ফারুকীর ‘ডুব’, কিঞ্চিৎ ইগো এবং বাকিটা ইতিহাস

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৭

রুবায়েত ইসলাম।।

একক রাজ্যে নিজের জায়গায় রাজা যেমন কাউকে সহ্য করতে পারে না, ঠিক তেমনি রানীও পারে না রাজার পাশে রানী হিসেবে অন্য কাওকে সহ্য করতে। আমার সম্পদ মানে আমারি, যেখানে অন্য কারো অস্তিত্ব থাকতে পারবে না। এটাকে আমরা বলি নিজস্ব ইগো। বাংলায় যাকে বলা হয় ‘অহং’।

সম্প্রতি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ডুব’ (নো বেড অব রোজেস) চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ড। যেখানে বিএফডিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর তপন কুমার দাস বলেছেন, ‘ডুব নিষিদ্ধ হওয়ার দায় বিএফডিসির না, এটি বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ড তত্ত্বাবধান করে।’

অন্যদিকে ফারুকীর বক্তব্য ছিল, ‘কোনো কারণ ছাড়াই প্রথম পদক্ষেপেই চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেখানে কন্টেন্ট সেন্সর রীতি ভঙ্গ করেনি সেখানে বাকস্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপই বলা চলে।’

প্রয়াত খ্যাতিমান কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ‘ডুব’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হুমায়ুন পত্নী মেহের আফরোজ শাওন। অর্থাৎ তিনি জানতেন না চলচ্চিত্রটি হুমায়ুন আহমেদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে নেওয়া।

একটু পেছনের দিকে যাই, গত বছরের ৪ নভেম্বর ভারতের প্রভাবশালী বাংলা পত্রিকা আনন্দবাজারসহ বেশ কয়েকটি মিডিয়ার মাধ্যমে সর্বপ্রথম গল্পটি যে হুমায়ুন আহমেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সেটা সম্পর্কে জানিয়েছেন। প্রতিবেদক ইন্দ্রনীল রায়ের সেই বোমা ফাটানো বিস্তারিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘হ‌ুমায়ূন আহমেদের চরিত্রে ইরফান? কিন্তু এতো লুকোছাপা কেন?’। খবরটি নিয়ে অনেক তোলপাড় শুরু হয়েছিল। শুধু বাঁধা আসেনি হুমায়ুনপত্নী থেকে। হয়তো খবরটি তাঁর নজরে আসেনি। মিডিয়া ব্যর্থ।

হুমায়ুন আহমেদের জীবনী এবং তাঁর সৃষ্টি একটি দেশের সম্পদ। এটাকে ব্যক্তিগত ভাবার কোনো কারণ নেই। জাতীয় সম্পদের ব্যবহার করার অধিকার সকলেরই আছে। হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে ভাবার বা শিল্প সৃষ্টি করার অধিকার সবার আছে। একজন চিত্রশিল্পী যদি হুমায়ুন আহমেদের ছবি আঁকে তাহলে তো অনুমতি নিয়ে আঁকতে হবে। সেন্সর বোর্ডতো আর আটকাবে না শুধু বাঁধা আসবে ব্যক্তিগত সম্পদ ভাবার মানুষগুলোর কাছ থেকে। আর বাঁধা আসবে না যদি শিল্পী তাঁর তুলির ছোঁয়ায় সম্পদের মালিকের ছবিটি যুক্ত করে অথবা প্রাপ্ত লভ্যাংশের একটা অংশে তাকে জড়িয়ে নেয়।

শুরুর গল্পের সাথে যদি মেলানো হয় তাহলে চলচ্চিত্রটিতে নুসরাত ইমরোজ তিশাকে নেওয়াটা ছিল ফারুকীর ভুল একটা সিদ্ধান্ত। সেখানে হুমায়ুন পত্নীর আবির্ভাবটা খুব জরুরি ছিল। তাহলে হয়তো বাঁধার প্রশ্নটা অন্তত আসতো না। নিজের সম্পদ নিজেরই থাকতো। মিডিয়ার নতুন ঘটনার আবিষ্কারও হতো না।

জাতি তাই জানার অধিকার রাখে পরোক্ষ কারণটা কি এটাই নাকি লভ্যাংশ বন্টনের কোনো বিষয় আছে। এগারো কোটি টাকা খরচ করার পর কেন এই প্রশ্ন? মিডিয়ার যুগে অবশ্যই ফারুকী লুকিয়ে কাজটি করতে পারেনি।

আজ যদি হুমায়ুন আহমেদ আমজনতা হতেন তাহলে হয়তো মেহের আফরোজ শাওন এর পক্ষ থেকে কোনো বাঁধা আসতো না। আমরাও ‘ডুব’র মাঝে ডুবে যেতে পারতাম।

Advertisement

কমেন্টস