বন্ধু রুবায়েতকে মনে রেখ

প্রকাশঃ মার্চ ৮, ২০১৭

ফারুক আহমাদ আরিফ-

আমার বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে নীরবপ্রকৃতির মানুষ হচ্ছে রুবায়েত ইসলাম সৌরভ। সে কখন, কোন চিন্তায় মশগুল থাকে তা বলা বা বোঝা মুস্কিল। প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু করার একটি প্রবণতা তার মধ্যে লক্ষ্য করি।

সাধারণত চুপচাপ। প্রয়োজনের বেশি একটা কথা তার মুখ থেকে বের হয় না। কোন কাজে হাত দেয়ার আগে খানিক চিন্তা ভাবনা করে। অনেক সময় তার স্বপ্নগুলো শেয়ার করে। তবে আমি সব সময় তাকে সব মানুষের কাছে স্বপ্নের কথা বলতে বারণ করি। কারণ অাজ সৌরভের স্বপ্ন চুরি করে অন্যজন একটি কাজ করে ফেলবে তখন সে কাজটি হাত ছাড়া হয়ে যাবে। বেচারা প্লান দেয়ার জন্যে কোন ধন্যবাদই পাবে না। আর স্বপ্নচোরা সঠিকভাবে কাজটিও করতে পারবে না মাঝখান থেকে সব নষ্ট।

7

সৌরভের জন্ম ময়মনসিংহ শহরে। তবে শহরের ছেলেপেলের মত উদ্দাম আচরণ তার নেই। বিনয়ীভাব তার মধ্যে প্রচুর। সৃষ্টিশীল কাজে সে সবসময় ব্যস্ত। একের পর এক কাজ করে যাওয়াতে নেই কোন ক্লান্তি। আমাদের মধ্যে প্রযুক্তিবিষয়ক কাজকর্মে সে সবার সেরা-বস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান, সভা, নবীনবরণ, বিদায় অনুষ্ঠান, প্রতিবাদ, শিক্ষাসফর বিভিন্ন উপলক্ষে ব্যানার তৈরি করতে হবে। মাঝরাত আর শেষ রাত নেই আমরা শরণাপন্ন হই তার। ভদ্রলোক না করেন না। আমাদের ফিরিয়ে দেন না। অসুস্থ। এক সপ্তাহ যাবত বিছানার সাথে বন্ধুত্ব। কিন্তু ডিপার্টমেন্টের কাজে ব্যানার লাগবে। সৌরভ প্রস্তুত। একটি অনুষ্ঠানের ব্যানার বানাতে গিয়ে ৮২ বার তাকে পরিবর্তন করতে হয়েছে তবু রাগান্নিত হননি তিনি। হাসিমুখে বানিয়ে দিয়েছেন।

আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি শিল্পীর একটি মন ও মনন আছে তাকে সেই মোতাবেক কাজ করতে দেয়া প্রয়োজন। একটি দিকনির্দেশনা দিয়ে দিলে সে মনের মাধুরী মিশিয়ে সেই অসাধারণ সৃষ্টি উল্লাসে মেতে উঠতে পারে। তাতে করে জন্ম হয় নতুন দিগন্তের।

সৌরভকে কখনো কোথাও সামনের সারিতে আনতে পারিনি। সব সুন্দর কাজেই সে সাথে থাকবে কিন্তু কখনো নিজেকে প্রদর্শনের মনোভাব তার মধ্যে দেখিনি। আমি খুব ইচ্ছা করেই অনেক জায়গায় তাকে সামনে আনতে চায় তার কাজের পরিচয় করিয়ে দিতে তবু তাকে দেখি লজ্জাবতী গাছের মতো নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। এই গুটিয়ে রেখেই সকলের অগোচরে সহযোগিতা করে যান প্রাণ দিয়ে।

২০১৫ সালের শিক্ষায় সাড়ে ৭ শতাংশ আরোপের প্রতিবাদে আমরা যখন আন্দোলন দাড় করাচ্ছিলাম তখন ১২ জুলাই ইউআইইউ’র মানববন্ধনের সংবাদটি বন্ধু সৌরভের কাছ থেকে জানতে পারি। সেই থেকেই নাঈম, মেজবাহ ভাইয়ের সাথে পরিচয়। সেই ইউআইইউ’র ছেলেদের জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করার বিরল দৃষ্টান্ত আমরা দেখেছি।
৬ আগস্ট নো ভ্যাট অন এডুকেশনের জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে রাষ্ট্রপতির বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচির দিন পরিচয় করিয়ে দেন তার ব্র্যাকের বন্ধু রেজওয়ানের সাথে।

12003947_920802067986501_704949863838901622_n

ফিরছি সৌরভের কথায়। কখনো কোন কাজে ক্রেডিড নিতে আমরা দেখিনি সৌরভকে। অকাতরে কাজ করে যাওয়ায় যেন তার রক্তস্রোত। নো ভ্যাট অন এডুকেশনে যেসব বীরেরা জগৎবিখ্যাত হয়ে থাকবেন তার মধ্যে সৌরভ নিঃসন্দেহে একজন। তার মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম, দিকনির্দেশনা ও কৌশলী কাজ জাতির মুক্তি এনে দিয়েছে। যারা আন্দোলনটাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল তাদেরকে ঠাণ্ডা মাথায় বুঝিয়ে আন্দোলনমুখী করতে কাজ করেছেন তিনি।

ব্যক্তিগতভাবে মুখপাত্র হিসেবে আমার ওপরে যে আঘাত এসেছে সেইসব আঘাত প্রতিহত করে আন্দোলন পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন তিনি। ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন। ঝড়-তুফানে শক্তি আর সাহস যুগিয়েছেন।

আমার ক্লাসমেট হিসেবেই শুধু নন, নিজ তাগিদে রাজপথে রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন সৌরভ। শত্রুর জাল ছিড়ে ফেলে আমাদের মুক্ত করেছেন। মাকড়ার মা-বাবা তথ্য দিয়ে আমাকে কাজে অনুপ্রাণিতকারী বন্ধু সৌরভ। ৭ মার্চ সৌরভের জন্মদিন উপলক্ষে ৮ মার্চের শুভেচ্ছা বার্তায় বলতে চাই মানুষের কাজ ফুরালেই হয়তো মানুষকে ভুলে যাওয়ায় মানুষের স্বভাব। তাই বলবো হে পৃথিবী বন্ধু রোবায়েতকে মনে রেখ।

নিজকর্মে ইতিহাসে যারা অমর হয়ে থাকে, চিরজীবী হয় তাদের মধ্যে হয়তো সৌরভ তার স্থান করে নিবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। সৌরভের জন্মদিনের শুভেচ্ছা। স্বপ্নের কলিগুলো ফুল হয়ে ফুটুক সৌরবের জীবনে।

 

Advertisement

কমেন্টস