ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’

প্রকাশঃ মার্চ ২, ২০১৭

ছবি-কাজী ইমরান

ফারুক আহমাদ আরিফ-

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে তিনটি দেশের জন্ম হয়েছে। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টে পাকিস্তান ও ১৫ আগস্ট ভারতের। আবার পাকিস্তানের সাথে দীর্ঘ ২৬৬ দিন মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজ তাড়ানো থেকে শুরু করে পাকিস্তানকে পরাজিত করাসহ অসংখ্য আন্দোলনের সূতিকাগার।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সূচনাটি হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের তরুণ অধ্যাপক আবুল কাশেমের হাত ধরে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র ৩১ দিনের মাথায় ‘তমদ্দুন মজলিস’ নামের সাংস্কৃতিক সংগঠন করে ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্র-ভাষা বাংলা না উর্দু’ শীর্ষক পুস্তিকা প্রকাশ করে প্রথম ভাষা আন্দোলনের সূচনা করেন তিনি।

5-31 july

সেই ভাষা আন্দোলনের হাত ধরে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে জয়ী, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে ১৯৬৪ সালে জয়ী, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা, ১৯৬৭ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচনে বিজয়ী এবং ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে লাল সবুজের বাংলাদেশ অর্জন।

১৯৮৪ থেকে ৯০ পর্যন্ত স্বৈরাচার হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দিয়েছে। ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধীদের বিচার দাবিতেও সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইট বা ধূলিকণা যেন আন্দোলনের সাক্ষী।

কিন্তু আজকের আলোচনা দিক বিশ্ব ইতিহাসে একমাত্র শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ৪ জুন ১০ম জাতীয় সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের যাবতীয় ব্যয়ভাবের ওপর প্রথমে ১০ ও চূড়ান্তভাবে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে। (যদিও ইতিপূর্বে ২০১০ সালে সাড়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করার ফলে ২৬ ও ২৭ জুলাইয়ের আন্দোলনে শিক্ষায় ভ্যাট প্রত্যাহার করেছিল।) শিক্ষায় ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদে নো ভ্যাট অন এডুকেশনের আহ্বানে রাজপথে নামিয়ে আনা হয় ছাত্র-শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, দেশ-বিদেশের বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ প্রতিটি স্তরের মানুষকে।

68 (23)

শিক্ষায় ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদে বিভিন্নস্থানে বিভিন্ন নামে গড়ে উঠে সংগঠন। আন্দোলনটি শুরু হয়েছিল স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আরিফ চৌধুরী শুভর ১৪ মে গণমাধ্যমে চিঠি প্রেরণের মাধ্যমে। ‘এই চিঠি প্রেরণ সম্পর্কে আরিফ চৌধুরী শুভ বলেন, সম্ভবত ১১ মে-২০১৫ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে একজন সরকারি কর্মচারির কাছ থেকে শিক্ষায় ভ্যাট আরোপের বিষয়টি জানতে পারি। তাঁর কাছে গিয়েছিলাম আমার এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে একটি টিউশনির ব্যাপারে কথা বলতে। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তোমার পড়ালেখার কি খোঁজখবর। বললাম- শেষ সেমিস্টার। ভদ্রলোক বললেন, তবে তুমি বেঁচে গেলে। বললাম- কীভাবে বাঁচলাম? ভদ্রলোক বললেন, বিগত বছরের ঘাটতি পূরণের জন্যে সরকার উচ্চশিক্ষার উপর ভ্যাট বসাবে…। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবারে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা করি যে, শিক্ষায় ভ্যাট বসানো হবে। তখন আমাদের পরীক্ষা চলছিল। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মোটেও পাত্তা দিল না। গেলাম বাংলাদেশ সময় নামের পত্রিকা অফিসে। কথা বললাম সম্পাদকীয় বিভাগের কামাল পাশার সাথে। প্রথমে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরবর্তীতে তিনি আমাকে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে লিখতে বললেন। লিখলাম। কিন্তু সেই গণমাধ্যমে লেখাটি ছাপানোর মত সৎসাহস দেখানোর পরিবর্তে নীরবতা পালন করলেন তিনি। ব্যর্থ মনোরথে বাসায় বসে চিঠি লেখলাম গণমাধ্যমগুলোকে উল্লেখ করে।’

আমরা ৭ জুন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কথা বলে আন্দোলনটি শুরু করি বন্ধু খায়রুল ইসলাম বাশারের কাছ থেকে শোনে। আমাদের জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ (জেসিএমএস) বিভাগের সমন্বয়ক (কার্যত হেড অফ ডিপার্টমেন্ট) সজীব সরকার স্যারের সাথে কথা বলে। যাবতীয় চিন্তা-চেতনা, কর্মসূচির ব্যাপারে স্যারের বুদ্ধি-পরামর্শ, ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মিডিয়া স্টার রোবায়েত ফেরদৌস (তিনি আমাদের জেসিএমএসের উপদেষ্টা), প্রফেসর ড. আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী (ঢাবি ও স্টেট)সহ বিভিন্ন শিক্ষকদের বুদ্ধি-পরামর্শে।

ছাত্র ইউনিয়ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ১৪ জুন মধুর ক্যান্টিনে সাংবাদিক সম্মেলন করে ১৭ ও ১৮ জুন ধানমন্ডি ও বনানীতে মানববন্ধনের ঘোষণা দেয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা অধিকার আন্দোলন (বেবিশিআ) ১৭ জুন একটি মিটিং করে ডাকসুতে।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন ফারহান হাবিব ভাইকে প্রধান সমন্বয়ক করে ধানমন্ডিতে গঠিত নো ভ্যাট অন এডুকেশন। ৪ জুলাই বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সাংবাদিক সম্মেলন করে ৫ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। ৩১ জুলাই মধুর ক্যান্টিনে সাংবাদিক সম্মেলন করে ২ আগস্ট বিকেল ৩টায় শাহাবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংহতি ও সাংস্কৃতিক সমাবেশ, ৩ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর গ্রহণ, ৫ আগস্ট সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ৬ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতির বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা ও স্বারকলিপি পেশের ঘোষণায় ইউল্যাব থেকে প্রধান সমন্বয়ক ফারহান হাবিব, জাহিন, স্টেট থেকে আমি, ইস্ট ওয়েস্ট থেকে মোহাম্মদ মিঠু, ডেফোডিল থেকে আয়াজ খান, এশিয়া প্যাসিফিক থেকে আশরাফুল সাকিব, গ্রিনের হাসিব উপস্থিত ছিলেন।

৬ আগস্ট প্রেসক্লাব থেকে রিকশা দিয়ে ফেরার পথে টিএসসিতে হাকিম মাহি বলেছিল, আরিফ ভাই প্রস্তুত হোন। ফারহান হাবিবের কাছ থেকে আপনার কাছে দায়িত্ব চলে আসবে। সে জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করুন। কারণ ফারহান মানুষ সাথে ভালো আচরণ করছে না। আপনি তাঁর মত আচরণ করবেন না। সকলের কথা শুনে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিবেন। কাজ করবেন।

pic

১৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ঘোষণা করা হয়েছিল ১২ আগস্ট ঢাবির মধুর ক্যান্টিন থেকে। ১৬ আগস্ট ফারহান হাবিব, মোহাম্মদ মিঠু, তাজ, জাহিনরা আন্দোলন থেকে আপত্তিজনক ঘটনা ঘটিয়ে চলে গেলে আমাকে মুখপাত্রের দায়িত্ব দেয়া হয় ধানমন্ডির মিটিংটিতে। আমি প্রথম মিটিং করি ১৮ আগস্ট মধুর ক্যান্টিনে সেদিন ইউআইউ থেকে মাহফুজুর রহমান নাঈম, স্টামফোর্ড থেকে জ্যোতির্ময়, এডাস থেকে আরেফিনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠকরা অংশ নেন।

১৪ আগস্ট সিলেটের বাগবাড়িতে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের ১৪ আগস্টের অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে ২০ আগস্ট সাংবাদিক সম্মেলন করি মধূর ক্যান্টিনে সেদিন ইউআইউ থেকে মাহফুজুর রহমান নাঈম, স্টামফোর্ড থেকে জ্যোতির্ময়, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল থেকে জয় বণিক ও স্টেট থেকে তানভীর উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তারা ৫০ হাজার, ৩০ হাজার টাকা টিউশন ফি দিতে পারে, সরকারকে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট কেন দিবে না? তাদের আন্দোলনে আমার কোন সমর্থন নেই। কিছু ছাত্র আন্দোলনের নামে নাটক করছে।’ ১৯ আগস্ট ঢাবির সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সেখানে কর্মরত সাংবাদিকদের মেইল দিয়ে সহযোগিতা করেছেন বন্ধু মতিউর তানিমের সহযোগিতায়। সেখানকার সাংবাদিক সমিতি সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে সহযোগিতা করেছেন।  ২২ আগস্ট অর্থমন্ত্রীর সম্মান দেখিয়ে কুশপুত্তিলকা না পুড়িয়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছিলাম আমরা। সেটি রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত মিছিলটিতে স্টামফোর্ড থেকে আরিফ চৌধুরী শুভ, ইউআইইউ থেকে নাঈম, মেজবা, গণবিশ্ববিদ্যালয়ের পলাশসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ছিলেন।

11892294_1608024262781195_8946663818527576881_o

তবে ৯ সেপ্টেম্বর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পুলিশ গুলি চালালে তার প্রতিবাদে সেদিন সন্ধ্যায় ১০ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী নো ভ্যাট অন এডুকেশন সারাদেশের রাস্তাঘাট অচল করে দিয়ে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা করি ইস্ট ওয়েস্টের পাশে হাতিরঝিলের পাশে মিটিং করে সেখানে আরিফ চৌধুরী শুভ, মাহফুজুর রহমান নাঈম, জ্যোতির্ময়, অপুসহ ১৭ জন সংগঠক উপস্থিত ছিলেন। তবে তার আগে শাহবাগ থেকে বাংলা মোটর হয়ে ইস্ট ওয়েস্ট যাওয়ার পথে ব্যাংক এশিয়ার সামনে থেকে বিডিমর্নিংসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলে কর্মসূচি ঘোষণা করি। এই ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হাকিম চত্বর থেকে জাতীয় জাদুঘর পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল করি ইস্ট ওয়েস্ট পুলিশি হামলার প্রতিবাদে।

১০ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী রাস্তায় অবস্থানকালে বিকালে ধানমন্ডি ২৭ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিজস্ব বাস নিয়ে আমাদের অবস্থান ভেঙে দেয়ার প্রচেষ্টা চালায়। যদিও তারা প্রথমে বিনয়ীভাব দেখিয়ে অবস্থানের ভিতর দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে চায়। তাদের সম্মানে গাড়িটি যেতে দিলে কিছুদূর যাওয়ার পর উদ্ধত আচরণ করলে গাড়িটির গতিরোধ করে সবাইকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। ১২ সেপ্টেম্বর টিএসসির দ্বিতীয়তলায় একটি মিটিং করি। সেখানে স্টামফোর্ড থেকে আরিফ চৌধুরী শুভ, জ্যোতির্ময়, সজীব, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল জয় বণিক, গ্রিন থেকে শ্যামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষায় ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদে ঢাবির শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী, শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের প্রতিবাদ না করায় ১০ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের ওয়েবসাইটটি একটি গ্রুপ হ্যাঁক করেন।

তার আগে ১০ সেপ্টেম্বর বিকালে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান আমার উপর আঘাত হানার জন্যে এবং ধানমন্ডির অবস্থানটি বাঞ্চাল করতে মধূর ক্যান্টিনে মিটিং করেন। দেশব্যাপী কর্মসূচিটিতে বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্যে ছাত্রলীগকে নির্দেশ দেন। এরই ফলশ্রুতিতে রাতে তেজগাঁও ছাত্রলীগ দিয়ে ডেফোডিলে হামলা চালিয়ে ৫ জনকে আহত করা হয়।

তা ছাড়া ১৫ জুন ঢাবির সাবেক ভিসি এম এম ফায়েজ ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদ জানান। ২৩ জুলাই আমার ফোনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ৩ আগস্ট ফেসবুক স্ট্যাটাসে ও ৫ আগস্ট সময় টেলিভিশনে ড. ফাহমিদুল হক, ১২ সেপ্টেম্বর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মো. গোলাম রহমান (বর্তমান প্রধান তথ্য কমিশনার), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি, সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, সাবেক ভিসি ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি বিভাগ অধ্যাপক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ১৫ সেপ্টেম্বর, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ড. মাহবুব উল্লাহ্, বিজনেস এডমেনিস্ট্রেশনের এসিস্টেন্ট প্রফেসর মো. সাইফ নোমান খান শিক্ষায় ভ্যাট প্রত্যাহারে কলাম লেখেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'নো ভ্যাট অন এডুকেশন'

এ ছাড়াও অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, গীতি আরা নাসরিনসহ কয়েকজন শিক্ষক ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সর্বপরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নো ভ্যাট অন এডুকেশন আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান দখল করে আছে। হয়তো আরো অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী, দোকানদারসহ বিভিন্নজন আমাদের সমর্থন দিয়েছিলেন যাদের কথা আমরা জানি না।

২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের পূর্ব পাশের দেয়ালে উপরে উল্লেখিত NO VAT ON EDUCATION লেখাটি দেখে আবেগান্বিত হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম। পরে কাজী ইমরানকে বললাম এই ছবিটি তুলতে। তখন তাঁর বন্ধু রুকনও সাথে ছিল।

তবে এই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই নয় অন্যরাও আন্দোলন করতে পারে। আর সেই আন্দোলনও হয় বিশ্বের ইতিহাসে একমাত্র শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদী আন্দোলন। মানুষ চেষ্টা করলে যেকোন পর্যায়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সুন্দর কাজ করতে পারে।

বিশ্বের ইতিহাসে একমাত্র শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নো ভ্যাট অন এডুকেশন আন্দোলনে বিভিন্নভাবে সহযোগিতার জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

লেখক: মুখপাত্র-নো ভ্যাট অন এডুকেশন
ইমেইল: [email protected]
২ মার্চ ২০১৭, ৮/ডি ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫
রাত ১১টা ৫মিনিট।

 

Advertisement

কমেন্টস