কি অদ্ভূত, পলাশদের দিনগুলো চলে যায়

প্রকাশঃ এপ্রিল ২৩, ২০১৭

ফারুক আহমাদ আরিফ-

আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি বেঁচে আছি না মরে গেছি। এই ভাবনার অনেক কারণও থাকে। কখনো অজান্তেই ভাবি। কখনো ভাবনায় হারিয়ে কূলে ফিরি। কখনো তলিয়ে যাই। ২২ এপ্রিল ছিল বন্ধু সাইফুল ইসলাম পলাশের জন্মদিন।

কোন ফাঁক দিয়ে সময়টি চলে গেল টেরই পাইনি।

বেকুব মানুষ আমি। কখনো বেমালুম ভুলে যাই পরম বন্ধুদের কথা। আবার অন্য কাজে জড়িয়ে পড়ি।

সাইফুল যে কিনা পলাশ নামেই পরিচিত। কিন্তু আমার কাছে বার বার আকাশ বলেই মনে হয় বা ডেকে থাকি। এর একটি কারণও অবশ্য আছে। সেটা হচ্ছে আকাশের মত বিশাল মনটি তার। তাই হয়তো রাঙা পলাশের পরিবর্তে আমার কাছে নীলিম আকাশ বলেই বেশিরভাগ সময় মনে পড়ে।

আজ পরীক্ষা দিয়ে নিচে নেমেছি তানভীরের সাথে। বাশারের সাথে কথা বলবো। কিছুক্ষণ পর বাশার জানালেন উপরে আসুন আমরা সবাই ডিপার্টমেন্টের সামনে।

গেলাম। গিয়ে দেখি বিশাল কেক। জিজ্ঞাসা করলাম কি ব্যাপার? তারা জানালেন গতকাল ছিল পলাশের জন্মদিন। সেটি পালনের জন্যেই এই আয়োজন।

পলাশকে বুকে চেপেধরে বললাম শুভ জন্মদিন বন্ধু। সেও পরিচিত হাসিটিই দিল। যার হাসিতে সব কিছু লুকিয়ে থাকে তাকে কোন কথা বলতে হয় না। এখানেও তাই হলো।

আমাদেরকে পিছন থেকে রক্ষার জন্যে যেকজন বন্ধু আছে তারমধ্যে পলাশ প্রথম সারির। তবে এদের মূল্যায়ন আমরা সব সময় করতে পারিনি, পারি না।

আমাদের ত অনেক সময় এমন হয়েছে বিপদে পড়েছি। কাউকে কিছু বলার আগেই পলাশ বুকে সেই আঘাত সহ্য করার জন্যে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের আঘাতটি নিজে হজম করেছেন হাসিমুখে। আমরা নায়কের মত হাঁটছি। অথচ সে ব্যথায় কুকড়াচ্ছে। কি অদ্ভূত পলাশদের দিনগুলো চলে যায় আমরা খোঁজও রাখি না।

সজীব স্যার, কাজী আনিছ, সাহস মোস্তাফিজ স্যার, রিফাত ও নাসরিন ম্যাম এলেন। কয়েকটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও এলেন। ভালো একটি অনুষ্ঠান হলো। কিন্তু যেসব ব্যক্তিরা আমাদের জন্যে জানপ্রাণ দিয়ে লেগে থাকে। ডাকলেই রোদ, বৃষ্টি, রাত, দিন উপেক্ষা করে বিহঙ্গের মত ছুটে আসেন সেসব লোকগুলোকে কেন ভুলে যাই বুঝি না।

এরা সরলতা হয়তবা বিষয়টি এড়িয়ে যান কিন্তু আমরা কীভাবে দায়টি অস্বীকার করি?

জানি না, কখন সম্বিত ফিরে পাবো। মাটির মত লেগে থাকা ভালোলাগা মানুষগুলোকে ধারণ করবো? জানি না, জানি না!

২৩ এপ্রিল-২০১৭, লালমাটিয়া, ঢাকা।

Advertisement

কমেন্টস