Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ২০ বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ক্রাইম পেট্রোল সিরিয়াল দেখে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন স্বামী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০৪:৪৯ PM আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০৫:০২ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগে স্বামী মোশারফ হোসেন সিয়াম ওরফে শুভকে (২৮) গ্রেফতার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশগত শনিবার গ্রেফতার স্বামী মোশারফ হোসেন সিয়ামকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয় এর আগে  গত শুক্রবার(১৩ এপ্রিল) রাতে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের দুঃসম্পর্কের মামা আনিছুর রহমানের বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়

শ্রীপুর থানার এসআই মাহমুদুল হাসান জানান, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে বগুড়া ও পরে দিনাজপুরের মাগুরা থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়।

সিয়ামের বরাত দিয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান জানান, পরিবারের অমতে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল তারা। বিয়ের কিছুদিন পর মেয়ে পক্ষ তাদের বিয়ে মেনে নেয়। পরে সিয়াম শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বিয়ের পর থেকেই সিয়ামের স্ত্রী মনোয়ারা পারভীন মুন্নী বিভিন্ন জনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করলে স্বামী সিয়াম তাকে বাধা দেয়। এ নিয়ে একাধিকবার তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের সৃষ্টি হলে মুন্নী সিয়ামকে মারধর করেন বলে জানায়।

এরই জের ধরে মুন্নীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় সিয়াম। পরে সিয়াম ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল সনি-আট এ ক্রাইম পেট্রোলের বিভিন্ন পর্ব দেখে মুন্নীকে হত্যার পূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ঘটনার দু’দিন আগে মঙ্গলবার ও বুধবার দিবাগত রাতে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থও হয় সে। পরে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে হত্যার সিদ্ধান্ত নিলেও ঘুম থেকে জাগতে না পারায় সে পরিকল্পনাও ভেস্তে যায় সিয়ামের। পরে ৬ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ৭টায় ঘুম ভাঙলে দৈহিক মিলনও করেন তারা। এদিকে মুন্নীর মা, বাবা ও ভাই বাড়িতে না থাকার সুযোগে সকাল ৯টার দিকে সিয়াম তাকে হত্যার চেষ্টা চালায়।

প্রথমে তাকে ছুরি দিয়ে গলা কাটার চেষ্টা করলেও তা গিয়ে কাঁধে লাগে। পরে মুন্নীর পেট কাটার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এ সময় মুন্নী-সিয়ামের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলেও একহাতে গলা চেপে ধরে অপর হাতে থাকা ছুরি মুন্নীর গলায় চালায় সে। এর কিছুক্ষণ পরই মৃত্যু কোলে ঢলে পড়েন মনোয়ারা পারভীন মুন্নী। হত্যা নিশ্চিত হওয়ার পর সিয়াম ঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়।

দু’জনের মধ্যে প্রায় দশ মিনিট ধরে চলা এই হত্যা লীলার শব্দ ও মনোয়ারার বাঁচার জন্য চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। প্রতিদিনের মতোই তাদের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছে ভেবে আশপাশের কেউ এগিয়ে যায়নি। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার সময় ভাবেই ঘটনার বর্ণনা করছিলেন সিয়াম।

হত্যার পর গোসল খানায় গিয়ে তার রক্ত মাখা পোশাক পরিবর্তন করে শ্বশুরের পোশাক পড়ে জানালার গ্রিল ভেঙে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সিয়াম। পরে সেখান থেকে প্রথমে ময়মনসিংহ, বান্দরবান, কক্সবাজার, বগুড়ার পর দিনাজপুর যাওয়ার পর পরই পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সিয়াম।

উপ-পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান আরও জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে বগুড়া, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিয়াম পুলিশের কাছে স্ত্রী মনোয়ারাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

নিহতের স্বজনেরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে তাদের পরিবার ঢাকায় বসবাস করার সময় মোবাইল ফোনে সিয়ামের সঙ্গে মনোয়ারা পারভীনের পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে পরিবারটি ঢাকা থেকে গাজীপুরের শ্রীপুরের কেওয়া পশ্চিম খণ্ড গ্রামে এসে আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার (রেজু মিয়া) দুটি কক্ষ ভাড়া নেয়। এরপরও সিয়াম মনোয়ারার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে। পরে গত ৭ মাস আগে সিয়াম মনোয়ারাকে গোপনে বিয়ে করে। বিয়ের বিষয়টি অবশ্য মনোয়ারার পরিবারের লোকজন জানতে পারে। পরে তারা মেনেও নেয়।

বিয়ের পর থেকেই মনোয়ারা তার স্বামীকে নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করে। পরে মনোয়ারা পার্শ্ববর্তী মারিয়া ফ্যাশনের টাইম কিপার ও সিয়াম বাড়ির পার্শ্ববর্তী প্রিমিয়াফ্লেক্স প্লাস্টিক লিমিটেড কারখানায় অফিস সহায়ক পদে চাকরি নেয়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে কারখানা থেকে এসে স্বামী-স্ত্রী রাতের খাবারের পর একসঙ্গে ঘুমাতে যায়। পরে বেলা ১১টায় স্বজনেরা তাদের কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরে ঢুকে পারভীনের গলাকাটা নিথর দেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়।

Bootstrap Image Preview