ডাকসু’র ২৭ বছরের বন্ধ্যাত্বের অবসান হোক!

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭

খাইরুল ইসলাম বাশার- 

ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও শেষে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে অর্থাৎ পথ প্রদর্শকের ভূমিকায় ছিল তাদের অধিকাংশের রাজনৈতিক শিক্ষার পাঠশালা ডাকসু।

ডাকসুর পূর্ণরূপ হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ। অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের অধিকার নিয়ে যে সংসদে কথা বলা হয় তার নাম ডাকসু। কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে ছাত্র সমাজ শুধু নিজেদের নিয়ে নয়, ভাবে দেশ ও মানবিকতা নিয়ে; সে অধিকার আদায় করে নেয়ার শিক্ষা ছড়িয়ে দেয় সাধারণের মধ্যে, যার ফলে মুক্তি মেলে গণমানুষের।

ডাকসুর অতীত ইতিহাস অবশ্য ঠিক তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ হয়েও সে সৃষ্টি করেছে নতুন দেশ, নতুন ইতিহাস।

আজ ২৭ বছর ধরে অচল ডাকসু, নতুন নেতৃত্ব আর জন্ম দিচ্ছে না অর্থাৎ বন্ধ্যাত্বের রোগে ভুগছে। যে আঁতুরঘর প্রতিবছর সন্তান প্রসবের যন্ত্রণায় চিৎকার করতো সেখানে ২৭ বছরে সন্তান প্রসবের যন্ত্রণায় আর চিৎকার নেই। এই দায় কে নিবে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নাকি রাজনৈতিক দলগুলো?

দেশের রাষ্ট্রপতি চায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চায়, সাধারণ ছাত্র চায় তাহলে কার ইশারায় অথবা কার মদদে এই নির্বাচন বন্ধ। শিক্ষক সমিতি, সিন্ডিকেট, ডিন, সাধারণ কর্মচারী সমিতি, নির্বাচন হয় একমাত্র ডাকসু নির্বাচন বাদ দিয়ে।

তাদের এত ভয় কেন ডাকসু নিয়ে?- ছাত্রসমাজ কারো প্রতিপক্ষ নয় তারা পথচলায় সহযোগী হিসেবে কাজ করে। ডাকসুকে একসময় ‘দ্বিতীয় সংসদ’ বলা হতো। আজ দ্বিতীয় সংসদ নির্বাক কেন? তাহলে বলতে হয় শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আধিপত্য বিস্তার এ ছেদ পড়বে এই ভাবনা থেকেই কী ডাকসুর এই অবস্থা। ছাত্রদের ন্যায্য দাবিকে অবশ্যই প্রাধান্য দিয়ে ডাকসুকে সচল করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

দেশের বুদ্ধিজীবী ও সচেতন সমাজকে ভাবতে হবে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি তৈরি করে নতুন নেতৃত্বের সৃষ্টি করবে না দলীয় লেজুড়বৃত্তি ছাত্র সংগঠনের হাতেই দেশের রাজনীতি চলবে।

২৭ বছরের বন্ধ্যাতের জট খুলে ডাকসু নতুন নেতৃত্ব জন্ম দিবে যারা জাতির জন্য আশীর্বাদ হিসেবে আবির্ভাব হবে এই প্রত্যাশায় শেষ করলাম।

কমেন্টস