‘বাংলাই বাঙালির প্রাণ, এ ভাষা আমার শেষ নিঃশ্বাস’

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮

মো. সবুজ খান।।

কিছু তথাকথিত প্রগতিশীল আছেন, তাহাদের মুখের ভাষার প্রতি কর্ণপাত করলে দেখা যাবে অধিকাংশেরই মুখেই বাংলাটা খুব কম। আছে কিছু বিদেশি ভাষার সংমিশ্রণ। কেউ কেউ হয়তো বাংলাকে ভাষার কাতারেই গোনেন না!

আসলে দোষটা তাদের না, দোষটা অভিভাবকেরই ৯০ শতাংশ বলে মনে করি। ছেলে ইংরেজিতে পড়বে। ছেলে বিদেশ যাবে। এই বাংলা ভাষার দাম আছে নাকি! ইংলিশ মিডিয়ামে পড়তে হবে। এ ধরনের হাজারো ‘মুর্খ’ বাণী আছে আমাদের তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের অভিভাবকদের।

সেইসব অভিভাবকদের উদ্দেশ্যেই কবি আবদুল হাকিম বলেছিলেন, ‘যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।’

আশপাশে তাকালে দেখা যায়, বিদেশি ভাষার প্রতি অতিমাত্রায় আকৃষ্ট তথাকথিত প্রগশীলদের অধিকাংশই উচ্চবিত্ত ও শহুরে। তাদের সাইকোলজি কি বা তাদের বিষয়ে কোন সমালোচনা করব না, এটা হয়তো পরিবর্তনশীল পৃথিবীরই একটা সামান্য ঘটনা মাত্র!

তবে আমাদের সরকারের কিছু কিছু কাজ অতিমাত্রায় ঘৃণিত! বিশেষ করে ভাষার মাস এলেই চারপাশের মিডিয়ায় দেখা যায়, অমুক জেলার এত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নেই শহীদ মিনার। আসলেই প্রত্যেক জেলার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নেই শহীদ মিনার।

অন্যদিকে আমরা শহরের দিকে তাকাই, সেখানে প্রায় প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই আছে শহীদ মিনার। অন্তত গ্রামের তুলনায় বেশি।

কিন্তু বাংলা ভাষা চর্চার দিক দিয়ে আমাদের গ্রামের সেই চাষা, খেটে খাওয়া মানুষই এগিয়ে বলে আমি মনে করি। তাদের মুখে মুখে এখনো সেই পূর্বের ধারায়ই বয়ে চলেছে বাংলা। গ্রামে ২১ ফেব্রুয়ারি আসলেই শহীদ মিনারের অভাবে তারা বাঁশ বা কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে। তারপর সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।

সরকারের উচিৎ গ্রামের প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরি করা। অন্তত বাচ্চা ছেলেমেয়েরা জানতে পারবে যে, ১৯৫২ সালে এক রক্তাক্ত অধ্যায় পার করে আমরা এই ভাষা ছিনিয়ে এনেছি কিছু হায়েনার কাছ থেকে।

বাংলা ভাষা আমার ভাইয়ের রক্ত দিয়ে কেনা। এ ভাষা আমার মায়ের মুখের ভাষা। এ ভাষার সাথে গেথে আছে বাঙালির প্রাণ। এ ভাষার সাথে গেথে আছে বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য। বাংলারই বাঙালির প্রাণ, এ ভাষা আমার শেষ নিঃশ্বাস।

কমেন্টস