একশতে পেলাম গোল্ডেন প্লাস

প্রকাশঃ মার্চ ৪, ২০১৮

মেহেদী হাসান উদয়।।

কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ আমেরিকার নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলেন পিএইডি করতে। তাও আবার কেমিস্টিও মতো রসকসহীন বিষয়ের উপর। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে ফাইভ হানড্রেড লেভেলের কোর্স নিয়েছিলেন, কিন্তু তার এই আত্মবিশ্বাস দুমড়ে-মুচড়ে যায়,যখন তার মিড টার্ম পরীক্ষার ফলাফল দেয়া হয়। তিনি একশতে পেয়েছেন শূণ্য আর সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়েছে ক্লাসের প্রতিবন্ধী সহপাঠী সে কিনা চোখে দেখতে পায়না।

এ ছিল হুমায়ূন স্যারের শিক্ষা জীবনের একটি ঘটনা মাত্র, এবার বলা যাক আমাদের বর্তমান শিক্ষার পরিস্থিতি নিয়ে। শিক্ষার জন্য এসো সেবার জন্য বেরিয়ে যাও স্লোগানটি বর্তমানে হারাতে বসেছে। আমার চোখে আর তেমন পরেও না আর কারো মুখে বলতেও শুনিনা। এসময়ে আমরা নাম্বর অর্জনের যে শিক্ষার প্রতিযোগীতায় নেমেছি তা আমাদের মানবিকতা,নৈতিককতা ও সাধারন জ্ঞানকে আঘাত করে ক্রমে দূরে সরে দিচ্ছে। যার ফলে আমরা সমাজের ছোট থেকে বড় সমস্যা গুলো সমাধান করতে পারছিনা হাতে বেশি নাম্বার পাওয়া কাগজ থাকার সত্তেও। আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত দৌড়াচ্ছে নামি দামি সব কোচিং সেন্টার গুলোতে, নাম ডাকওয়ালা শিক্ষকের বাড়িতে। অবিভাবকরা যেন পাহাড়া দিচ্ছে জেলারের মতো করে যেতেই হবে ঐসব প্রতিষ্ঠানে, না হলে যে গোল্ডেন প্লাস মিলবে না। প্রতিবেশিদের মুখ দেখাবে কি করে। এর সুবাদে রমরমা ব্যবসা করে চলছে সেন্টার গুলো। এদের স্লোগানে আবার গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার গ্যারান্টি থাকে। এত কিছু করেও যেন শান্তি মেলেনা অবিভাবকের। সমাজে আবার নতুন রোগ ধরেছে প্রশ্ন পত্র ফাসের রোগ। আত্মবিশ্বাসের সাথে ফাস হওয়া প্রশ্ন পেতে সাহায্য করে কিছু অবিভাবক। শিক্ষার নৈতিকতা বুঝি এত দূর গড়িয়েছে। এত দেখি একশতে একশ পাওয়ার প্রতিযোগীতা নয়, এত একশতে গোল্ডেন প্লাস।

এত সব স্বর্ণ অলংকার  অর্জন করে আমরা রাস্তায় গাড়ী উল্টো পথে চালনা করি, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলি, অযথা গাড়ীর হর্ণ বাজাই,নিজেদের মত বাস স্টোপেজ বানিয়ে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি করি,দুর্নীতি,দখল,খালভরাট,বন উজাড় করে পরিবেশের ও দেশের ক্ষতি করে নিজেদের শিক্ষিত বলে দাবি করছি। শিক্ষার কাজ সার্টেফিকেট ভারি করা নয়। শিক্ষা জাতিকে উন্নত করবে, সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাবে। মানুষের চিন্তা শক্তিতে বিকাশ ঘটাবে, জ্ঞান বিজ্ঞানের বৈপ্লব ঘটিয়ে পৃথিবীর অজানা রহস্য সামনে নিয়ে আসবে। নৈতিক অনৈতিকের মধ্যে পার্থক্য দার করিয়ে একটি আদর্শ রাষ্ট্র ও জাতি গঠনে সাহায্য করবে। নাম্বারের প্রতিযোগীতার শিক্ষা চর্চা চলতে থাকলে আমাদের বরাবরি একশতে শূণ্য পেতে হবে। আমাদের অতি শীঘ্রই এ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে একটি আদর্শ শিক্ষা নীতি গ্রহন করা উচিৎ যাতে করে অন্ধ ব্যাক্তিয় সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

মেহেদী হাসান উদয়

ছাত্র গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি  অফ বাংলাদেশ।

কমেন্টস