‘হাজার হাজার পতিতাদের ভিড়ে আমরা ৩ জন’

প্রকাশঃ অক্টোবর ২৬, ২০১৭

‘প্রতীকী ছবি’

আমার শিক্ষক পড়াতে গিয়ে বলেছেন যে, পতিতারা সমাজের সামাজিকতাকে প্রতিনিয়ত সেলাই করে।তখন কথাটিকে তেমন গুরুত্ব আরোপ করিনি। ঢাকায় আসার পথে সড়কে তীব্র যানজট। রাজবাড়ীতে ৫ ঘণ্টায় বাস মাত্র ১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। বাসে পাশের সিটে বসা যাত্রী বলে উঠল ভাই নানী বাড়ি যাবেন। প্রথমে বুঝে উঠতে না পারলেও পরে বাসের অবস্থান ও তার চোখের ভাষা দেখে ভাবলাম তিনি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পতিতালয়ের কথা।

আমিও রাজি হয়ে গেলাম। তারপর যাত্রা পতিতালয়ে যাওয়ার জন্য। যাত্রা পথে যাওয়ার সময় আমরা তিনজন ছিলাম। সেখানে যাওয়ার জন্য ৪০ টাকা দিয়ে প্রথমে টিকেট কাটা হল। তারপর যা দেখলাম তা অন্যরকম এ যেন দেশের মধ্যে অন্য দেশ নগরের মধ্যে অন্য নগর। ভেতরে প্রবেশের পর দেখলাম সরু গলি আর তার পাশ ঘিরে রয়েছে ছোট ছোট ঘর। রাস্তায় দাড়িয়ে রয়েছে পতিতারা। আলো আর জমজমাট ছিলো চায়ের দোকানগুলো। বিভিন্ন বয়সের মানুষের আনাগোনায় ছিল মুখরিত।

তবে আমি সেই নারীদের চোখে দেখেছিলাম বাচার স্বপ্ন। তাদের কারো চোখে ছিল আনন্দের ছাপ তবে তা যেন সাময়িক। ঘুরতে ঘুরতে শুনলাম একজন বয়স্ক পতিতা বলছে আমার তো সহ্য করতে হয় আমি তো মা। সব মিলিয়ে ঐ কথাটি শুনে আমার অনুভূতির জগতে তখন শিউরে উঠল। আবার যারা এসেছে তাদের শারীরিক ক্ষুধা মেটাতে তাদের চোখে মুখে ছিল জয়ের আনন্দ।

সন্ধ্যা নামার আগেই দেখলাম আগরবাতি আর গোলাপজলের গন্ধে জায়গাটা অন্যরকম হয়ে গেল। বিভিন্ন জেলার নামে সেখানে রয়েছে অসংখ্য বোডিং যেখান থেকে ডাকা হয় আসেন, আসেন সুরে। যাইহোক সেই দিন আসলে অনুধাবন করতে পারলাম পতিতারা কিভাবে সমাজকে সেলাই করে। অসংখ্য মানুষকে যারা তাদের যৌনক্ষুধা মেটাতে পতিতাদের কাছে আসে এবং পতিতারা একটু শান্তি দিয়ে সেই মানুষগুলোকে শান্ত করে। তা না হইলে এই মানুষগুলো সমাজের জন্য হুমকি হয়ে যেতে পারে। পতিতালয় থাকবে কি থাকবে না তা ভিন্ন প্রসঙ্গ। সেই বিতর্কে এখন আমি যাব না । কেউ অর্থের জন্য, কেউ ফাঁদে পরে বা কেউ নিজের ইচ্ছায় হয়ে উঠতে পারে পতিতা। সবশেষে আমার বলতে ইচ্ছে করছে নচিকেতার গানের সাথে সুর মিলিয়ে যে মেয়েটা রোজ রাতে বদলায় হাতে হাতে তার অভিশাপ নিয়ে চলাই জীবন।

লেখক-

খাইরুল ইসলাম বাশার।

গমাধ্যম কর্মী।

[email protected]

কমেন্টস