সেক্স ড্রাইভে পারদর্শী ভয়ঙ্কর মাদক কেটামিন, উচ্চবিত্ত পরিবারের যুবক-যুবতীরাই এর ক্রেতা!

প্রকাশঃ আগস্ট ১০, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক :

দেশব্যাপী চলছে মাদকবিরোধী অভিযান। এ অভিযানে প্রচলিত সব মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর হয়েছে সরকার। কিন্তু এরই মধ্যে নীরবে অপরিচিত নতুন এক মাদক চেতনানাশক কেটামিন ওষুধ এখন ব্যবহৃত হচ্ছে নেশায়। নেশার জগতে নতুন এই ক্রেজি ড্রাগস কিংবা পার্টি ড্রাগস ব্যবহৃত হচ্ছে আরেক মরণ নেশা ‘কোকেন’-এর বিকল্প হিসেবে।

মরণঘাতী মাদক কেটামিন দেখতে অনেকটা চিনির দানা বা ইয়াবা ট্যাবলেটের মতোই। এটা অন্যান্য মাদকের মতোই একজন ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করে। এ মাদকটিই ধীর গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে।

তবে সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীসহ সারাদেশে কীভাবে এবং কারা এ মাদক ছড়াচ্ছে তা জানার চেষ্টা করছে। চক্রটিকে শনাক্তে মাঠে নেমেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। কিন্তু মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই।

এই মাদক অন্যান্য মাদকের চেয়ে দামে কিছুটা বেশি হওয়ায় এখনও অনেকের হাতে পৌঁছায়নি। মূলত উচ্চবিত্ত পরিবারের যুবক-যুবতীরাই এর ক্রেতা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের নামি-দামি নাইট ক্লাব ও আবাসিক হোটেলগুলোতে লুকিয়ে এটি সেবন করা হচ্ছে। এটা গ্রহণ করে সাধারণত হোটেল বা ডিজে পার্টিতে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে এই মাদকটি ডিজে পার্টির ‘রেপ ড্রাগস’ বলেও পরিচিতি পেয়েছে।

জানা গেছে, গত বছর ঢাকার বনানীতে রেইনট্রি হোটেলে একটি ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে গুলশান, বনানী, খিলক্ষেত এবং উত্তরার বিভিন্ন হোটেল এবং ডিজে পাটিগুলোতে পুলিশি নজরদারির কারণে খুব গোপনীয়তা রক্ষা করেই চলছে এর ব্যবসা।

তবে গত কয়েক বছরে বিমানবন্দরে কেটামিনসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ধরা পড়লেও সংবাদমাধ্যমে সে খবর ততটা প্রকাশ হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে ঢাকায় গুলশান, বনানী, বসুন্ধরা, শাহবাগ, মগবাজার, পুরান ঢাকা, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে কেটামিন সরবরাহের বিশেষ সিন্ডিকেট।

মূলত নাটক-মডেলিংয়ের আড়ালে রাজধানীর মিডিয়াপাড়া, নামি-দামি হোটেল এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উঠতি বয়সি তরুণ-তরুণীদের মাঝে চলছে কেটামিন ড্রাগস সেবন ও রমরমা ব্যবসা। যখন দেশব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে, সেই সময়েও আড়ালে রয়েছে কেটামিন চক্র।

সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইয়াবা, ফেনসিডিল এখন সহজলভ্য না হওয়ায়, একটু টাকা খরচ করলেই পাওয়া যাচ্ছে কেটামিন।

কী এই কেটামিন

কেটামিন মূলত অবশ করার ওষুধ হিসেবে ১৯২৬ সালে আবিষ্কৃত হয়। ১৯৭০-এর দশকে অজ্ঞান করার কাজে ইউরোপ-আমেরিকায় ওষুধটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

কেটামিন হচ্ছে ইয়াবা সদৃশ নেশা জাতীয় পাউডার। যা দেখতে অনেকটা চিনির দানার মতো সাদা। কেটামিন তরল অবস্থায় পান করে বা ইনজেকশনের মাধ্যমেও শরীরে গ্রহণ করে অথবা বিভিন্ন পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করে আসক্তরা।

এ ছাড়া অনেক সময় মারিজুয়ানার সঙ্গে হেরোইনের মতো ধোঁয়া সৃষ্টি করেও নেশা করে থাকে । অতিরিক্ত সুখ খুঁজতে গিয়ে তরুণ-তরুণীরা বিভিন্ন পার্টির নাচ গানের সময় ব্যবহার করে বলে কেটামিন ‘রেপ ড্রাগ’ বা ‘ক্লাব ড্রাগ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। তবে ডিজে পার্টির টিম লিডাররা এটাকে ‘টিকে গড ড্রাগস’ও বলে থাকে।

মাদক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা ইয়াবা বা হেরোইনের মতোই একটা ড্রাগস। কিন্তু কেটামিন দেহের সেন্ট্রাল নার্ভ সিস্টেমকে ব্লক করে অচেতন করে ফেলে। এ কারণে কেটামিন গ্রহণকারীর চোখে দুইটি ফোকাসের সৃষ্টি হয়। তখন সেবনকারী অজ্ঞান ও মাতাল হয়ে যান।

কমেন্টস