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ওই আবেদনে গত বছরের ১৬ জুন ১৫৪টি ট্যানারি প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশ দূষণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার এবং লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়ার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের করা আপিল আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ক্ষতিপূরণ পুননির্ধারণ করে দেন।

আপিল বিভাগ আদেশে, ক্ষতিপূরণের হিসেবে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা জমা দিতে ১৫৪টি ট্যানারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এই আদেশের পর যে ট্যানারি প্রতিষ্ঠান সাভারে স্থানান্তরিত হবে, সেই প্রতিষ্ঠানকে পরদিন থেকে আর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি আপিল বিভাগে আদেশ অনুসারে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় হচ্ছে না দাবি করে হাইকোর্টে শিল্প সচিবের বিরুদ্ধে ফের আদালতে অবমাননার আবেদন করে এইচআরপিবি। ওই আবেদনে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শিল্প সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভুইয়া হাইকোর্টে হাজির হয়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। শিল্প সচিবের প্রতিবেদনে বলা হয়, আপিল বিভাগের আদেশের পর গত আগস্ট মাসে ১৫০টি কোম্পানি ১০ হাজার টাকা করে দিলেও সেপ্টেস্বরের মাত্র চারটি এবং অক্টোবরে তিনটি কোম্পানি টাকা দিয়েছে। এই হিসেবে এ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এর পর দুই সপ্তাহের মধ্যে ট্যানারি মালিকদের ক্ষতিপূরণের বকেয়া টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত।

Advertisement

কমেন্টস