বন্ধুত্ব কখনো আশীর্বাদ কখনো অভিশাপ

প্রকাশঃ আগস্ট ৭, ২০১৭

ইয়াহইয়া শহিদ-

মানুষ সামাজিক প্রাণী। সমাজ ছাড়া মানুষ থাকতে পারে না। মানবজনমের প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমরা একে অপরের মুখাপেক্ষী।  আর এ কারণেই প্রতিটি ধর্মে সমাজিক বন্ধনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে। বিশেষত ইসলাম ধর্মে সামাজিক বন্ধনকে অধিক গুরুত্বের সাথে নেয়া হয়েছে। ইসলাম মানুষকে আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি করে দেয় ঠিকই। কিন্তু তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে কালক্রমে ব্যক্তিজীবনের সব ধরনের তৎপরতাকে প্রভাবিত করে। ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানাদী সর্বস্ব ধর্ম নয়। ইসলাম কেবল স্রষ্টার সাথে মানুষের সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করে না। ইসলাম মানুষে মধ্যে সামাজিক সম্পর্ককেও শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষে মানুষে সম্পর্ক এবং সামাজিক দায়িত্ব ছাড়া ইসলাম অসম্পূর্ণ।

সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে অন্যতম অনুপম বন্ধন হচ্ছে বন্ধুত্বের বন্ধন। একজন ব্যক্তির মানষিক গঠন, চারিত্রিক গঠন, চিন্তাশক্তি, এবং আচার আচরণ বিকাশে বন্ধুত্বের গুরুত্ব স্বীকৃত।  কেবল মানষিক গঠন বা চিন্তাশক্তি গঠনের ক্ষেত্রেই নয় একজন মানুষের আধ্যাত্মিক দিক এবং নৈতিকতা উন্মেষের ক্ষেত্রেও বন্ধুত্ব বিরাট ভুমিকা রাখে। একটা সমাজের সফলতা নির্ভর করে সেই সমাজের মানুষের পরস্পরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উপর। যে সমাজের মানুষের পরস্পর বন্ধুত্বের সম্পর্ক যত দৃঢ় হবে, সে সমাজ ততই সফলতার ছোঁয়া পাবে।

যেহেতু একজন মানুষের মানষিক গঠন, চিন্তাশক্তি,  আধ্যাত্মিক উন্নতি এবং সমাজের সফলতা নির্ভর করে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উপর, তাই বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে আদেশ দিয়েছেন বিশ্বনবি সা.। নবিজী সা. বলেছেন মানুষ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর জীবনধারা ও মানষিকতার অনুসরণ করে, তাই তোমরা বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হও। আর এ কারণেই বন্ধুত্ব কোনো সময় আশীর্বাদ হয়ে আসে আর কোনো সময় অভিশাপ হয়ে আসে। যদি বন্ধুত্বের পরে মানুষ তার বন্ধুর মানষিকতার অনুসরণ করে মানষিক গঠন এবং আধ্যাত্মিক উন্নতিলাভ করতে পারে তাহলে সেই বন্ধুত্ব একজন মানুষের জন্য আশীর্বাদ সরূপ।  এবং এ বন্ধুত্ব সামাজিক  সফলতার কারণও বটে। আর যদি বন্ধুর আচরণ অনুসরণে মানুষ তার মানষিক গঠন এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করার পরিবর্তে মানষিকতা নিম্নমানের হয় এনং আধ্যাত্মিক অবনতি হয়, তাহলে সে বন্ধুত্ব তার জন্য অভিশাপ।  এবং সমাজের সফলতার পথে অন্তরায়।

আজ বিশ্ব ফ্রেন্ডশিপ ডে। বন্ধুত্বের সম্মানের জন্য একটা দিন রাখা হয়েছে।  আমরা দিবসের বিরোধিতা না করে দিবসটিকে কাজে লাগাই। বিরোধিতা করলেও ফ্রেন্ডশিপ ডে বন্ধ হবে না। তাই আমরা আমাদের মানষিক গঠন এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য এই দিনকে কাজে লাগাই। আমাদের প্রত্যেক বন্ধুকে সুস্থ মানষিকতা, নৈতিকতা এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভে উদ্বুদ্ধ করি এবং বন্ধুত্বের বন্ধনকে দৃঢ় করে সামাজিক সফলতা এবং সমাজের উন্নতির জন্য বন্ধুত্বের এ বন্ধনকে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করি।

Advertisement

কমেন্টস