বিষমুক্ত সবজি উৎপাদিত হচ্ছে মাটিরাঙ্গায়

প্রকাশঃ মে ৩১, ২০১৮

আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি-

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব পালন সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা, থানায় যে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে সেই ঢেউ মাটিরাঙ্গাতেও লেগেছে। মাটিরাঙ্গা বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এখানে পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা খাতে বেশ উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে বিষমুক্ত সবজি উৎপান একটি বিশেষ দিক। এটি দেশের সব স্থানে অনুস্মরণীয় হতে পারে।

শিক্ষা: শিক্ষাখাতে অত্র উপজেলায় দৃশ্যমান বিদ্যমান অনেক ভবনসহ অভূতপূর্ব উন্নয় হয়েছে। কতগুলো ভবন হয়েছে? আর্থিক টাকার পরিমাণ কত জানতে চেয়ে বিডিমর্নিং এর প্রশ্নের জবাবে মাটিরাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহতাছিম বিল্লাহ্ জানান, প্রতিটা উপজেলাতে একজন শিক্ষা প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার থাকা বাধ্যতামূলক হলেও এখন পর্যন্ত মাটিরাঙ্গা উপজেলায় উক্ত পদটি শূণ্য রয়েছে। তিনি বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলাতে বসবাস করেন। ওখানে থেকে মাঝেমধ্যে নিজ প্রয়োজনে বিল স্বাক্ষর করার জন্য মাটিরাঙ্গায় আসেন। তাঁকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোনে রিসিভ করেননি।

শিক্ষাখাতেরর বিভিন্ন বিষয়ে’র প্রশ্নের জবাবে মাটিরাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহতাছিম বিল্লাহ জানান, মাটিরাঙ্গা উপজেলায় শিক্ষার হার বাড়লেও বাড়েনি শিক্ষার প্রকৃত মান। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক পাশ করে আসা একজন শিক্ষার্থী যদি বেসিক শিক্ষাটা না নিয়ে আসে তাহলে আমার মাধ্যমিক শিক্ষকরা তাকে কী শেখাবেন? তাকে আবার নতুন করে তৃণমূল থেকে শিখাতে হয়। যার কারণে সে সব শিক্ষার্থী মাধ্যমিকে এসে ফলাফল খারাপ করে। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকে মানসম্মত শিক্ষা হয় মাত্র ১০% বাকী ৯০% দূর্বল শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক শিক্ষকদের ঘাড়ে তুলে দেয়া হয়। ফলে মাধ্যমিকে তারা পাশ করে বটে প্রকৃত মানসম্মত ফলাফল করতে পারে না।

মাটিরাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম বলেন, এই ফলাফল বিপর্যয়ে শুধুমাত্র শিক্ষক সমাজকে দায়ী করলে হবে না, অভিভাবক অসচেতন বলেও শিক্ষার্থীরা খারাপ রেজাল্ট করে। কারণ অভিভাবক তার সন্তানকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিয়েই তার দায়িত্ব শেষ মনে করে। কখনও তার খোঁজ খবর নেন না এবং অভিভাবক সমাবেশেও তারা উপস্থিত হন না।

শিক্ষাখাতে এসব সমস্যার সমাধান হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাম্যসংখ্যক শিক্ষক নাই। এই ব্যাপক শিক্ষক স্বল্পতার জন্য আমাদের শিক্ষকদের পাঠদান ব্যহত হয়। অন্যদিকে ছাত্র/শিক্ষকদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। দূর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে আলাদাভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব সমাধানপূর্বক মাটিরাঙ্গাতে শিক্ষাব্যবস্থার সমাধান করা হয়ত সম্ভব।

কৃষি: মাটিরাঙ্গা উপজেলার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহাআলম মিয়া বিডিমর্নিং এর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান সরকার মাটিরাঙ্গা উপজেলাতে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। সরকারের সহায়তায় আমাদের প্রচেষ্টার ফলে এসব উন্নয়ন বাস্তবায়ন করতে আমরা সফলতা অর্জন করেছি। আমরা মাটিরাঙ্গা বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করেছি। এতে কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলে সফলতা অর্জন করতে পেরেছি। এছাড়া ভার্মিকপোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন করা হয়েছে। আমের নতুন নতুন জাতের উৎপাদন হয়েছে। সাইট্রাস জাতীয় বিভিন্ন ফল উন্নত জাতের মাল্টা এই পাহাড়ে আমরাই প্রথম উৎপাদন করি। মৌমাছি বিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান করা হয়েছে। বর্মানে ৮০টা মৌমাছির বাসা রয়েছে। রংপুরের নীল রংয়ের ধান আবিষ্কার করেছিল এক কৃষক, আমরা মাটিরাঙ্গাতে এর উৎপাদনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

কৃষিখাতে সমস্যা: মাটিরাঙ্গাতে কৃষিখাত সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পানি সেচ। পাহাড়ের চূড়ায় প্রচণ্ড পানি সংকটের কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তা ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে খরা দেখা দিলে অনেক গাছ মরে শুকিয়ে যায়। ভালো মানের, ভালো জাতের গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদানুযায়ী চারা পাওয়া যাচ্ছে না। যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত, মার্কেটিং’র সমস্যা মধ্যসত্ত্বভোগীরা মুনাফা লুটে নেয় ফলে কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।

বিএডিসি প্রকল্প গ্রহণ করার কথা থাকলেও তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত করা হয়নি।

কমেন্টস