Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

কোটা পদ্ধতি নিজেই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের পরিপন্থী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০১৮, ০৯:২৪ PM আপডেট: ০১ মার্চ ২০১৮, ০৯:২৪ PM

bdmorning Image Preview


আকরাম হোসেন।।

কেউ স্বীকার করুক আর না করুক এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে শিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের অভাবে মধ্যবিত্ত পরিবার শিক্ষার আগ্রহ হারাতে বসেছে। শহর কেন্দ্রিক চিন্তা না করে গ্রামের দিকে লক্ষ্য করলে এ চিত্র ফুটে উঠবে। এক সময় মানুষের শিক্ষার আগ্রহ ছিলো না সেটা ভিন্ন কথা। আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ার পর আগ্রহ হারানোটা সমাজের প্রতি অন্যভাবে বার্তা বহন করে।

কর্মসংস্থানে যে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে সেটা পুরোপুরি সরকারের। এদেশে জনসংখ্যা ও শিক্ষার হার যে হারে বেড়েছে সে হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। রাষ্ট্রিয়ভাবে কর্মসংস্থা সৃষ্টিরও কোন প্রদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বলতে গেলে বেকারত্ব দূরীকরণে জন্য আজ পর্যন্ত জোড়ালো কোন প্রদক্ষেপই নেয়নি সরকার। দিন দিন বেকারত্বের হার বেড়ে চলছে। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারত্বের হার ভয়াবহ। সরকারি চাকরিতে যে কিছু কর্মসংস্থা আছে সেখানে কোটা পদ্ধতি, এ কোটা, সে কোটা করতে করতে চলে যায় ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ থেকে লভিং, দলীয় পরিচয়, বংশ পরিচয়, ঘুষের বিষয় তো আছেই। সব মিলিয়ে সরকারি চাকরিতে সাধারণ মানুষের আস্থা শূন্যের প্রায় কাছাকাছি। আর এসবের চাপে পরে বছরের পর বছর ধরে বঞ্চিত হচ্ছে যোগ্য ব্যক্তি।

নারী, সংখ্যালঘু, মুক্তিযুদ্ধের দোহায় দিয়ে সরকারি চারকিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদানের যে প্রথা চালু হয়েছে সেটা পুনরায় ভেবে দেখার সময় এসেছে। শুধু ভেবে দেখা নয় বরং সংষ্কারের সময় হয়েছে। বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি, বিসিএসসহ সকল সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে। এখানে কোটা পদ্ধতির কারণে অন্যদের যেমন বঞ্চিত করা হয়। তেমনি বঞ্চিত করা হয় বাংলাদেশকে। যোগ্য স্থানে যোগ্য লোকের পরিবর্তে অযোগ্যরা বসে থাকে। একটা সঠিক পথে হাঁটতে চাওয়া দেশের এটা কাম্য হতে পারে না যে সমতা আনার জন্য যোগ্য লোকেদের বঞ্চিত করে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য লোকেদের সুযোগ দেয়া।

প্রয়োজনে নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য অন্যান্য সুযোগ করা যেতে পারে। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের সমাজে কিছু অগ্রগতি হলেও এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে নানা ঝামেলায় পরতে হয়। অনেক সম্ভাবনাময় মেয়ে সীমাবদ্ধতার কারণে ঝড়ে পড়ছে। অনেক সময় আবার সীমাবদ্ধতার জন্য উচ্চ শিক্ষা নিতে পারে না। গ্রামের মেয়েরা এখনও ঘরের বাইরে নিরাপদ না। প্রতিদিনই প্রায় খবরের শিরোনাম হয়ে আসছে এসব ঘটনা। মেয়েদের অগ্রগতির জন্য অবশ্যয় এদিকে উদ্যোগ নিতে হবে। সঠিক শিক্ষার সুযোগ করতে হবে। শিক্ষার সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এর মানে এই নয় যে একজন মেধাবীকে বঞ্চিত করে তাদের সুযোগ দিতে হবে। সঠিকভাবে গড়ে সঠিক স্থানে নিয়োগ দিতে পারলে দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল।

অন্যদিকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদেরও অব্যহৃতি দেয়ার সময় হয়েছে। যে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা ও চাকরি প্রার্থীরা সেই কোটা পদ্ধতি নিজেই মহান স্বাধীনতার ঘো্ষণাপত্রের পরিপন্থী। কম বেশি সবারই জানা যে স্বাধীনাতার প্রধান শর্ত ছিলো ন্যায় বিচার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা। ন্যায় বিচারের  ভিত্তিতে যে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয় সেখানে বৈষম্য থাকায় রাষ্ট্র সৃষ্টিকে কলঙ্কিত করে। সামাজিক মর্যাদাকেও ক্ষুন্ন করে। এই বৈষম্য ফ্যাসিবাদকে সমর্থন করে। স্বাধীনতার আগে এদেশের সাধারণ মানুষ যেমন সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছে এই কোটা পদ্ধতি তরাই ধারক-বাহক। তখন জাতী সত্তার বিচারে মেধাবীরা বঞ্চিত হতো এখনও কোটার বিচারে মেধাবীরা বঞ্চিত হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের বাঙ্গালী জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। কিন্তু তাদের দোহায় দিয়ে বছরের পর বছর তাদের উত্তরাধিকারা অন্যদের বঞ্চিত করে সুযোগ সুবিধা নিলে ক্ষোভও সৃষ্টি হয়। আজ যে আন্দোলন হচ্ছে এটা তারাই অংশবিশেষ।

Bootstrap Image Preview