‘শেখ হাসিনা’র অধীনে নির্বাচন বলেই নির্বাচনকে প্রথমেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে!

প্রকাশঃ নভেম্বর ১৬, ২০১৭

খাইরুল ইসলাম-

বেশ কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক উত্তাপ রয়েছে দেশে। শীতের আগমনের সাথে সাথে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে সারা দেশজুড়ে। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস আদালত সেখান থেকে আবার গণমাধ্যম কিংবা রাজনীতিবিদদের আলোচনায় ঠাই পাচ্ছে আসন্ন নির্বাচন।

রাজনৈতিক শক্তির লড়াইয়ে অনেকটা পিছিয়ে পড়া দল বিএনপি, সম্প্রতি এই দলের জনসভা জনমনে ইঙ্গিত তৈরি করছে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের। তবে বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি না সেই জট এখনও খুলেনি। নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন, তবে রাজনীতিবিদরা যে বক্তব্য দিচ্ছে তা শুধু সংবিধান পরিপন্থী নয় নির্বাচনকে আবার নির্বাচনের শুরুতেই প্রশবিদ্ধ করা হচ্ছে। খালেদা জিয়া তার ভাষণে বলেছে যে হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয়। তবে তার এই বক্তব্য যতটা না যুক্তিসঙ্গত তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক।

১২ নভেম্বর-২০১৭ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির জনসভায় দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনাদের যদি সত্যিকারের নেতা-কর্মী থাকে, তাহলে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। শেখ হাসিনার অধীনে তো নির্বাচন হবেই না।’ (১৩ নভেম্বর প্রথম আলো)

অন্যদিকে ১৫ নভেম্বর ইত্তেফাকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন ‘বিএনপি জানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না, নির্বাচন কমিশন (ইসি)’র অধীনে নির্বাচন হবে। তারপরও তারা ইচ্ছা করে নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।’

তবে তারা যেহেতু আন্দোলন করছে বিরোধীদল হিসেবে তারা এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে চায় না তাই এই বক্তব্য। তার এই কথা যুক্তিসঙ্গত নয়। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে বক্তব্য দিচ্ছে তাও যুক্তিসঙ্গত নয়। ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন এই নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বেশ সন্তোষজনক অনুভূতিতে নেই। তাই ২০১৮ এর নির্বাচন নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের এই খামখেয়ালী বক্তব্য অপ্রাসঙ্গিক ও অদূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে। এই বক্তব্য সংবিধান পরিপন্থী।

এ ছাড়াও যেহেতু গত নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয় নাই তাই সরকার এর উচিত এই নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করা কিন্তু তা না করে কাদের হাঁটছে উল্টো পথে। তার আচরণ এমন যেন যাই হোক তাদের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। এই ক্ষমতার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে উভয় দলের উচিত জনগণের জন্য এবং তারা যা সব সময় বলে বেড়ায় গণতন্ত্র রক্ষার জন্য তাদের সংগ্রামকে কর্মে রূপান্তরিত করা।

নির্বাচনে ইভিএম থাকবে কি থাকবে না সেনাবাহিনী থাকলে তা কিভাবে থাকবে এই বিষয়গুলো নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে তারা আলোচনার পথ মসৃণ না করে তা করছে আরও কণ্টকময়। আলোচনার জন্য আগে বিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। উন্নয়ন বা সমাধানের জন্য আলোচনার কোন বিকল্প নাই। তাই আমার বিশ্বাস আলোচনার মাধ্যমেই আগামীতে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যমূলক নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব।

কমেন্টস