হাজার গুণ শক্তিশালী সুপার এ্যান্টিবায়োটিক আবিস্কার

প্রকাশঃ মে ৩১, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

গত ৬০ বছর ধরে চিকিৎসকরা ভ্যানকমিসিন ব্যবহার করে আসছিলেন। কিন্তু ব্যাক্টেরিয়াও এত শক্তিশালী হয়ে পড়ে যে ভ্যানকমিসিনের দক্ষতা কমতে থাকে। দি স্ক্রিপস রিসার্চ ইনস্টিটিউট গবেষণা করে সুপার এ্যান্টিবায়োটিকের সন্ধান পায়। তারা এমন এক এ্যান্টিবায়োটিক আবিস্কার করেছেন যা প্রচলিত এ্যান্টিবায়োটিকের চেয়ে হাজার গুণ শক্তিশালী এবং তা এ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী যে কোনো যুদ্ধে তাদের প্রবলভাবে উৎসাহীত করছে। তবে এ ধরনের সুপার এ্যান্টিবায়োটিক এখনো মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হয়নি।

বিশ্বস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংক্রমণ এখনো এক বড় হুমকি হিসেবে রয়েছে যা প্রতিরোধে এধরনের সুপার এ্যান্টিবায়োটিক আশাতীত সফলতা নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

নতুন সুপার এ্যান্টিবায়োটিক গবেষণাগারে ওষুধ প্রতিরোধ করে এমন ব্যাক্টেরিয়াকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে। যা চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের কাছে বিস্ময়কর বলেই মনে হচ্ছে। মার্কিন গবেষকরা ভ্যানকমিসিন নামে এ সুপার এ্যান্টিবায়োটিকটিকে ওষুধে রুপান্তরিত করেছেন। আগামী ৫ বছরের মধ্যে এটি মানবচিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য করে তোলা যাবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

নতুন এই সুপার এ্যান্টিবায়োটিক ব্যাক্টেরিয়াকে ৩ ভাবে প্রতিরোধ করবে। পুনরায় ব্যাক্টেরিয়া শক্তিশালী হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও কম থাকবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাক্টেরিয়া সম্পর্কে সাবধান করে বলছে স্বাস্থ্য ছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নয়নে এটি বিরাট বাধার সৃষ্টি করার পাশাপাশি ওষুদের কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় চিকিৎসা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ছে। গবেষকরা এখন ব্যাক্টেরিয়া যাতে তাদের কোষ প্রাচীর থেকে আরো শক্তিশালী হয়ে উঠতে না পারে সুপার এ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করে সে প্রক্রিয়া ভেঙ্গে ফেলার চূড়ান্ত গবেষণা পর্বে রয়েছেন এবং বেশ কিছুটা সফলতাও পেয়েছেন। এধরনের সফলতা না পাওয়া গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে আরো অনেক বেশি মানুষ মারা যেত বলে বিজ্ঞানীরা আগেভাগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, মূত্রনালী ও ক্ষত সংক্রমণ সারাতে ভ্যানকমিসিন ওষুধ ব্যবহার হলেও এর সক্ষমতা কমে যায়। ফলে চিকিৎসকরা শক্তিশালী এ্যান্টিবায়োটিকের সন্ধান করছিলেন যাতে ওই ওষুধটি আরো কার্যকর করে তোলা যায়। এ্যান্টিবায়োটিক যথাযথভাবে কার্যকর হতে না পারায় ইউরোপ ও আমেরিকায় বছরে ৫০ হাজার মানুষ মারা যায়।

সূত্র: বিবিসি/ডেইলি মেইল……………..

কমেন্টস