গণমাধ্যম অনেক সময় গণমানুষের মানুষের কথা বলে না: যুগান্তর সম্পাদক

প্রকাশঃ অক্টোবর ২৩, ২০১৭

সিলেট প্রতিনিধি-

যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, বর্তমানে দেশে তিন হাজারেরও বেশি সংবাদপত্র রয়েছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পাশাপাশি এটা অনেকটা অশনি সংকেতও। কিছু কিছু গণমাধ্যম নিজেদের মধ্যে এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে, যার মাশুল প্রথমসারির পত্রিকাগুলোকে দিতে হচ্ছে। গণমাধ্যম অনেক সময় গণমানুষের মানুষের কথা বলে না। এসব ক্ষেত্রে গণমাধ্যম প্রশ্নবিদদ্ধ হয়ে পড়ে। গণমাধ্যমকে সত্যিকার অর্থে গণমানুষের মুখপাত্র হয়ে উঠতে হবে। সমৃদ্ধ মর্যাদাবান পত্রিকাই গণমাধ্যমের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা ফিরিয়ে দিতে পারে।

প্রতিষ্ঠার প্রথম থেকেই নীতির প্রশ্নে আপোষহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে দৈনিক যুগান্তর। ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রতিষ্ঠানের বলয়ের বাইরে থেকে পত্রিকাটি এগিয়ে যাচ্ছে। সত্য প্রকাশে আপোষহীনতার কারণে যুগান্তর গণমানুষের পত্রিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা একদিনে অর্জিত হয়নি।

দৈনিক যুগান্তরের সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম এসব কথা বলেন।

শনিবার দুপুরে সিলেট ব্যুরো ইনচার্জ সংগ্রাম সিংহের সভাপতিত্বে সিনিয়র রিপোর্টার মাহবুবুর রহমান রিপনের পরিচালনায় ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের মফস্বল সম্পাদক নাঈমুল কারীম নাঈম, সার্কুলেশন ম্যানেজার আবুল হাসান ও যুগান্তরের লন্ডন প্রতিনিধি গোলাম মোস্তফা ফারুক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম আরো বলেন, যুগান্তরের কর্মীদের ত্যাগ ভুলবার নয়। সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য আমাদের সৈনিক রয়েছে। তিনি বলেন, একজন সাংবাদিককে চব্বিশ ঘণ্টাই সাংবাদিকতা করতে হয়। যদিও নানা সীমাবদ্ধতা আছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুগান্তরের মফস্বল সম্পাদক নাঈমুল করীম নাঈম প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, গতানুগতিক সংবাদ না পাঠিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার উপর জোর দিতে হবে। যুগান্তর সত্যের সন্ধানে নির্ভিক, কারো রক্ত চক্ষুকে ভয় পায়না। যুগান্তরের এই পথচলা মসৃণ নয়। শত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও যুগান্তরের সাহসী সৈনিকেরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সার্কুলেশন ম্যানেজার আবুল হাসান প্রচার সংখ্যার দিকে গুরুত্বারোপ করে বলেন, বস্তুনিষ্ঠ আপোষহীন সংবাদ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে যুগান্তর পাঠকের মন জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছে। এ সময় তিনি প্রচার সংখ্যা বাড়াতে দিননির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন।

যুগান্তরের লন্ডন প্রতিনিধি গোলাম মোস্তফা ফারুক বলেন, অনুসন্ধানী সংবাদের মাধ্যমে সুদূর লন্ডনেও পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে যুগান্তর।

প্রতিনিধি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিলেট ব্যুরো অফিসের রির্পোটার আব্দুর রশিদ রেনু, আজমল খান, ফটো সাংবাদিক মামুন হাসান, শাবি প্রতিনিধি মেহেদী কবীর, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন, সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মাহবুবুর রহমান পীর, মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি হোসাইন আহমেদ, স্টাফ রির্পোটার হাবিব সরোয়ার আজাদ, চুনারুঘাট প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ, বানিয়াচং প্রতিনিধি তোফায়েল রেজা সোহেল, মাধবপুর প্রতিনিধি রোকনউদ্দিন লস্কর, শায়েস্তাগঞ্জ প্রতিনিধি কামরুজ্জামান আল রিয়াদ, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি মো. সারওয়ার শিকদার, বাহুবল প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান, দিরাই প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান লিটন, ধর্মপাশা প্রতিনিধি মো. এনামুল হক, দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি মো. তাজুল ইসলাম, জামালগঞ্জ প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান, বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি সুয়াইবুর রহমান স্বপন, ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি জুয়েল খান, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি হারিছ আলী, বালাগঞ্জ প্রতিনিধি শামীম আহমদ, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি মো. আশিক আলী, ওসমানীনগর প্রতিনিধি জুবেল আহমদ সেকেল, ছাতক প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন রনি, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি সৈয়দ সালাউদ্দিন, জুড়ী প্রতিনিধি মঞ্জুরে আলম লাল, বড়লেখা প্রতিনিধি আব্দুর রব, কমলগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক রাজা, কুলাউড়া প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম ও জগন্নাথপুর প্রতিনিধি মো. সানোয়ার হোসেন সুনু।

পরে পত্রিকার এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, আলমগীর এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ইসমাঈল হোসেন, হাফিজ উল্লাহ, আহসান উল্লাহ ও মো. আলমগীর হোসেন।

স্বজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলে, সংগঠনটির সিলেট জেলা সভাপতি সুমন রায়, সহ-সভাপতি সুবিনয় আচার্জ রাজু, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম অনি, স্বজন সোহান মিয়া ও শাওন আহমেদ।

কমেন্টস