ছাত্রলীগের ‘৬৯’ বছর ও ধন্য আমার জীবন

প্রকাশঃ জানুয়ারি ৪, ২০১৭

সুজাউদ্দিন তুহিন-

বয়স বেড়েই চলছে এক এক করে। ‘৬৯’ টি বছর পার করে এলাম।এই বাংলার স্বাধীনতার ২৩ বছর পূর্বে জন্ম নিয়েছি আমি।বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের জন্য নির্বাচিত দল আওয়ামীলীগও আমার বয়সে ছোট।১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে চোখ মেলে প্রথমবারের মত পৃথিবীর আলো দেখি।দুনিয়া সেদিন থেকেই আমাকে চিনে ও জানে।

বাঙালির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক ও বাংলার স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদরে লালিত ও নিজের হাতে গড়ে ওঠার বিরল সম্মানের সৌভাগ্য পেয়েছি একমাত্র আমিই।জন্মের পরই ঝাঁপিয়ে পড়েছি মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার লড়াই ভাষা আন্দোলনে।সেই ১৯৫২ থেকে শুরু করে উল্লেখযোগ্যভাবে,৫৪তে যুক্তফ্রন্ট এর পক্ষে নির্বাচন ,৬২’র শিক্ষা আন্দোলন,৬৬র ছয় দফা দাবি আদায় আন্দোলন,৬৯এর গণঅভ্যূত্থান,৭০এর নির্বাচনসহ সব ধরনের পরিধির প্রগতিশীল আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছি আমি।

এরপর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমিই ছিলাম অংশগ্রহণকারীদের অন্যতম অগ্রসৈনিক।নৈতিক আদর্শে উজ্জীবিত ও সংগঠিত সর্বাপেক্ষা বড় শক্তি। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে বাংলা ও বাঙালির ভাষা,দেশের স্বাধীনতা আদায়ের স্বপ্ন পর্যায় থেকে লালন শুরু করে এ সম্পর্কিত সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে সমগ্রজাতিকে একত্রিত করে স্বাধীনতার উদ্দেশ্যে পরিচালনা।সঠিক দিকনির্দেশনা বাস্তবায়ন সবকিছুতেই ও প্রতিটা পরতেই শীর্ষনেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখেছি আমি। স্বাধীনতার লক্ষ্য সফল করে পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ের অধিকার রক্ষার লড়াই,জাতিগঠনে অবদান,শিক্ষা অধিকার সুনিশ্চিতকরণ থেকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের বাংলাদেশ বিনির্মাণের সব আন্দোলন-সংগ্রাম সফল করা ও সুফল প্রতিটি বাঙালির দ্বারে পৌঁছে দিতে আমি সর্বজনের অগ্রগন্য।সর্বক্ষেত্রে নেতার আসনে আমিই থাকি।

আজঅব্দি গৌরব,ঐতিহ্য,সংগ্রাম,সফলতার পাশাপাশি একটু আধটু কালিমাও আমার আছে।যে কালো আমার ঈর্ষাণীয় অর্জনের তুলনায় যদিও অতি নগন্য তবুও কিছুটা ভুল হয়েছে স্বীকার করে ও শুধরে নিতে কোন কুন্ঠাবোধ করি না। লিখতে চাইলে লেখা যাবে হাজার হাজার পাতা।দরকার নেই লেখার কারণ ইতিহাসে চোখ হাল্কা বোলালেও আমাকে পাবেনই।আমার প্রতিটি পদ ও প্রতিমূহুর্তের কার্যক্রম এই বাংলার ইতিহাসে গুরুত্ব সহকারে লিপিবদ্ধ হয়,হবে,হতেই থাকবে।এমন অনন্য,ঐশ্বর্যময় আর রাজকীয় আমার জীবন ইতিহাস।

দুনিয়া আগামী হাজার হাজার বছর সমগ্রসৃষ্টির শেষ হওয়া অব্দি আমাকে লিপিবদ্ধ করবে,রাখবে কিংবদন্তিতুল্য শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায়।আমার পথচলা কোন না কোন মাধ্যমে সদা বহমান থাকবেই। যার ইতিহাস ও পথচলার কথা এতোক্ষণ বললাম তার নাম ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’। ব্যাক্তি জীবনে আমার মহাসৌভাগ্য হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে নিজের নাম সম্পৃক্ত করার, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বা অতিনগণ্য পরিমাণে।মোটকথা একবারই মাত্র লিপিবদ্ধ হয়ে হলেও আমি পৃথিবীর শেষঅব্দি বিদ্যমান ছাত্রলীগের ইতিহাসের অংশ হতে পেরেছি। একজন সাধারণ মানুষ ও আমার মত অন্য দশজন যে অনন্ত জীবন চিন্তাই করতে পারবে না,আমার জীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বদৌলতে তা মহাসত্য। হ্যাঁ,আমি ছাত্রলীগ কর্মী। আমার মানবজন্ম স্বার্থক,ধন্য আমার জীবন। সবাইকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ‘৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’র শুভেচ্ছা।

লেখক-
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ উত্তর।
 ও
সভাপতি
ধানমণ্ডি থানা ছাত্রলীগ।

 

Advertisement

কমেন্টস