একটি সেতুর অভাবে জনদুর্ভোগের অন্ত নেই

প্রকাশঃ মে ৫, ২০১৮

শেখ মো. জাকির হোসেন-

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ-খানসামা উপজেলার আত্রাই নদী’র ঝাড়বাড়ী-জয়গঞ্জ খেয়াঘাটে একটি সেতুর প্রয়োজন থাকলেও তা কেন এত দিনে হয়নি, সেটা একটা বিস্ময় বটে। একটি সেতুর অভাবে দুই উপজেলাসহ ঠাকুরগাঁও- নীলফামারী জেলার মানুষ যে কষ্ট করছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বীরগঞ্জ উপজলোর শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী চৌরাস্তা মোড় থেকে আত্রাই নদী পার হয়ে পূর্ব দক্ষিণে নীলফামারীর ১৭ কিলোমিটার এবং পশ্চিমে ঠাকুরগাঁওয়ের ২৩ কিলোমিটার এলাকা। এর মাঝে আত্রাই নদীতে সেতু না থাকায়, বর্ষা ও বৃষ্টির মৌসুমে নদীতে প্রবল স্রোত থাকে। তখন ঝুঁকি নিয়ে বিশেষত স্কুলের শিক্ষার্থী, প্রবীণ ব্যক্তি, নারী ও শিশুদের পারাপার হতে হয়। মাঝে মাঝে নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ওঠে। তখন ডুবে যাওয়ার ভয় থাকে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। ঝুঁকির পাশাপাশি নৌকা পারাপারে সময়ও লাগে অনেক। আবার রাত ১০টার পর খেয়া পারাপার বন্ধ থাকে। তাই রাতের বেলা পারাপার হতে চাইলে স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।

এই দুর্ভোগ অবসানের জন্য এলাকার লোকজন অনেক দিন ধরেই নদীতে একটি সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাঁদের সেই দাবি পূরণ হয়নি। এই যে দিনের পর দিন এভাবে চলছে, তাতে এ প্রশ্ন খুব স্বাভাবিক যে স্থানীয় প্রশাসন বলে আদৌ কিছু আছে এখানে? এলাকার সংসদ সদস্যই-বা কী করছেন? তিনি কি দেখছেন না এই এলাকার লোকজন যাতায়াত করতে গিয়ে কী কষ্টই না করছে?

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪৭ বছরে অনেক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন। তাঁরা কী করেছেন? এলাকার উন্নয়ন ও লোকজনের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তো তাঁদেরই।

আমরা আশা করব, দ্রুত এই সেতু বাস্তবায়নের ঘোষণা আসবে এবং স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে।

লেখক: আহ্বায়ক- ঝাড়বাড়ী সেতু বাস্তবায়ন কমিটি

কমেন্টস