ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বপ্রথম বাংলায় লেকচার দেন প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম

প্রকাশঃ আগস্ট ৪, ২০১৭

খালিদ হোসাইন-

স্বপ্ন সবাই দেখে, অনেকে দেখায়ও। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করে যেতে পারে এমন স্বপ্নপুরুষ কতজন আছে? বাংলাদেশে হাজারো ব্যক্তি আছে যারা স্মরণীয়, তাদের ত্যাগ, তিতীক্ষা, শ্রম তুলনাহীন। কিন্তু তাদের মধ্যে দু চারজন থাকে যাদের নাম রাজনৈতিক ভীড়ে হারিয়ে গেলেও ইতিহাসে নীরবে রয়ে যায়।

সাহিত্যিক, চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, অভিনয়শিল্পী সব ক্ষেত্রেই কীর্তিমানদের পদচারণায় উন্নত হয়েছে স্বীয় অঙ্গন। প্রতিকূল পরিবেশেও তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রেখে গেছেন। সুনাম দূর্নাম ছাপিয়ে মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থান নিয়েছে তারা। তবে প্রায় ক্ষেত্রে দেখা যায় স্বপ্ন পূরণে সর্বোচ্চ বাধা থাকলেও এমন স্বপ্ন অনেকেই দেখে এবং প্রায় অসম্ভব জেনেও কাজে নেমে পড়ে সেখান থেকে সফল হওয়ার উদাহরণ কিন্ত যতসামান্য নয়।

সময়টা ১৯৪৬, ঢাকা বিশ্ববিধ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে প্রথম ক্লাস তাও আবার বাংলায়। যখন সারা বিশ্ব উচ্চতর শিক্ষার জন্য হয় ফারসি অথবা ইংরেজির জয়জয়কার ঠিক সেই মূহুর্তে বাংলায় বিজ্ঞান নিয়ে লেকচার দিয়ে এক অনন্য উচ্চতায় উঠে তিনি। তিনি আর কেউ নন, মাতৃভাষায় উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্যার প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ আবুল কাশেম। প্রচলিত ইতিহাসে তাকে সেভাবে আমরা তাকে উপস্থাপিত হতে দেখি না, তবে এই মানুষটি মাতৃভাষার জন্য যা করেছেন তা হয়তো হাজারজনে মিলেও করতে পারেনি।

১৯২০ সালের ৯২০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রামের পটিয়া থানার ছেদন্দি গ্রামে তার জন্ম। ১৯৩৯ সালে “বরমা-ত্রাহি মেনকা উচ্চ বিদ্যালয়” থেকে তিনটি বিষয়ে লেটার মার্কসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। একইসাথে তিনি সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। ১৯৪১ সালে “চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে” থেকে আইএসসি পরীক্ষায় মুসলিম ছাত্রদের মধ্যে তিনি প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করেন। গুণী এ শিক্ষাবিদ পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল থেকে অনার্সসহ ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৪৪ সালে, এবং এম,এস,সি ডিগ্রী লাভ করেন ১৯৪৫ সালে। বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী ও গণিতবিদ, বোস আইন্সটাইন কণার আবিষ্কারক সত্যেন্দ্রনাথ বসুর অধীন মাস্টার্সের থিসিস করেন।

১৯৪৬ সালে তার কর্মজীবনের সূচনা ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার পদে তিনি যোগ দিয়ে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটান। কৃতি এ বাঙালি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বপ্রথম বাংলায় লেকচার দেন। ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি এখানে একই পদে কর্মরত ছিলেন।

একাধারে রাজনৈতিক অঙ্গনে, সমাজ সেবায়, সাহিত্য অঙ্গনে নিজ প্রতিভার স্বাক্ষর বজায় রাখেন কৃতি এ মুসলিম লেখক। এদেশের সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গণে একজন বিরল ব্যক্তিত্ব। তার হাত ধরেই ১৯৪৭ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন “পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ”। যে সংগঠনের মাধ্যমেই প্রথম উচ্চারিত হয় পাকিস্তানের রাস্ট্রভাষা হিসেবে বাঙলাকে স্বীকৃতিদানের দাবি। ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ এই গুণীন ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে একটি পুস্তিকায় দাবি করেন বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে। তমদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বে গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারা সৃষ্টি হয় তিনি ছিলেন সে আন্দোলনের পথিকৃৎ। এ সংগ্রাম পরিষদই ১৯৪৭ সালের শেষের দিকে এবং ১৯৪৮ সালের প্রথমদিকে ভাষা আন্দোলন সংগঠিত করে যার ফলস্বরুপ ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংঘ’ এর জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে গোলাম আজম বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে দাবি করে স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদে বাঙলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি জানান। ভাষা আন্দোলনের সূচনাপর্বে আন্দোলনের মধ্যমণি ছিলেন আবুল কাশেম। পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে অধিষ্ঠিত করার দাবির সপক্ষে ব্যাপক সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে অসামান্য অবদান রাখেন তিনি।

যুব সমাজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া সমর্থন লাভের সাফল্য ছিল অভাবনীয়। ১৯৪৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত প্রথম প্রতিবাদ সভার সভাপতি ছিলেন তিনি। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ দেশব্যাপী ধর্মঘট সংগঠনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ফলে তদানীন্তন প্রাদেশিক সরকার বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিশ্রুতিতে ১৯৪৮ সালের ১৫ মার্চ অ্যাকশন কমিটির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য হয়।
আবুল কাশেমের প্রতিষ্ঠিত বাংলা সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা তাঁর সম্পাদনায় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি চালু থাকে। তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ভাষা আন্দোলনের আদর্শ ও লক্ষ্য প্রচারে সক্রিয় ছিল।

১৯৫২ সালে আবুল হাশেমকে সভাপতি করে গঠন করে খিলাফতে রব্বানী পার্টি গঠন করা হয়। আবুল কাশেম যুক্তফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৫৪ সালে চট্টগ্রামের পটিয়া-বোয়ালখালী নির্বাচনী এলাকা থেকে পূর্ববাংলা আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

ভাষা আন্দোলনের অগ্রণী সৈনিক প্রিন্সিপ্যাল আবুল কাসেম ছিলেন বাংলা ভাষার জাগ্রত বিবেকতুল্য। ভাষা আন্দোলনের মূল চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের লক্ষে বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষা দানের জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন৷ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে তিনি প্রবল বিরোধিতার সম্মুখীন হন। শিক্ষিত বাঙালি বিদ্বান ব্যক্তিদের মধ্যেও কেউ কেউ প্রকাশ্য বিরোধিতায় নেমেছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, বাংলা মাধ্যমে লেখাপড়া করলে ছাত্র-ছাত্রীরা চাকরি ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বে। এমনকি ‘বাঙলা মৌলবি’ জন্ম হবে বলেও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাঙলা মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ দ্রুতই জনপ্রিয়তা লাভ করে। মাত্র ৩০ জন ছাত্রছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করা এ কলেজে এখন প্রায় ৩২০০০ ছাত্রছাত্রী বিবিএ, বিএসসি, বিএসএস, এমবিএ, এমএসসি, এমএ, ডিগ্রি-পাশ ও ডিগ্রি-অনার্স কোর্সে ২০টি অনুষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক কোর্স (বিজ্ঞান, বাণিজ্য, মানবিক)-এ শিক্ষা গ্রহণ করছে। প্রিন্সিপাল আবুল কালাম আজাদ ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত অবৈতনিক প্রিন্সিপাল হিসেবে নিরলস পরিশ্রম করে গেছেন। কেবল এতেই সন্তুষ্ট হয়ে থাকেননি তিনি। পদার্থবিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের অপরাপর বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পাঠোপযোগী ৪০টি পাঠ্য পুস্তক রচনা করেন বাংলায়।

এছাড়াও বাংলা একাডেমি, আর্ট কলেজ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সিটি কলেজসহ অর্ধশতাধিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন৷ তিনি প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য থাকাকালীন ১৯৫৬ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর প্রথম সর্বস্তরে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ও সরকারি ভাষা হিসেবে বাংলা চালু করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহীত হয়৷

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন ধর্মানুরাগী। ইসলামী সাহিত্য রচনায় তার ব্যাপক মনোনিবেশ লক্ষ্য করা যায়। ইসলাম ও তুলনামূলক বিজ্ঞান নিয়ে একাধিক বই লিখেন তিনি। এছাড়া একজন বহুমুখী লেখক হিসেবে প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম অর্থনীতি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ইতিহাস, সমাজসচেতনতা, পদার্থবিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের অপরাপর শাখায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠ্যবইসহ বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে প্রায় এক শত গ্রন্থ রচনা করেন। তার গ্রন্থাবলী হল (অনলাইন আর্কাইভ থেকে সংগৃহীত) ইসলাম কি দিয়েছে ও কি দিতে পারে (১৯৫২), বুঝে নামাজ পড় (১৯৬৮), ইসলামের রাষ্ট্রীয় আদর্শ (১৯৮০), ইসলামী মেনিফেস্টো (১৯৫২), একমাত্র পথ (১৯৪৯), ঘোষণা (১৯৫২), আধুনিক চিন্তাধারা (১৯৬৮), বিজ্ঞান বস্তুবাদ ও আল্লাহর অস্তিত্ব (১৯৬৮), বিবর্তনবাদ সৃষ্টিতত্ত্ব ও আল্লাহর অস্তিত্ব(১৯৬৯), বিজ্ঞান সমাজ ধর্ম (১৯৮২), কোরানিক অর্থনীতি (১৯৭১), ইসলামী রাষ্টনীতি (১৯৬৭), মুক্তি কোন পথে (১৯৫২), Islam Science & Modern Thoughts(১৯৭৫), Universal Ideology in the Light of Modern Thought, পাকিস্তানের অর্থনীতি (১৯৬৫), তৃতীয় ব্লক আন্দোলন (১৯৫২), পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা: বাংলা না উর্দু?(১৯৪৭), ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস (১৯৫২), আমাদের অতীত (১৯৫৭), বাংলা কলেজের চাকরির নিয়মাবলী (১৯৬৮), বাংলা কলেজ প্রসঙ্গে (১৯৬৮-২য় সংস্করণ), বাংলা কলেজ কি, কেন, এবং কিরুপ (১৯৬২), ঈর্ষা বনাম সাধনা (১৯৬৫), বাংলা কলেজের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ (১৯৬৪), শাসনতান্ত্রিক মূলনীতি (১৯৬৮), বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে শ্রেণীসংগ্রাম (১৯৫২), আমাদের ভাষার রুপ (১৯৬২), বাংলা প্রচলনের কয়েকটি সমস্যা (১৯৬৭), অফিস-আদালত ও শিক্ষার বাহনরুপে বাংলা প্রচলনের সমস্যা, সহজ বাংলা (১৯৭৪), একুশ দফার রুপায়ন (১৯৫৩), কৃষক ভাইয়ের জমি চাই, শ্রমিক ভাইয়ের জমি চাই, দুইটি প্রশ্ন (১৯৫৫), ভুলের পুনরাবৃত্তি (১৯৫৩), রাষ্টবিজ্ঞান (১৯৬৪), সংগঠন (১৯৫২), আধুনিক কারবার পদ্ধতি (১৯৬৬), ছাত্র আন্দোলন (১৯৫১), প্রবন্ধ মঞ্জুষা (১৯৮৯)।

তার রচিত পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে রয়েছে: উচ্চমাধ্যমিক পদার্থিকা, ১ম খণ্ড-১৯৬৪* উচ্চমাধ্যমিক পদার্থিকা, ২য় খণ্ড-১৯৬৪* উচ্চমাধ্যমিক ল্যাবরেটরী পদার্থিকা-১৯৬৪* উচ্চমাধ্যমিক রসায়ন, ১ম খণ্ড (অজৈব)-১৯৬৫* উচ্চমাধ্যমিক রসায়ন, ২য় খণ্ড (জৈব)-১৯৬৫* উচ্চমাধ্যমিক ল্যাবরেটরী রসায়ন-১৯৬৪* উচ্চমাধ্যমিক এলজেব্রা-১৯৬৪* উচ্চমাধ্যমিক ক্যালকুলাস-১৯৬৬* উচ্চমাধ্যমিক জ্যামিতি-১৯৬৪* উচ্চমাধ্যমিক ডিনামিক্স-১৯৬৮* উচ্চমাধ্যমিক ত্রিকোনমিতি-১৯৬৪* উচ্চমাধ্যমিক স্টেটিস্ক-১৯৬৭* বিজ্ঞান প্রকাশ (৭ম ও ৮ম শ্রেণীর)-১৯৪৯* বিজ্ঞান প্রকাশ (৯ম ও ১০ম শ্রেণীর)-১৯৪৯* মাধ্যমিক ত্রিকোনমিতি-১৯৬৪* ডিগ্রি পদার্থিকা-১৯৭১* সহজ পদার্থিকা, ১ম খণ্ড-১৯৭৪* সহজ পদার্থিকা, ২য় খণ্ড-১৯৭৪* সহজ রসায়ন, ১ম খণ্ড-১৯৬২* সহজ রসায়ন, ২য় খণ্ড-১৯৬২* ল্যাবরেটরী রসায়ন (৯ম ও ১০ম শ্রেণীর)-১৯৭৫* ল্যাবরেটরী পদার্থবিজ্ঞান (৯ম ও ১০ম শ্রেণীর)-১৯৭৫* ল্যাবরেটরী জীববিজ্ঞান (৯ম ও ১০ম শ্রেণীর)-১৯৭৫- Degree Physics-১৯৭০* General Properties of Matter-১৯৫৫* New Physics (1st part)-১৯৫৫, ষষ্ঠ সংস্করণ-১৯৬৬* New Physics (2nd part)-১৯৫৬, ষষ্ঠ সংস্করণ -১৯৬৬* Inter Physics Tutor part 1-১৯৫৫* Inter Physics Tutor part 2-১৯৫৫* Laboratory Physics৩য় সংস্করণ- ১৯৭০।

অসামান্য এবং অভাবনীয় অবদান রাখার জন্য প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম জাতীয় ও সামাজিক পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান রাইর্টাস গিল্ড পুরস্কার (১৯৬৪), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮২), একুশে পদক (১৯৮৭), ইসলামিক ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড (১৯৮৮), চট্টগ্রাম সমিতি পদক (১৯৮৮), বাংলা কলেজ ছাত্র মজলিশ পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৩, মরণোত্তর)। ১৯৮৯ সালে তাঁকে ঢাকায় জাতীয় সম্বর্ধনা দেয়া হয়। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভারতের খ্যাতনামা পণ্ডিত ও সাহিত্যিকগণ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে আবুল কাশেমকে জাতীয় সংবর্ধনা স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।
প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম ১৯৯১ সালের ১১ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

কমেন্টস