চারিত্রিক বৈশিষ্টে অনন্য প্রিয় বোনটি আমার

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬

ফারুক আহমাদ আরিফ-
শেখ মাহফুজা আক্তার। গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাঁর সাথে আমার প্রথম পরিচয় ২০১৫ সালের ২ আগস্ট শাহবাগে নো ভ্যাট অন এডুকেশন আন্দোলনের সংহতি ও সাংস্কৃতিক সমাবেশে। একই কাতারে দাঁড়িয়েছিলাম আমরা।

জাতীয় জাদুঘরের সামনে পশ্চিম দিকে প্রথমে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়া হলো। পরে আবার পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়া। এক সময় দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে শুয়ে পড়লেন। সেই সংহতি সমাবেশে মাহফুজার উপস্থিতি দেখা যায়।

তবে মাহফুজার সাথে আমার প্রথম কথা হয় ১৬ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর বাড়ির ঠিক পশ্চিম দিকে। ধানমন্ডি ৩২ এর শেষ মাথায়। ডা. নাসির উদ্দিনের বাড়ির সামনে। বাসা নাম্বার ৯। রোড নাম্বর ১১ (নতুন)।

ফারহান হাবিবরা আন্দোলন থেকে আপত্তিজনক আচরণ করে চলে গেলে সবাই মিলে আমরা এই বাসাটির সামনে এসে বসি। তখন মিটিংয়ে আমাকে মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়ার পর সেখানে সূর্য পলাশ বলেন, আরিফ ভাই আমাদের সাথে দু’জন বোনও আছেন। ভয় পাবেন না। আমরা আন্দোলন করবো। থাকবো শেষ রক্তবিন্দ থাকা পর্যন্ত। সেখানে মাহফুজার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন তিনি।

কথা বলে জানতে পারি মাহফুজার বাড়ি বৃহত্তর ময়মনসিংহের জামালপুর জেলায়। আমার বাড়ি ত্রিশাল থানা হওয়ায় কৌতুহল আরো বেড়ে যায়। বলি জামালপুরের সর্ষেবাড়িতে আমাদের খালাতো বোনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও আমি কখনাে সেখানে যায়নি।

২২ আগস্টের কর্মসূচিতে মাহফুজাসহ অনেকেই আসেন গণবিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সমাবেশ শেষে শিখা চিরন্তরের পাশে আমরা দীর্ঘক্ষণ রাত প্রায় ১০টি পর্যন্ত মিটিং করি। সেই মিটিংয়ে সূর্য পলাশের সাথে ছিলেন মাহফুজা বোানটি। সেদিন তাদের বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১টা বাজে। এমন সময় মাহফুজার বাসায় যাওয়া সম্ভব না, কারণ তার বাসা গণবিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেক দূরে গ্রামের ভিতরে। সে সেদিন তারা পলাশের বাসায় থাকে।

পলাশ ভাই জানান, আমরা দু’জন দুটি ল্যাপটপ নিয়ে সারা রাত জাগ্রত ছিলাম কোন ধরনের মন্দ চিন্তা মাথায় আসেনি। নো ভ্যাট অন এডুকেশনের বিজয়ের পর পলাশ ভাইয়ের মুখ থেকে বিষয়টি জেনে ছিলাম। তখন তাদের প্রতি খুব শ্রদ্ধা জাগ্রত হয়েছিল। আজ এমন অনন্য চরিত্রের মানুষের অভাব চারদিকে।
পলাশ ভাইকে বলেছিলাম আমি ভাবিওনি যে আপনারা এতো দূরে যাবেন। আমার বাসায় আপনাদের থাকার একটা ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। আপনাদের মতো মহৎ চরিত্রের লোকেরা আন্দোলনে জড়িত ছিল বলেই জাতি আজ মুক্তি পেয়েছে। ক্ষমা করবেন পলাশ ভাই আপনাদের বিপদে পাশে থাকতে পারলাম না।

সেই মাহফুজা অনেকগুলো মিটিংয়ে ঢাকায় পলাশ ভাইয়ের সহযোগী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জাতির কল্যাণে নিজের মেধা-বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়েছেন। আন্দোলন জোরালো করতে সার্বিকভাবে সহায়তা করেছেন।

সবচেয়ে আশ্চার্যের কথা হচ্ছে ৫ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের মানববন্ধনের সংবাদটি সর্বপ্রথম ভ্যাট আন্দোনের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রথম সংবাদ। এলামি ডটকম নামের একটি গণমাধ্যম ক্যাপশনসহ ৪টি ছবি প্রকাশ করে। সেই ছবিতে মাহফুজার উপস্থিতি রয়েছে। একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে আছে সে।

dhaka-bangladesh-5th-july-2015-dhaka-bangladesh-05th-july-students-ex2ccd

(Dhaka, Bangladesh. 5th July, 2015. DHAKA, BANGLADESH 05th July : Students of several private universities have staged a protest rally demanding withdrawal of VAT imposed on educational institutions in front of press club on 05th July 2015.In the proposed budget of 2015-16, the government imposed 10% VAT on private universities, medicals and engineering colleges for the first time in the country.Later, the VAT was reduced to 7.5% from the proposed 10% following request by the Prime Minister Sheikh Hasina. Credit: Zakir Hossain Chowdhury/ZUMA Wire/Alamy Live News)

নারীদের মধ্যে জাগরণে অংশ নিয়েছেন। জাতিকে ভ্যাটমুক্ত শিক্ষা উপহার দিতে শেষ পর্যন্ত ত্যাগ-তীতিক্ষার শিকার হয়েছেন। নো ভ্যাট অন এডুকেশন আন্দোলনটি গড়ে তুলতে যেসব নারী অবদান রেখেছেন তার মধ্যে মাহফুজার ঋণ জাতি কখনো পরিশোষ করতে পারবে না। এমনকি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রথম সংবাদটিও তিনি সর্বাগ্রে।

আজ মাহফুজার ২১তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। অনন্য চারিত্রিক বৈশিষ্টের প্রিয় বোনটির জন্যে শুভ কামনা রইল।

লেখক: মুখপাত্র; নো ভ্যাট অন এডুকেশন

 

Advertisement

কমেন্টস