মায়ের সাথে পরকীয়া, মেয়ের সাথেও শারীরিক সম্পর্ক করতে চাওয়ায় হত্যা!

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

বগুড়ার শিবগঞ্জে মোবাইলে গোপনে মেয়ের গোসলের দৃশ্য ধারণ করে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়ায় কিরণ নামের  এক কলেজছাত্রকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন ওই মেয়ের মা মাকছুমা। 

আদালতে দেয়া মাকছুমার জবানবন্দির উদ্বৃতি দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম জানান, নিহত কিরণ মাকছুমার গ্রাম সম্পর্কীয় নাতি। কিছুদিন আগে বিধবা মাকছুমা কিরণের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই সম্পর্ক চলাকালীন সময়েই কিরণের কুদৃষ্টি পড়ে মাকছুমার কলেজ পড়ুয়া মেয়ের উপর। কিরণ গোপনে ওই মেয়ের গোসলের ভিডিও ধারণ করে দীর্ঘদিন থেকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল।

তিনি আরও জানান, এরই এক পর্যায়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কিরণ মাকছুমার বাড়িতে গিয়ে তার মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাবে রাজি না হলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয় কিরণ। বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মাকছুমা ও কিরণ। পরে সেটি একসময় ধস্তাধস্তিতে রুপ নেয়।

এ সময় ঘরের মধ্যে থাকা একটি স্ট্যাম্প দিয়ে কিরণের মাথায় আঘাত করেন মাকছুমা। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর ছেলেদের পোশাক পরে কিরণের লাশ বস্তায় ভরে সাইকেলে করে নিয়ে  প্রায় ১ কি.মি. দূরে কলাবাগানে ফেলে আসেন মাকছুমা। এর পরের দিন স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে কিরণের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কিরণের বাবা গোলাম মোস্তফা বাদি হয়ে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন।

মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আমরা মাত্র ৪ দিনেই হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি। মোবাইল কলের সূত্র ধরেই মঙ্গলবার বিকেলে মাকছুমাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরই তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত স্ট্যাম্প, লুঙ্গি, বাই সাইকেল ও দুটো মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।

কমেন্টস