আমার দেখা একজন দুখিনী মা

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭

ছবি প্রতীকী

খন্দকার সুরভী শারমিন-

কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা আসা-যাওয়ার পথে ফুড ভিলেজ নামের একটা রেস্টুরেন্টে বাস থামে। এখানে যারা নেমেছেন তারাই জানেন। মেয়েদের ওয়াশরুমে একজন করে নারী  থাকেন। তারা বাথরুমটা পরিষ্কার আছে কিনা দেখে দেন, হাতে টিস্যু ছিঁড়ে দেন। আমি প্রতিবার এই নারীটিকে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে বেসিনে হাত ধোয়ার পরে ১০টা অথবা ২০টা টাকা করে টিপস দেই। যেহেতু দু এক মাস পর পর  দুই একবার এই পথে যাওয়া আসা করি কাজেই আমি চেনা পরিচিত হয়ে গিয়েছি। যিনিই ডিউটিতে থাকেন, তিনিই ভাল-মন্দ জিজ্ঞেস করেন।

আমি যেমনই থাকি না কেন, ঠিকই বলি- ভালো আছি। আপনি ভালো আছেন? কখনো উত্তর পাই- ভালো আছি, কখনো উত্তর পাই- ভালো নাই, বাতের ব্যথাটা বাড়ছে। আমি টুকিটাকি সৌজন্য দেখিয়ে চলে আসি।

কি মনে হতে গতবার আসার পথে এই টুকিটাকির ফাঁকেও জিজ্ঞেস করলাম-
আপনি থাকেন কার সাথে?
এইখানে কে আছে?
বৃদ্ধা কাঁচাপাকা চুলের মা’ বললেন- কেউ নাইগো মা। ছেলের বৌ জুদা (পৃথক) কইরা দিছে।
-কেন?

এরপর জানা গেলো, শাশুড়ির খেদমত করার শক্তি তার বউয়ের নেই। শাশুড়ির বাতের ব্যথা উঠলে যে চিৎকার করে তাতে তার অসহ্য লাগে, কাশির খকখক আওয়াজও অসহ্য!

সে তার স্বামীকে জানিয়েছে আলাদা থাকবে। শাশুড়ির সাথে নয়। বাধ্য হয়ে ছেলে মাকে বলেছে- মা, এইখানে আর থাইকো না। বৌ পছন্দ করেনা! অথচ স্বামী নাই, আর কোনো ছেলেমেয়ে নাই। বৃদ্ধ মা উঠেছেন ঝুপড়ি ঘরে। কাজ করছেন রেস্ট্যুরেন্টের বাথরুমে।

আমরা কি আধুনিকতার নামে খুব আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি না?

একদিন ঘরে ঢুকে দেখবো কেউ নেই, কিন্তু আনন্দ পাবো- আমিতো আছি! এই থাকার নাম থাকা নয়, এই থাকার নাম ‘সব থেকেও কিছু না থাকা’! পৃথিবীর সবকিছু নিয়ে কম্প্রোমাইজ করা যায়, বাবা-মা নিয়ে যায় না!

ঘরের দরজা খোলার পর মায়ের মুখ দেখার যে আনন্দ, সেই আনন্দ কারোর কথায়, কারো চাওয়ায় বিকিয়ে দেওয়ার শক্তি আমার নেই! সেই শক্তি আমাদের কোনোদিন না হোক!

লেখিকা: শিক্ষার্থী উত্তরা ইউনিভার্সিটি

কমেন্টস