Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

৪৬ বছরে অর্জন অনেক হলেও আচরণে পরিবর্তন হয়নি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:৩৫ PM আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৯:৫৪ PM

bdmorning Image Preview


খাইরুল ইসলাম বাশার-

৪৭ এ দ্বি-জাতি তত্বের ভিত্তিতে জন্ম নেয় ভারত ও পাকিস্তান। সেই জন্ম যে ভুল ছিল তাঁর প্রমান মিলতে বেশি অপেক্ষা করতে হয় নি। ৫২ থেকে মূলত নতুন অসাম্প্রদায়িক দেশের বীজ বপন হতে শুরু করে। আর মাত্র ২৩ বছরেই ফলাফল আসে, আর জন্ম নেয় সদ্য নতুন নবজাতক দেশ, যে সাম্প্রদায়িকতার অর্থাৎ ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হওয়াকে অস্বীকার করে ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক মর্যাদা আর সাম্য এই চেতনাকে ধারন করে।

ধর্মীয় পরিচয়ের ডিসকোর্স তখন ভুলে গিয়ে মানুষ তখন সাম্য আর মানবিক মর্যাদার ডিসকোর্সকে গুরুত্ব প্রধান্য দেয়, বাঙালি তখন স্বাধিকারের স্বপ্ন দেখে। বাঙালি বিশ্বাস করে যে পাকিস্তান তাদের জীবনের কোন পরিবর্তন আনতে পারবেনা। কারণ এই রাষ্ট্রের জন্ম ছিল ভুল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তোফায়েল আহমেদকে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছি যে, এই পাকিস্তান বাঙালীদের জন্য হয় নাই। একদিন বাঙালীর ভাগ্য-নিয়ন্তা বাঙালীদেরই হতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রথমে তোমাদের ছাত্র-সংগঠন ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছি। এই ভাবেই বাংলাদেশ নামক দেশ গড়ার চিন্তা ভাবনার করিডোরে বা চিন্তার জগতে ঠাই পায়। ১৯৭১ সালে শান্ত বাঙালি রুপ নেয় বিদ্রোহী চরিত্রের।

যার ফলে তখন শ্লোগান উঠে 'ওরা মানুষ হত্যা করছে আসুন আমরা পশু হত্যা করি'। নিরীহ বাঙালি তখন মা, মাটি আর স্বাধিকারের জন্য সব ত্যাগে প্রস্তুত আর সেই কারণে নয় মাসে আসে স্বাধীনতা।

তবে বাঙ্গালির সেই যে স্বপ্ন তা কি পূরণ হয়েছে? ৪৬ বছরে অর্জন অনেক হয়েছে। জিডিপি বেড়েছে, বেড়েছে মাথাপিছু আয়, আবার এখন অনেকেই বলতে চায় দেশ ডিজিটাল হচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি এ কথা সত্যিই আমাদের সংবিধান তার চার মূলনীতি থেকে সরে এসেছে। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার যে কথা বলা হয়েছে তা অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত।

আবার বলা হয়েছে, সমাজতন্ত্রের কথা কিন্তু আমরা ভাসছি মুক্তবাজার অর্থনীতিতে। অর্থাৎ আমদের শাসক শ্রেণী সংবিধান এর শুধু নাম বিক্রি করে তাদের প্রয়োজনে কিন্তু তার সংবিধানের কথাগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরেও আমরা নির্বাচন করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারিনি। বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখনও ঐকমত হতে পারেনা।

'দেশের জনগণের অধিকারের চেয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায় তাদের মধ্যে। রাজনৈতিক নির্যাতন, ঘুম, খুন বন্ধ হয়নি। ধনী গরিবের বৈষম্য দিন দিন প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। স্বাধীনতার সময়ে পাকিস্তানের ২২ পরিবারের বিপক্ষে লড়াই করতে হলেও বর্তমানে দেশের সাধারণ জনগণের ২২ লক্ষ পরিবারের বিপক্ষে লড়াই করছে। অর্থাৎ আমাদের অনেক অর্জন হলেও আমাদের শাসক শ্রেণীর আচরণের পরিবর্তন হয়নি।'

তাই স্বাধীনতার ৪৬ বছর পার করে আমাদের আজ প্রতিজ্ঞা করা উচিৎ যে স্বপ্ন দেখেছিল সেদিনের মুক্তিসেনারা, তাদের সেই দেখানো পথ আর স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরিতে সংবিধানের বিষয়গুলো শুধু মলাটে বন্দী না থাকে তাকে বাস্তবে রুপ দিতে হবে। তাহলেই শান্তি পাবে জাতির বীর সন্তানেরা।

Bootstrap Image Preview