মনের অন্ধকার দূর করে মানুষ হওয়ার চেষ্টায়

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ৩১, ২০১৬

হুমায়ুন কবির ভূইয়া-
কিছুক্ষণ আগে জীবনের ৫০তম বছর পার করে ৫১ তে পা দিলাম। পরম করুনাময় আল্লাহ্‌র কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা এতদিন এই সুন্দর পৃথিবীতে থাকতে দেয়ার জন্য। প্রতিদিন সকালে ফজর নামাজের পর আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই আরেকটা সকাল দান করার জন্য। কালও তাই করব এবং যতদিন বেঁচে থাকবো করতে থাকবো।

বাবা-মা চেষ্টা করেছেন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। সেই সাথে চেষ্টা করেছেন ভাল-মন্দ শিখাতে। তারপর বড় হয়ে বাবা-মার শিক্ষা ধরে রেখে নিজে নিজেকে শুদ্ধ করার চেষ্টা করেছি। সফল হয়েছি এমন দাবি মোটেই করবো না। কারণ মাঝে মাঝে নিজের ভিতরকার অন্ধকার দেখে আমি নিজেই চমকে যাই এবং লজ্জিত হই। তারপরও, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি মনের সব অন্ধকার দূর করার জন্য। কিন্তু, ব্যাপারটা আসলেই খুব কঠিন। জানি না পারবো কিনা। তবু মৃত্যুর আগ অবধি চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

আমার ভিতর একটা ভণ্ডামি কাজ করে যা আমাকে খুবই পীড়া দেয়। আমার নিজের ভিতর প্রচুর অন্ধকার থাকা সত্ত্বেও অন্যদের চরিত্রের অন্ধকার দিকটা আমাকে ব্যথিত করে। এটা থেকেও বের হয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পারবো কিনা ভবিষ্যৎই বলতে পারবে।
তবে, একটা কথা বিনয়ের সাথে বলতে চাই। নিজের সীমাহীন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মানুষের কখনও কোন ক্ষতি করিনি বা ক্ষতি করার কথা চিন্তা করিনি, যদি পেরেছি উপকার করেছি, উপকার করতে না পারলে পাশে দাঁড়িয়ে থেকেছি, কারো দু’টাকা মেরে খাইনি এবং কাউকে কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ করিনি। সত্য কথাটা সরাসরি বলি। পারত পক্ষে, কাউকে কথা দেই না। কিন্তু, যদি দেই সেটা যেভাবেই হোক রাখি। কারোর মধ্যে এর ব্যত্যয় দেখলে মানুষ হিসেবে খুবই লজ্জিত হই।

জীবন আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমাকে যারা চেনে তাঁরা জানেন যে আমি জীবন উপভোগ করি। প্রচণ্ড প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবনকে উপভোগ করেছি। এমনও সময় পার করেছি যখন একটা সিগারেট খেয়ে জানতাম না পরেরটা কোথা থেকে আসবে। তখনও মনে হয়েছে এই জীবন খুবই মুল্যবান এবং আনন্দের। বিলাপ করে, মন খারাপ করে আল্লাহ্‌র দেয়া এই আনন্দ নষ্ট করার কোন মানে হয় না।

আমার জীবন পরিপূর্ণ সেই দাবি করবো না। তবে যা আছে তা তুচ্ছ করাও অকৃতজ্ঞতা হবে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা, লক্ষ্মী (লোকে বলে) স্ত্রী, অহংকার করার মত দুই মেয়ে-ছেলে এবং স্বার্থহীন পাঁচ ভাইবোন নিয়ে এই জীবন খুবই আনন্দের। বাকী জীবন যেন এভাবে কেটে যায় সেই প্রার্থনা করি।

নিঃসন্দেহে বলা যায় জীবনের বেশিরভাগ সময়ই পার হয়ে গেছে। নিজের এবং পরিবারের জন্য কিছু করতে পারলেও দেশের জন্য এখনও কিছু করতে পারিনি শুধুমাত্র এর পতাকাটাকে পাগলের মত ভালবাসা ছাড়া। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি সবারই সামর্থ অনুযায়ী দেশের জন্য কিছু করা। আল্লাহ্‌র রহমতে এবং সকলের দোয়ায় আমার কন্যা এবং পুত্র লেখাপড়ার একটা স্টেজে এসেছে। কন্যা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ছেলে দশম শ্রেণিতে। ওদের একটা গতি হয়ে গেলে দেশের জন্য নিজেকে পুরোপুরি নিবেদন করার ইচ্ছা আছে। বাকী আল্লাহ্‌র হাত।
জন্মদিনে সবার কাছে দোয়া চাইছি আমার মনের অন্ধকার ব্যাপারগুলো থেকে যেন আমি মুক্তি পাই এবং সত্যিকার অর্থেই একজন আলোকিত মানুষ হয়ে দেশের জন্য মনে রাখার মত কিছু করে যেতে পারি।

Advertisement

কমেন্টস