মহান মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যাতত্ত্ব

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ২৮, ২০১৬

ফারুক আহমাদ আরিফ-
বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৮ মাস ২২ দিন চূড়ান্ত যুদ্ধ করে পাকিস্তানের শোষণ, নির্যাতন, নিষ্পেশন থেকে ১৬ ডিসেম্বর জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের। লাল সবুজের পতাকায় আঁকা হয় মানুষের মুক্তির স্বপ্ন। রক্ত, প্রাণ আর ইজ্জত দিয়ে অর্জিত দেশটি ফুল দিয়ে মালা গাথার মতোই সংখ্যা দিয়েও মালাগাথা সম্ভব।

১০ সংখ্যার বীরত্বপণা: ১০ সংখ্যাটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মহানবী সা. এর ১০ জন সাহাবিকে আল্লাহ তা’আলা দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান শব্দটিতে ১০টি অক্ষর, মুক্তিযুদ্ধে তাঁর কোড নং ০৭০০০০০০০১, ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধ ১০টি অক্ষর। বাংলাদেশ শব্দটি বাংলায় লিখতে হলে ৫টি আবার ইংরেজিতে লিখতে হলে ১০টি অক্ষর Bangladesh ৫*২=১০ প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক ২টি দিন আমাদের দেশে পালিত হয়। তাঁর মধ্যে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয়।

মুক্তিযুদ্ধে মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বরসহ ইংরেজি ১০টি মাস অন্তর্ভুক্ত। তাজউদ্দীন আহমদের নামে ১০টি অক্ষর এবং ১০ এপ্রিল ভারতে ‘প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার’ গঠন করা হয়। আর ‘মুজিবনগর সরকার’ লিখতে হলেও ১০টি অক্ষর প্রয়োজন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধটি মূলত ১৯৪৮ সালের মার্চে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের স্থপতি মোহম্মদ আলী জিন্নাহর ভাষণ ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু’ এর প্রতিবাদে গড়ে উঠা বীজ এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বৃক্ষ। ১৯৫৪ সালের ৪ মে শের-এ-বাংলা একে ফজলুল হক পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে করাচি থেকে পূর্ব পাকিস্তানে ফেরার পথে কলকাতায় এক সংবর্ধনায় বলেছিলেন ‘রাজনৈতিক কারণে বাংলাকে বিভক্ত করা যেতে পারে; কিন্তু বাঙালির শিক্ষা, সংস্কৃতি আর বাঙালিত্বকে কোনো শক্তিই কোনো দিন ভাগ করতে পারবে না। দুই বাংলার বাঙালি চিরকাল বাঙালিই থাকবে’। তখন নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক (John P. Callahan) প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, “পূর্ব বাংলা স্বাধীনতা ঘোষণা করবে”। (শহীদ আসাদ-হায়দার আকবর রনো) এখানে “পূর্ব বাংলা স্বাধীনতা ঘোষণা করবে” শব্দটিতে ১৬টি অক্ষর এবং আমাদের বিজয় দিবস হচ্ছে ১৬ ডিসেম্বর।

অপরদিকে ১৯৫৭ সালের ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারিতে টাঙ্গাইলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে কাগমারী সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলেছিলেন। (ঐ) ‘আসসালামু আলাইকুম’ শব্দটিতেও ১০টি অক্ষর যা ইংরেজিতে বাংলাদেশ লেখতে এমনকি শেখ মুজিবুর রহমান লেখতে প্রয়োজন। আব্দুল হামিদ খান লেখতে হলে ৯টি অক্ষর যাকে বলা হয়ে থাকে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ। হোসেন সোহরাওর্য়াদী লেখতে হলেও ১০টি অক্ষর। তিনি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক গুরু ছিলেন। শুধু মুক্তিযুদ্ধ শব্দটিতে ৬টি ও আওয়ামী লীগ শব্দটিতে ৬টি শেখ মুজিবুর শব্দটিতে ৬টি অক্ষর। মূলত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়।

স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ। মার্চের ৬ দিন, এপ্রিলের ৩০, মের ৩১, জুনের ৩০, জুলাইয়ের ৩১, আগস্টের ৩১, সেপ্টেম্বরের ৩০, অক্টোবরের ৩১, নভেম্বরের ৩০ ও ডিসেম্বরের ১৬ দিনসহ মোট ২৬৬দিন যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে ২৬৬/১০=২৬। ২৫ মার্চ রাতে জাতির পিতা স্বাধীনতাপত্র লেখে ওয়ার্লেসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম রেডিও স্টেশনে পাঠান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ সংঘটিত হবার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী গ্রেফতারের পূর্বে ২৫ মার্চ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি ইপিআরের একটি ছোট ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। (This may be my last massage, from to-day Bangladesh is Independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you fight be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expedited form the soil of Bangladesh and final victory is achieved.) এটির বাংলা অনুবাদ ছিল ‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। বাংলাদেশের জনগণ, তোমরা যে যেখানেই আছ এবং যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শেষ পর্যন্ত দখলদার সৈন্যবাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য আমি তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছি। পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ সৈনিকটিকে বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’ স্বাধীনতার ঘোষণায় ইংরেজিতে ৬২টি শব্দ রয়েছে। এটি উল্টিয়ে লিখলে ২৬ হয়।

অপরদিকে ১৯৬২ সালে শরীফ শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে ১৯৬২ সালে ছাত্র আন্দোলন চলে। যদিও সেটি ছাত্র নয় বরং সকল রাজনৈতিকদল সেখানে অংশ নেন। কারণ তখন প্রকাশ্যে রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল এবং ১৯৬৪ সালে আন্দোলনটি বিজয় লাভ করে। বাংলা অনুবাদে ৫৪টি শব্দ রয়েছে। আর ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট পাকিস্তানের সরকার গঠন করেছিলেন। সেখানে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তরুণ শেখ মুজিবুর রহমান।
ড. ওয়াজেদ মিয়ার ভাষ্যমতে বঙ্গবন্ধুর বার্তাটি ছিল টেপকৃত। ঢাকার বলদা গার্ডেন থেকে ঐ টেপকৃত বার্তাটি সম্প্রচারের পর ইপিআর ওই বীর সদস্যটি বঙ্গবনন্ধুর বাসায় ফোনে যোগাযোগ করে পরবর্তী নির্দেশ জানতে চান। তখন বঙ্গবন্ধু গোলাম মোর্শেদের মাধ্যমে ইপিআর-এর ওই সদস্যটিকে সম্প্রচার যন্ত্রটি বলধা গার্ডেনের পুকুরে ফেলে দিয়ে তৎক্ষণাৎ উক্ত স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার কথা থেকে পাওয়া যায় ইপিআর-এর ওয়্যারলেসের মাধ্যমে ২৫ মার্চে মধ্যরাতের পর অর্থাৎ ২৬ মার্চ ৩.৩০ মিনিটের চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ সভাপতি জহুর আহমদ চৌধুরী ও সম্পাদক হান্নান সাহেবকে বার্তা পাঠানো হয়। তার জন্য তারা ব্যবস্থা করেছিলেন। (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ, ড. ওয়াজেদ মিয়া, পৃ. ৮১)। ২৭ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান সেটি আবার পাঠ করে স্বীকার করেন যে সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। বাংলাদেশ ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যাতত্ত্ব

ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালে ১০ই এপ্রিল সেখানে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান, উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এম কামরুজ্জামান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মুশতাক আহমেদসহ ৬ জনের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। ১৭ই এপ্রিল কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার এক আমবাগানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথগ্রহণ করেন। সেখানে সকাল ৯ টা থেকেই নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের আগমন শুরু হয়। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনে ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলীতে আওয়ামী লীগ ১৬০টি ও পূর্ব পাকিস্তান এ্যাসেম্বলীতে ২৮৮টি আসনে জয় লাভ করেন, ১৬০+২৮৮=৪৪৮। এই ৪৪৮/২৬=১৭ পাওয়া যায়। আর ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।

১১টি সেক্টর: মুক্তিযুদ্ধকালীণ সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানিদের হাতে গ্রেফতার হয়ে বন্দী থাকাবস্থায় সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ ২ জন রাষ্ট্রপতি ছিল তখন। তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। সৈয়দ নজরুল ইসলামে ১১টি অক্ষর, শেখ ফজিলাতুন্নেছা রেণু নামেও ১১টি অক্ষর, আর যুদ্ধটি ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়েছিল। ২৫ মার্চ রাতে গ্রেফতার হয়ে ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে দেশের ফেরার আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ১১ মাস পাকিস্তানের জেলখানায় বন্দী ছিলেন।

৩০ লাখ শহীদ: ইংরেজি ১০টি মাসের উপস্থিতি মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে। তাতে করে ৩০০০০০০/১০= ৩০০০০০ লাখ অর্থাৎ শেষের দিকের ৪টি শূন্য ফেলে দিলে ৩০ সংখ্যাটি পাওয়া যায়।

মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা: মুক্তিযোদ্ধার প্রকৃত সংখ্যা কত তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরণের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমান সময় পর্যন্ত তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। নানা সময়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বা তাদের বাদ দিয়ে ভুয়া ব্যক্তিরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সত্যিকার অর্থেই যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তারা নিজেদের বিবেক থেকে দেশপ্রেমের কারণে, পরিবারের সদস্যদের প্রতি নির্যাতনের প্রতিশোধসহ বিভিন্ন কারণে যুদ্ধে গিয়েছেন। দেশ স্বাধীন করেছেন। তারা কখনো নিজেদের জাহির করতে যুদ্ধে যাননি। এমনকি বিপুল সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন যারা নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করাননি অথচ দেশের জন্যে নিজের অবস্থান থেকে যুদ্ধ করেছেন। অনেকেই নানাভাবে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন। তখনকার সাড়ে ৭ কোটি বাঙালির মুষ্টিমেয় কিছু রাজাকার, আল-বদর, আস শামস ছাড়া বাকি সকল মানুষই স্বাধীন দেশের জন্যে যুদ্ধে সহায়তা করেছেন বলেই আমরা বিশ্বাস করি। এমন মানুষও হয়তো ছিল যারা পারিবারিক সমস্যার কারণে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি। কিন্তু মন পড়েছিল দেশের মানুষের মুক্তির জন্যে। স্বাধীন দেশের জন্যে তাদেরকে আমরা কীভাবে চিহ্নিত বা মূল্যায়িত করবো?

১৯৮৪ সালে সৈরশাসক এরশাদ সরকার ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টাল সেন্টারের (ইবিআরসি) তালিকা এবং ভারতে প্রাপ্ত তালিকা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নির্ধারণ করেন ১২৪০৫৮ জন। ১৯৮৮ সালে ইবিআরসি ৬৯ হাজার ৮৩৩ জন। ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ৮৬ হাজার। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৮৬৭৯০ জন মুক্তিবার্তা (সবুজ), ১৫৮৪৫২ জনের মুক্তিবার্তা (লাল) হিসেবে তালিকা করা হয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২ ১০ ৫৮১ জনকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং এ থেকে ১৯৮৮৮৯ জনের তালিকার গেজেট প্রণয়ন করা হয়। বর্তমানে গেজেট আকারে প্রকাশিত তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা প্রায় ২১৫০০০ হাজার। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। হয়তো সেটিও একদিন সংখ্যা দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যাতত্ত্ব

৫২ এর ভাষা আন্দোলন: ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে ৬ জন শহীদ হয়েছিলেন। তাদের নামের সমষ্টি যোগ করলে ৪৭টি অক্ষর পাওয়া যায়। আর ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়েছিল। রফিকউদ্দীন আহমেদ, আবুল বরকত, শফিউর রহমান, আব্দুল জব্বার আব্দুস সালাম, অহিউল্লাহ।

৭৫ এর করুণ ইতিহাস: মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৯ জন, বীর প্রতীক ৪২৬ ও বীর বিক্রম ১৭৫ জনের মধ্যে ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে নৌবাহিনী ১, বিমান ১, রাইফেলস ২ ও সেনাবাহিনী ৩ জন। বীর উত্তম ৬৯ জনের মধ্যে একমাত্র কাদের সিদ্দিকী ছাড়া বাকিরা নৌ, বিমান, সেনাবাহিনীর সদস্য। বীর প্রতীকের ৪২৬ জনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ১১৯ (সাধারণ মানুষ) মুজাহিদ ৯ জনসহ ১২৮ জন ব্যতীত বাকিরা সবাই বিমান, সেনা ও নৌবাহিনীর। বীর বিক্রমের ১৭৫ জনের নৌ ১০, গণবাহিনীর ৩৪, বিমানের ১ ও সেনার ১৩০ জনসহ ৪টি খেতাবে মোট ৬৭৭ জন লোককে দেয়া হয়েছে। ৮ মাস ২২ দিন অর্থাৎ প্রায় ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ। ৬৭৭/৯=৭৫। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে শহীদ করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর সরকার শপথগ্রহণ করে এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ১৭ জন সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর বিশ্বাসঘাকতদের দ্বারা শহিদ হন। আবার ৬৭৭ কে ৭৫ দিয়ে ভাগ দিলে ফলাফল পাওয়া যায় ৯।

মুক্তিযুদ্ধে সেসব ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন, বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন তারা যুদ্ধের বিভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে চিন্তা করলে অবশ্যই তার নামের সাথে সেইসব সুন্দর কাজের সাথে মিল খোঁজে পাবেন বলেই বিশ্বাস করি। যদিও মহান মুক্তিযুদ্ধে কতগুলো যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ একটি বই প্রয়োজন। যেখানে সকল কিছুই সঠিকভাবে উল্লেখ থাকবে। সে ক্ষেত্রে ১১টি সেক্টরসহ জীবিত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বা প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে করা সম্ভব।
সংখ্যা দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধকে একদিন আরো পরিষ্কারভাবে জাতির কাছে উপস্থাপন করার প্রত্যাশায় রইলাম।
লেখক: শিক্ষার্থী স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও মুখপাত্র; নো ভ্যাট অন এডুকেশন।

২৫ ডিসেম্বর-২০১৬, দুপুর ১২টা, ৮/ডি, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫
ইমেইল: [email protected]

Advertisement

কমেন্টস