ইয়াবাসেবী থেকে ব্যবসায়ী; ডারবি সিগারেটের প্যাকেটে করে ইয়াবা বিক্রি করতেন এএসআই মজনু

প্রকাশঃ এপ্রিল ২৭, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

কনস্টেবল পদে যোগ  দিয়ে ১০ বছরের মধ্যে হয়ে ২০১৪ সালে পদোন্নতি পেয়ে রাজধানীর খিলগাঁও থানায়  এএসআই হয়ে আসেন মো. মজনু মোল্লা। এই দশ বছরে তার বিরুদ্ধে ছিল নানা অপকর্মের অভিযোগ। ইয়াবা সেবনকারী মজনু মোল্লা সময়ের পরিক্রমায় হয়ে ওঠেন পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী। প্রতিদিন তিনি নিজে ১০ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সেবন করতেন। পাশাপাশি চলত বিক্রিও।

মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুরুত্ব না দেওয়ায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। রাজধানীর খিলগাঁও ও শাহজাহানপুর থানায় থাকাকালে মাদক সম্রাজ্ঞী চুন্নির সঙ্গে হাত মিলিয়ে গড়ে তোলেন শক্তিশালী ইয়াবা ব্যবসার সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সদস্য ছিল বেশিরভাগই নারী।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে মাদকসংক্রান্ত একটি অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) হয়ে সর্বশেষ রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে (লাইন ওয়ারি) সংযুক্ত ছিলেন মজনু মোল্লা। তার পরও সংশোধন হননি, বরং সাসপেন্ড থাকা অবস্থায় আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। চলতে থাকে মাদকের কারবার। অবশেষে গত বুধবার রাতে খিলগাঁওয়ের আমান উল্লাহ সুপার মার্কেটের অদূরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির সময় ইয়াবাসহ এএসআই মজনু মোল্লাকে (৩৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

অভিযানকালে তার সহযোগী দক্ষিণ বাসাবোর বাসিন্দা সঞ্জয় (৪০) পালিয়ে গেলেও মজনুর কাছ থেকে পুলিশ জব্দ করে ৪১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ইয়াবা বিক্রির ১ হাজার ৮০০ টাকা। এ ঘটনায় বুধবার রাতেই খিলগাঁও থানার এএসআই মো. নাসির উল্লাহ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।

এর আগেও মজনু ইয়াবাসহ আটক হয়েছিলেন। তখন তিনি খিলগাঁও থানায় কর্মরত ছিলেন। শাহজাহানপুর থানায় কর্মরত অবস্থায় মোল্লার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ছাড়াও হাতকড়া পরিয়ে মারধরের অভিযোগে মামলা করেন সোলায়মান শেখ নামে এক মুক্তিযোদ্ধা। নারী নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বুধবার রাতে ডারবি সিগারেটের প্যাকেটে করে ১০০ পিস ইয়াবা নিয়ে খিলগাঁওয়ে আসেন মজনু মোল্লা। খিলগাঁও থানার কথিত সোর্স রহমানের কাছে ৫০ পিস ইয়াবা দেন। অবশিষ্ট ইয়াবা বিক্রির জন্য খিলগাঁওয়ের আমান উল্লাহ সুপার মার্কেটের অদূরে গলিতে অবস্থান করেন। সেখানেই ভ্রাম্যমাণ এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর কাছে ৯টি ট্যাবলেট ১ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত পৌনে ৯টার দিকে ডিএমপি কমিশনারের বিশেষ টিমের সদস্য এএসআই রিয়াজুল ও কনস্টেবল মো. আরিফ হোসেন চ্যালেঞ্জ করেন মোল্লাকে। এ সময় খাওয়ার জন্য ৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট নিজের কাছে রেখেছেন বলে স্বীকার করেন মজনু মোল্লা। সন্দেহ হলে গোয়েন্দা শাখার পুলিশ সদস্যরা বিষয়টি ফাঁড়ি পুলিশকে জানান। পরে তল্লাশি করে মোল্লার পকেট থেকে ডারবি সিগারেটের প্যাকেটে রাখা ৪১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ইয়াবা বিক্রির ১ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করেন। এ সময় পুলিশের আইডি কার্ড ঝোলানো ছিল মোল্লার প্যান্টের বেল্ট বন্ধনীর সঙ্গে।

পুলিশ সূত্র জানায়, মজনু মোল্লার গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীতে। থাকতেন বাসাবো কমিউনিটি সেন্টারের পাশে। শাহজাহানপুর থানার পর র্যাব ৫-এ কর্মরত ছিলেন। সেখানেও নানা অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। থানা পুলিশের কিছু সোর্স ছাড়াও মোল্লার মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হিসেবে যাদের নাম পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তারা হলেন মাদক সম্রাজ্ঞী মাফিয়া চুন্নি চক্রের পারভিন, সনিয়া, ঝর্ণা, মৌ, ইতি, দুনিয়া, স্বর্ণা, মৌসুমী, সোমা, সোর্স লুঙ্গি ফারুকসহ আরও ২৩ জন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার এসআই শাহ আলম আমাদের সময়কে বলেন, যেহেতু হাতেনাতে ইয়াবাসহ তিনি (মোল্লা) গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাই আদালতে তার রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। এ ঘটনায় পলাতক মাদক ব্যবসায়ী সঞ্জয়কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

কমেন্টস