বিজয় দিবস এবং আমাদের চাওয়া-পাওয়া

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ১৬, ২০১৬

আজিম আনোয়ার রাজিব-

বিজয় দিবস যেকোন জাতির জন্য সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। প্রত্যেক জাতির কাছেই তাদের নিজেদের বিজয় দিনটি আলাদা মহিমা বহন করে। জাতি হিসেবে আজ আমরা স্বাধীন। আমাদের এ প্রজন্ম আমরা সত্যিকার অর্থেই অনেকবেশি সৌভাগ্যবান যে আমাদের পরাধীন জীবনের আস্বাদন গ্রহণ করতে হয়নি। আমরা একটি স্বাধীন জাতি, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার পেয়েছি। আবার নিজেকে মাঝে মাঝে অনেক ছোট মনে হয় যে দেশের জন্য কিছুই করতে পারলাম না।

আফসোস হয় যদি দেশের স্বাধীনতায় ভূমিকা রাখতে পারতাম। যদি পারতাম জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীনের লড়াইয়ে ঝাপিয়ে পরতে। তারপরেও আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি জাতিরজনকের তনয়া দেশনেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আমি দেখেছি। আমি দেখেছি তাঁর নেতৃত্বে দেশ কীভাবে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে।

আমাদের এ প্রজন্ম আসলেই অনেকবেশি সৌভাগ্যবান। আমরা দেখেছি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর কিভাবে এদেশের স্বাধীনতাকে নানাভাবে ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ‘স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা যে আরো বেশি কঠিন ব্যাপার’ ‘৭৫ পরবর্তী সময় আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে এ সত্যি দেখিয়ে দিয়েছিল। ‘৭৫ এর নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর দেশ যেভাবে বিপথে পরিচালিত হচ্ছিল তাতে আমরা আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা হারাতে বসেছিলাম সেসব পরাজিত শক্তির দোসরদের হাতে। ভাবা যায় যে জাতি দক্ষ নেতৃত্বের দরুণ নিজেদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়ে এসেছিল সেই জাতির স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হতে বসেছিল একটি অদক্ষ অযোগ্য অথর্ব নেতৃত্বের জন্য। আমরা বাঙালি জাতি আসলেই অনেকবেশি সৌভাগ্যবান যে সঠিক সময়ে দেশনেত্রী দেশে ফিরে এসে এদেশের হাল ধরেছিলেন।

হাল ধরেছিলেন এদেশের লক্ষ কোটি ছাত্রজনতার সংগ্রামের ফসল একটি স্বাধীন দেশের প্রায় বিকিয়ে দেয়া স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায়। নেত্রী আপনি যদি সেসময় এ জাতির স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে নেতৃত্বে না আসতেন তাহলে আজ আমাদের কি করুন দশা হত, কি আর্তনাদ হাহাকার চারিদিকে থাকত তা আজ আর চিন্তা করতে চাই না। এখন সময় দেশনেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার, দেশের অগ্রযাত্রায় নিজেদের শামিল করার। সময় এখন যাদের জন্য আমাদের বহুকষ্টার্জিত স্বাধীনতা আমরা হারাতে বসেছিলাম তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার। দেশনেত্রীর দূর্বার নেতৃত্বে দেশ আজ উন্নতির মহীসোপানে। আমরা আজ আর কারও মুখাপেক্ষী নই। কারও সাহায্যের আশায় বসে থাকি না। বরং নিজেরাই নিজেদের সব ব্যবস্থা করতে পারি।

পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ তার সবচেয়ে বড় এবং উৎকৃষ্ট প্রমাণ। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এসে আমরা স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পেতে শুরু করেছি। এ এক বিরাট আস্বাদন। স্বাধীনতার পরিতৃপ্তির এ মহিমা আমরা হাজার হাজার বছর ধরে পেতে চাই। প্রিয়নেত্রী আপনি এগিয়ে যান। আপনার এ আন্দোলন সংগ্রামে আমরা সোনার বাংলার ছাত্রসমাজ সদা প্রস্তুত নিজেদের বিলিয়ে দিতে। আপনি নিজেকে কখনই একা ভাববেন না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া সোনার বাংলা বিনির্মাণে আমরা সদা জাগ্রত নির্ভীক সন্তানেরা সর্বদাই আপনার পাশে আছি এবং থাকব।

বিজয়ের এ স্বাদ আর হারিয়ে যেতে দিতে চাই না। আপনি হাজার বছর আমাদের মাঝে থাকুন। স্বাধীনতা রক্ষার এ আন্দোলন সংগ্রামে আপনি আরো এগিয়ে যান। সারা বাংলাদেশ আজ নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট। সারা বাংলা আজ আপনার সাথে। আল্লাহ্‌ আপনাকে সুস্থতাসহ দীর্ঘজীবী করুন। বিজয় দিবসে এটাই হোক সবার প্রানের চাওয়া। সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু জয়তু প্রিয়নেত্রী শেখ হাসিনা।

লেখক: সিনিয়র সহ-সভাপতি

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

কমেন্টস