স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর হত্যা; ৫ টুকরা লাশ পেলেও উদ্ধার হয়নি ২ পা

প্রকাশঃ জুলাই ১১, ২০১৮

ছবি: নিহত প্রবীর ঘোষ্র্র্র্র্র(বামে), গ্রেফতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু পিুন্ট দেবনাথ

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীরবাজারে ভোলানাথ জুয়েলার্সের মালিক প্রবীর ঘোষের হত্যার সঙ্গে তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু পিুন্ট দেবনাথ ও বাপন ভৌমিক জড়িত। তারাই নৃসংশভাবে প্রবীর ঘোষকে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে কেটে টুকরো টুকরো করে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়। গতকাল মঙ্গলবার(১০জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে প্রবীরের খন্ডিত লাশ উদ্ধার হলেও এদিকে বন্ধুর ভাড়া বাড়ির সেফটিক ট্যাংক থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষের ৫ টুকরা লাশ উদ্ধার হলেও দুই পায়ের হাঁটুর নিম্নাংশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। হত্যার পর মাথা, পা, হাত ও শরীর বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। তার দুই পা উদ্ধারে পুলিশ পুনরায় সেপটিক ট্যাংকে অভিযান চালিয়েছে।

গত ১৮ জুন রাত সাড়ে ৯টায় নগরীর বালুর মাঠের বাসা থেকে কালিরবাজার এসে নিখোঁজ হন স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষ। ওই রাতেই পিন্টুর ফ্ল্যাটে হত্যা করা হয় তাকে।

হত্যার পর কালীরবাজার স্বর্ণপট্টির পিন্টু স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিক পিন্টু তার কর্মচারী বাপন ভৌমিক ওরফে বাবুকে তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চন্দনপুর পাঠিয়ে দেয়। প্রবীর ঘোষের মোবাইল ফোনটি সঙ্গে দিয়ে পিন্টু বলে দেয়, সীমান্ত এলাকায় গিয়ে প্রবীরের ছোট ভাই বিপ্লবের মোবাইলে একটি মেসেজ দিয়ে মোবাইল ফোন ও সিমকার্ডটি ফেলে দিতে। পিন্টুর কথামতো প্রবীর ঘোষের মোবাইল থেকে ছোট ভাই বিপ্লবের মোবাইলে ২১ জুন একটি মেসেজ দেয় বাপন। যাতে সে বলে, তাকে কালীরবাজারের অনেক বড় রাঘববোয়ালরা অপহরণ করেছে। বাঁচাতে হলে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। মুক্তিপণের টাকা ঢাকার হানিফ ফ্লাইওভারে নিয়ে আসতে হবে। মেসেজটি দেওয়ার পর পরই বাপন মোবাইল থেকে সিমকার্ডটি বের করে ফেলে দেয়। মোবাইল সেটটি তার কাছে রেখে দেয়।

এদিকে বিপ্লবের মোবাইলে মেসেজ আসার পর পুলিশকে জানালে পুলিশ মেসেজের উত্তর পাঠায়। যাতে বলা হয়, কখন এবং ফ্লাইওভারের কোন জায়গায় টাকা নিয়ে আসতে হবে; কিন্তু পুলিশের দেওয়া সেই মেসেজের আর কোনো উত্তর আসেনি। বাপন মেসেজটি দিয়ে প্রবীরের সিমকার্ডটি ফেলে মোবাইল সেটটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসে। নারায়ণগঞ্জে ফিরে এসে সে তার কাছে মোবাইল ফোনটি রেখে দেয়। গত ৭ জুন শনিবার সকালে বাপন প্রবীরের মোবাইল সেটটিতে তার নিজের সিমকার্ড ভরে কথপোকথন শুরু করে। মোবাইল সেটটি চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই ডিবি পুলিশ শনিবার রাতে বাপনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ৮ জুন সকালে গ্রেপ্তার করে প্রবীর ঘোষের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পিন্টু দেবনাথকে।

দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তারা সোমবার রাতে জানায়, প্রবীর ঘোষের লাশ আমলাপাড়ার ১৫ কে সি নাগ রোডের রাশেদুল ইসলামের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে রয়েছে। রাত ১১টায় পুলিশ সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করে ৩টি প্লাষ্টিকের ব্যাগে রাখা প্রবীর ঘোষের লাশের ৫ টুকরা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, প্রবীর ঘোষের এক ভাই সৌমিক ঘোষ ইতালী প্রবাসী। সেখান থেকে মোটা অংকের টাকা পাঠানো হয় প্রবীর ঘোষের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই টাকা লেনদেন হতো প্রবীর ও পিন্টুর মধ্যে। সম্প্রতি সৌমিক ঘোষ যখন দেশে আসে তখন থেকেই নিখোঁজ ছিল প্রবীর। সৌমিক দেশে আসার আগেই টাকার জন্য পিন্টুকে চাপ দিতে থাকে প্রবীর। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। পরে পরিকল্পনা করেই প্রবীরকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে পিন্টু ও তার দোকানের কর্মচারী বাপন ভৌমিক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পিন্টু যে বাসাতে থাকে সে বাসার ফ্লাটেই প্রবীরকে হত্যার পর ওই বাসার নিচে সেপটিক ট্যাংকে লাশ ব্যাগে করে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার মঈনুল হক আরও জানান, মূলত প্রযুক্তি ব্যবহার করেই বাপন ও পিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কী কারণে প্রবীরকে হত্যা করা হয়েছে এবং হত্যা সঙ্গে আরো কারা জড়িত আছে কি না জানার চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদদালতে পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, নিখোঁজের ২১ দিন পর সোমবার ৯ জুলাই রাত ১১টায় শহরের আমলপাড়া এলাকার রাশেদুলের ৪ তলা ভবনের নিচে সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রবীরের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রবীর ঘোষ কালীরবাজার ভোলানাথ জুয়েলার্সের মালিক। গত ১৮ জুন থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তার সন্ধান দাবিতে ২১ দিন ধরে বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ী, নিহতের স্বজন, বিভিন্ন সংগঠন ও পরিবারের লোকজন মানববন্ধন ও সমাবেশ করে আসছিল। এরই মধ্যে নিহতের পরিবার প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেছিল।

কমেন্টস