দেশের সামান্যতম অসম্মান নিতে এখনও কষ্ট হয়

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮

হুমায়ুন কবির ভুইয়া-

আসলে ইচ্ছে না থাকলেও না লিখে পারা যায় না। জানি না এই সমস্যা কি শুধুই আমার? নাকি সবারই। দেশের সামান্যতম অসম্মান নিতে এখনও কষ্ট হয়।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আজ (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ছিল সফরকারী ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী, যাকে ওরা ফরেন সেক্রেটারি বলে, ও আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক।

আমাদের সাংবাদিকদেরকে রীতিমত মেইল এবং মেসেজ করে দাওয়াত দেয়া হয়েছিলো। বলা হয়েছিলো বৈঠকের শুরুতে ছবি নেয়ার সুযোগ থাকবে এবং বৈঠকের পরে থাকবে যৌথ বিবৃতি। অতি উত্তম।

কিন্তু, গিয়ে দেখলাম। আমাদের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনটা মোটামুটি ব্রিটিশরা টেক ওভার করে ফেলেছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কারা ঢুকবে, কারা ঢুকবে না, কারা কোথায় দাঁড়াবে ইত্যাদি। এমনকি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মহাপরিচালককেও দেখলাম একজন ডিক্টেট করছেন উনি কোথায় দাঁড়াবেন। পরে অবশ্য মহাপরিচালকের কাছে ঐ ব্যক্তি সরি বলেছে। আমাদের পক্ষে ছিল অন্ধের ষষ্টির মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পি আর ও। উনি অনেক কষ্টে আমাদের কয়েকজনকে আমাদেরই একটা স্থাপনার পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকানোর ব্যবস্থা করলেন। আর, ক্যামেরাম্যানরা ঢুকতে পেরেছিল। বেশীরভাগ রিপোর্টারই ভিতরে ঢুকতে পারেনি। অথচ ভেনুটা ছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন এবং সব সাংবাদিকরা ওখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাওয়াত পেয়েই গিয়েছিল।

এই ধরনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। অতীতেও অনেকবার এরকম দেখেছি।
কেন এ রকম হবে?

আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটা পুরো ইপি (এক্সটারনাল পাবলিসিটি) উইং আছে। ইপির মহাপরিচালক তো অনেক দূরের, ঐ উইং এর কাউকেই দেখলাম না। আর, থাকলেও বোধহয় ব্রিটিশদের কাছে সাইজ হয়ে গিয়ে বাড়ীতে চলে গিয়েছিল কিংবা কোন কোনায় দাঁড়িয়েছিলো।

পৃথিবীর সব দেশেই দেখি এই ধরনের অনুষ্ঠানের সব কিছু হোস্ট কান্ট্রি ঠিক করে। আর, আমাদের এখানে হয় উলটো। অথচ একটু চেষ্টা করলেই আমাদের লোকেরা নিজেরাই এগুলো মেনেজ করতে পারে কারণ এই কাজগুলো তো আর রকেট সায়েন্স না।

তাহলে করে না কেন? কেন বিদেশিদের মাতব্বরি করতে দেয়। এটা কি কাজ করার অনীহা নাকি স্মার্টনেসের অভাব নাকি মেরুদণ্ডের কোন সমস্যা? বুঝতে পারি না। সত্যিই পারি না।

লেখক: সাংবাদিক; দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট

কমেন্টস