ইনা আপনি শান্তিতে থাকবেন-ভালো থাকবেন

প্রকাশঃ জুন ১৮, ২০১৭

মির্জা তারেকুল কাদের-

আমার বউ শামীমা নার্গিস (মিলি)। তার সবচেয়ে ঘনিষ্ট, সবচেয়ে কাছের, সবচেয়ে বিশ্বস্ত বান্ধবী ইনা (ইনা তারমিন রশিদ)। অসাধারণ এক নারী। সবাইকে মুগ্ধ করার মোহনীয় ক্ষমতা ছিল তাঁর। কর্মজীবনে ছিলেন সানিডেল স্কুলের জনপ্রিয় টিচার। সবার সঙ্গে মমতা মাখানো সম্পর্ক। ইনার প্রতি আমার ছিল গভীর শ্রদ্ধা।

হাসিমুখে কথা বলতেন খুব সুন্দর করে-গুছিয়ে। নিজের ব্যক্তিত্বকে ধরে রাখতেন সব জায়গায়-সব অনুষ্ঠানে। সেই ইনা আর নেই। চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ভাবতেই যেন কেমন লাগে। বিশ্বাস করতেও কষ্ট হয়। ক্যান্সার তাঁর জীবনটা কেড়ে নিয়েছে অসময়ে। একমাত্র মেয়ে, স্বামী-পরিবার নিয়ে কতইনা স্বপ্ন ছিল তাঁর।

যেদিন ইনার ক্যান্সারের বিষয়টা নিশ্চিত হলাম আমরা, সেদিন থেকে বান্ধবীর জন্য মিলির সেকি কান্না-প্রতিটি মুহুর্ত কাটছিল তার অস্থিরতার মধ্য দিয়ে। কারণ ইনা ছাড়া তার জীবন যেন শূন্য-হাহাকারময়। আমি আর ছেলে মিলে কতনা সান্ত্বনা দেই তাকে। কিন্তু সব বৃথা। ইনাকে নিয়ে কত কথা-কত মধুর স্মৃতি-কত গল্প তার। প্রায় প্রতিদিন তাদের মধ্যে কথা হতো-কখনো ঘণ্টা পার হয়ে যেতো। কথা যেনো ফুরাতোনা দুজনের। দুই বান্ধবীর এমন অটুট বন্ধন আমাকে বিস্মিত করতো মাঝে মাঝে। অবাক হতাম খুউব।

19224863_10207450576782023_1159223468704383251_n

স্ত্রীকে বাঁচাতে স্বামী জুনায়েদ আলমের চেষ্টার কোন ত্রুটি নেই। বাংলাদেশ পর্ব শেষ করে তাকে নেয়া হলো ব্যাংককে। খুব একটা কিছু করা গেল না। পরে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হলো নিউজিল্যান্ডে। ইনার মেয়ে তানিশাও পড়ে সেখানে। একপর্যায়ে মিলি যেতে চাইলো ওখানে। জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্টও করা হলো। কিন্তু যাওয়া আর হলো না। যেতে পারেনি-তাই বলে কথা কি আর বন্ধ থাকতে পারে? ভাইবারে শুরু হলো দুজনের অফুরান কথা, ছবির আদান প্রদান, মাঝে মধ্যে গুমরে গুমরে কান্না। আমি সব দেখতাম-সান্ত্বনা দিতাম বউকে। শুরু হলো ধর্ম বিশ্বাসী মিলির নতুন প্রয়াস। প্রতিদিন নামাজান্তে মিলি শুরু করলো বান্ধবীর জন্য পার্থনা, দোয়া-দরুদ। নির্ঘুম গভীর রাত পর্যন্ত চলতো কোরআন তেলাওয়াত। অফিসে যাওয়াও বন্ধ করে দিলো ও। প্রতিদিনই কান্না-প্রতিদিন তাঁর কথা-তাঁর গল্প। নিউজিল্যান্ড থেকে একটা কলের জন্য অস্থির সময় পার করা।

সেটা কতই না কষ্টের-কতই না বেদনার। কারণ ইনা যে তার বেস্ট ফ্রেন্ড। সেই স্কুল থেকে কলেজ-কলেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তারপর আজ পর্যন্ত দুজনে একসাথে। অবশেষে গত ১০ জুন রাতে সেহরীর সময় মেসেজ এলো “Ina just passed away”. মিলি ছুটে এলো আমার কাছে। সেকি কান্না তার- অঝর ধারায়। আমি নিজেও অশ্রুসিক্ত তখন। ৪দিন পর আসলো ইনার মরদেহ দেশের মাটিতে। বান্ধবীর নামাজে জানাজায় শরীক হলো মসজিদে গিয়ে। আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হলো তাঁকে। কিন্তু প্রিয় বান্ধবী ইনার জন্য কান্না যে আর থামে না মিলির-কবে থামবে তাও আমরা জানি না। ইনা আপনি শান্তিতে থাকবেন-ভালো থাকবেন। এই আমাদের পার্থনা।

Advertisement

কমেন্টস