Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

‘রাষ্ট্র ও পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা সমস্যা’ প্রবন্ধটিতে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ইঙ্গিত (পর্ব ৩)

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৮:৫৭ PM আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ০৮:৫৭ PM

bdmorning Image Preview


আরিফুল ইসলাম, ঢাবি প্রতিনিধিঃ

ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল ঘটনা, যা বাঙ্গালি জাতিকে যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করে আসছে। ভাষা আন্দোলন নিয়ে মাসব্যাপী ধারাবাহিক প্রতিবেদনের মধ্যে আজ থাকছে ৩য় পর্ব।

‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ পুস্তিকাটিতে ৩ টি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছিলো। তমদ্দুন মজলিসের পক্ষে ‘রাষ্ট্র ও পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা সমস্যা’ প্রবন্ধটি লেখেন অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেন। উক্ত নিবন্ধে তিনি ভাষা-আন্দোলনের তৎকালীন পাকিস্তানের সকল ভাষার উপর আলাপ-আলোচনা করে বাংলা ও উর্দু এই দুটি ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করা সঙ্গত বলে অভিমত প্রকাশ করেন।

তিনি অভিমত দিয়েছেন যে, ‘সমগ্র পাকিস্তানে বাংলা ভাষা-ভাষী হিন্দু-মুসলমানরাই সংখ্যায় গরিষ্ঠ। তবু আমরা পশ্চিম পাকিস্তানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষপাতী নই; কারণ তাতে পশ্চিম পাকিস্তানের জনসাধারণের স্বাভাবিক বিকাশের পথে বাঁধার সৃষ্টি হবে। সুতরাং পশ্চিম পাকিস্তানে উর্দু এবং পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাই রাষ্ট্রভাষা হবে।’

উর্দুকে জোর করে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার পরিণতি সম্পর্কে অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেন সতর্ক বাণী উচ্চারণ করে বলেন, ‘বর্তমানে যদি গায়ের জোরে উর্দুকে বাঙ্গালি হিন্দু মুসলমানের উপর রাষ্ট্রভাষা রূপে চালাবার চেষ্টা হয়, তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হবে। কারণ ধূমায়িত অসন্তোষ বেশী দিন চাপা থাকতে পারে না। শীঘ্রই তাহলে পূর্ব-পশ্চিমের সম্বন্ধের অবসান হবার আশঙ্কা আছে।’

পূর্ব পাকিস্তানের সম্বন্ধের অবসান বলতে এখানে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার কথাই বলা হয়েছে। পরবর্তীতে কালের পরিক্রমায় অনিবার্যভাবেই পূর্ব-পশ্চিমের সম্বন্ধের অবসানের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিলো।

তথ্যসূত্রঃ (পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু, তমদ্দুন মজলিস, সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭)

Bootstrap Image Preview