বমি কেন হবে…?

প্রকাশঃ মে ১২, ২০১৮

আপনার শেষোক্তি থেকেই বলি। আমি সাভারে, আপনার সংকেতিত প্রতিষ্ঠানেই, আপনার অলিখিত উল্লিখিত প্রশিক্ষণেই আছি! এই ভেবে গর্বিত যে এখন পর্যন্ত আপনার মতো ষাঁড়ের অভিনীত গালগল্পের ক্লাস অসুস্থ শরীর নিয়ে অস্বস্তিকরভাবে গলধকরণ করতে হয়নি! কে জানে হয়তো বমি পেলেও পেতে পারতো।

বমি হলেও অসুস্থতাজনিত বলেই চালিয়ে দিতাম।না “ষাঁড়” শব্দটি বানান ভুল বা অপপ্রয়োগ জনিত ভুলেও দুষ্ট নয়।আপনার/আপনাদের সাথে ওটাই যায়!লেট মি গিভ এ চান্স টু পরিস্কার ইট।……খোঁয়াড় নিবাসি গাঢ় রঙের ষাড়গুলো গৃহস্থের সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার সাবারান্তে দৃশ্যমান মোটাতাজা আর অদৃশ্যমান শক্তির আধার হয়।যারা পোষে তাদের জন্য যথেষ্ট লাভজনক বটে। তবে…….

যখন ছুট দেয় তখন সামনের সকল কিছুর প্রতি অন্ধ আর নির্দয় হয়ে, সর্বগ্রাসীরর মতো ভয়াল বেগে হিংস্রতম প্রাণীর ন্যায় দৌড়ায় মালিকও তার নাগাল পায়না। আপনার লেখাটা পড়ার পরে আমিও ডিজ্যাবল মাংস পেশীতেই বুঝলাম, “গায়ে আগুন ধরা কাকে বলে”!

আচ্ছা স্বাধীনতা থেকে আজ পর্যন্ত বই বিক্রি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ওয়াজ শেষে প্যাকেট গ্রহন,কলামে তুলকালাম আর মাঝেমাঝে নিজেকে নিজে পাতালে ঠেলিত বাক্য রচনা ব্যাতীত আর অবদানটা কি দয়া করে বলবেন? আপনার কোন বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের ফলে এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুনাফা বা সুদ হয়েছে? কোন লেখা,কথা,বক্তৃতা বা কলামের ফলাফল হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোন স্তম্ভ শক্তিশালী হয়েছে!

বাহিরের গুন এত কেন টানে আপনাদের? মুজিব নাম দিয়ে যদি কেউ দেশের তেশ মারে তাতে আপনার আপত্তি নাই কারন বঙ্গবন্ধুর নামে নাম! কিন্তু হৃদয়ে, স্বত্বায়, চিন্তায়, কর্মে বাংলাদেশ পালনকারী (ধারনকারী নয়) মতিউর নাম শুনলেই এলাট্রল খাইতে মন চায়! লাখো কন্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে রেকর্ড করে মোচে তেল দেন খুশিতে কিন্ত কয়েক মিনিট পরেই লাখো পতাকা পাছার তলে দিয়ে বসে সবাই যখন শ্রান্তি নেয় কিংবা শহীদের রক্ত আর আমার মা বোনের ইজ্জতে রাঙা হাজারো পতাকা যখন সবাই পায়ের নিচে মলল বুকে হাত দিয়ে বলুনতো বিষয়টি আপনার হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে কি’না?

লাখো ছেলেমেয়ে তৃতীয় শ্রেনীর একটা চাকরির জন্য কুত্তার মতো ঢাকা শহরে ঘোরে,বাসের ছাদে পরীক্ষা দিতে আসে,সারারাত না খেয়ে থাকে, জ্যামের চোটে কেউকেউ পরিক্ষার হলে পৌঁছাতে পারেনা, টিউশনির টাকায় একবার ধরা খায় সরকারি চাকরির দরখাস্ত করে আবার ধরা খায় ভাড়া করে ঢাকায় এসে,দুশ্চিন্তা থাকে বাড়ি ফেরা নিয়ে।পরীক্ষা শেষে হাতের ব্যাথা সারার আগেই জেনে যায় “প্রশ্ন ইন দ্যা ভোগ অফ মা”! আফনে বিজ্ঞেনি! একটা পদ্ধতি দিতে পারলেননা প্রশ্ন ফাস রোধে? হুদাই সব পরীক্ষা শেষ হবার পর সাদাচুলগুলারে রোদে পোড়াইলেন,শহীদ মিনারে বসে!মন কাঁদেনা কখনো? এ দেশের কোটি বেকারের আর্তনাদ হৃদয় ছোঁয় না আপনার? উত্তর না,কারন ২০০ টাকার অভাবে মানুষের কাছে হাত পাতার লজ্জা কাকে বলে আপনি জানেন না, সন্তানের ১০ টাকার আবদার মিটাতে না পারার কষ্ট আপনারা বুঝবেননা।দারিদ্র্য একটি শব্দ,২৪.৮ বা ১২.৮ কেবলই গানিতিক সংখ্যা। নিজের বাল-বাচ্চাগুলোকেতো উত্তর পশ্চিমের উঁচু দেশের সরাইখানায় বড় করছেন, আপনি বুঝবেননা।

” আমি রাজাকার” লেখায় আপনি তরুনদের রাজাকার হবার গর্ব দেখলেন কিন্তু ওখানে কত যুবকের স্বপ্নের আকুতি, কত মায়ের অপলক চাওয়া,কত কৃষকের চাহনী, কত বোনের ভাইয়ের চাকরির জন্য অপেক্ষা, কত প্রেমিকার অপেক্ষা, কত বাবা-মায়ের হাত তোলা মোনাজাতের ব্যার্থ প্রতিফলন, কত হৃদয়ের রক্তক্ষরণ তা চোখে পড়ল না! না পড়ারই কথা মেঘে মেঘে বেলাতো কম হয়নি একচোখায় আরর কতোই দেখবেন।বর্তমানে প্রত্যেকটি আন্দোলনেই যে ব্যানার,ফেস্টুনগুলোতে বঙ্গবন্ধু, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি, বিভিন্ন চমকপ্রদ স্লোগান/বাক্য সাঁটা থাকে নিশ্চয়ই সেগুলোকে খুব সত্য মনে করেন! এত সহজ বিষয় আপনি বোঝেননা অথচ আপনি বিজ্ঞানের মাস্টর!!

তা না হয় নাই দেখলেন কিন্তু মশাই জিওমেট্রিক প্রোগ্রেশনে মুক্তিযোদ্ধা বাড়ছে, ভুয়া সার্টিফিকেটধারীরা শেয়ারহোল্ডারদের মতো চাকরির বাজার থেকে শুরু সকল সুযোগ সুবিধা বাটোয়ারা করে নিচ্ছে তাতে আপনার গায়ে কোন অনুভূতি হয়না? নাকি আসল হোক নকল হোক মুক্তিযোদ্ধাতো এই শান্তনায় থাকেন? অন্তর্নিহিত অর্থ উদ্ধারে ব্যার্থতা নাকি ন্যাকামো আপনাদের বলেনতো?

আমার লিখায় আপনিসহ অনেকের মনে হতে পারে আমি মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম রাজাকার শিবিরের করাচি দলের সুরা সদস্য। তবে নিজের ঢোল নিজে পেটালে বলব বিজনেস ফ্যাকাল্টির মাস্টার্স শেষ করলেও আপনাদের মত চেতনার খুচরা ব্যবসা কিংবা ধর্মের পাইকারি ব্যবসার লাভ কিভাবে করতে হয়,তা আমি বুঝিনা।জ্ঞাতার্থে বলি, জেনে রাখুন এদেশে এখনো দাড়ি-টুপি রেখে/না রেখেও, ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েও, আল্লাহ রাসুলের আদেশ কম/বেশি মেনেও, হিন্দি/ইংরেজি সিনেমা ঘৃনা করে, বিদেশি পন্য ব্যবহার থেকে সর্বোচ্চ বিরত থাকে, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে, ভালোবাসে সোনার বাংলাকে আর মরতে চায় এখানে এই শহীদের দেশে,একাত্তরের মায়ের/বোনের /বাবার পাশে।

পরিশেষে আমার ক্যাম্পাসের সমাবর্তনে একমাত্র আপনার উপস্থিতির কারণে, আপনার বয়ান শুনবোনা বলেই বাইরে ঘুরেছি আর ডিপার্টমেন্টের প্রিয় শিক্ষকের সাথে বসে কথা বলে সময় কাটিয়েছি, মঞ্চের কাছে যাইনি। কে জানে সেদিন আপনার মিথ্যাকথাগুলো শুনলে আজ হয়তো কাগজে আপনার নাম লিখে তার উপর বমি করতাম কি’না।

আফসোসঃ কি করে লিখলেন শেষের কথাটা??

পাঠকের মতামত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

কমেন্টস