আম্মা রমজান মাস!

প্রকাশঃ জুন ৩, ২০১৭

মাহফুজুর রহমান নাঈম-

রহমত, মাগফেরাত আর নাজাতের মাস। ছোটবেলা দেখতাম, আম্মা রমজানে প্রতিদিন নিজ হাতে ইফতার বানাতো। ছোলা, বুট ভাঁজি, পেঁয়াজো, বেগুনী, ঝিলাপি, সমুচা, নারিকেল মাখানো আরো কত কি! আম্মার হাতে বানানো পেঁয়াজো ছিল আমার সবচেয়ে পছন্দের। আমার দুই বোন রোজা রাখতো, আমি পারতাম না, বা কোন কারনে রাখা হত না। আর সেই সুবাদে আম্মার ইফতার বানানোর শুরু থেকে চলতো আমার খাওয়া।
যদিও সবার সাথে ইফতারের সময় সমান ভাগ আবারো নিতাম।

দেখতে দেখতে আম্মার বয়স হয়ে যাচ্ছে, আর তার সাথে আমিও। এখন আমি আল্লাহ্‌র রহমতে রমজানের সকল রোজাই রাখার চেষ্টা করি। সন্ধ্যাবেলা যখন ইফতার তৈরি করতে বসি, তখন মনে মনে ভাবি, আম্মা কি আমার জন্য পেঁয়াজো নিয়ে বসে আছে? আমার দুই বোন আজ তাদের শ্বশুর বাড়িতে, বাড়িতে মানুষজন বলতে আব্বা আর আম্মা। আমরা কেউ আজ আম্মার সাথে নেই, আর তাই আম্মাও আগের মত ইফতার বানায় না। কিন্তু যখন ইফতার করতে বসে, আম্মা ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করে, “কিরে, ইফতারে আজ কি কি আছে? বাইরের খাবার খেতে পারিস তো? তুই ছুটি নিয়ে কয়েকদিন আগে বাড়ি চলে আসিস। তোরে নিজের হাতে ইফতার বানিয়ে খাওয়াতে ইচ্ছে করছে।” কথাগুলো বলতে গিয়ে আম্মার গলা থেমে থেমে আসছিল। আর আমি মুখ চাপটে চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বললাম, “আম্মা, আমারও তোমার হাতের পেঁয়াজো খেতে খুব ইচ্ছে করছে।”

কিছুক্ষণ দুজনই চুপ! আম্মার দীর্ঘ নিঃশ্বাসের আওয়াজ শুনে বুঝতে পারছি কতোটা হাঁহাঁকার করছে সবকিছু আজ আমাদের ছাড়া। আল্লাহ্‌, তুমি এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের নেক আমলের বিনিময়ে তার আব্বা আম্মাকে মাফ করে দিও।

কমেন্টস