যশোরে সাংবাদিক সহ চারজনের লাশ উদ্ধার  

প্রকাশঃ জানুয়ারি ২১, ২০১৮

ক্রাইম ডেস্ক।।

খুলনার যশোরে একের পর এক চার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত দুটি লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি, বাকী দুজনের মধ্যে একজন পেশায় সাংবাদিক অন্যজন গৃহবধূ।

আজ রোববার(২০ জানুয়ারী) সকালে যশোরের বাঘারপাড়া ও সদর উপজেলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ১টি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙ্গুরা এলাকায় এ লাশটি উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, অপর এক ঘটনায় গতকাল শনিবার রাত তিনটার দিকে সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রাম থেকে আরেকটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে আজ সকাল আটটার দিকে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। সকাল নয়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য, লাশটি যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। নিহত যুবকের বয়স আনুমানিক ২৪ বছর। তার ডান কানে ও বুকের বাম পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে তার পরিচয় জানা যায়নি।

অন্যদিকে, যশোর-ছুটিপুর সড়কের ওপর দুই দল সন্ত্রাসীদের মধ্যে গোলাগুলির সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি ওয়ান শুটার গান, একটি গুলি, পাঁচটি গুলির খোসা এবং পাঁচটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে ওই ব্যক্তির ও কোনো পরিচয় জানা যায়নি। তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর।

এদিকে গতকাল বিকেলে যশোরের বেজপাড়া এলাকায় উম্মে মাওয়া খুশি (২৫) নামের এক গৃহবধূ গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার লাশও যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আত্মহত্যা করা গৃহবধূর লাশের ছবি তুলতে হাসপাতাল মর্গে গিয়েছিলেন যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক সমাজের কাগজের ফটো সাংবাদিক রবিউল ইসলাম মিঠু (৫০)। ছবি তুলে মর্গ থেকে বেরিয়েই মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি, পরে গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে সমাজের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক সোহরাব হোসেন জানিয়েছেন।

জানা যায়, মর্গ থেকে মৃতদেহের ছবি তুলে বাইরে বেরিয়েই পড়ে যান মিঠু। তাকে দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। জরুরি বিভাগের ডা. রাশেদ রেজা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ফটো সাংবাদিক মিঠু মারা গেছেন।

রবিউল ইসলাম মিঠু যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোড বাইলেনের বাসিন্দা। তার বাবা মৃত ইব্রাহিম মোল্লা। মিঠু মা, দুই সন্তান, তিন ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয় রেখে গেছেন। তার ছোট মেয়ের বয়স মাত্র তিন মাস। ১৬ বছর বয়সী বড় ছেলেটি বাদশাহ ফয়সল ইসলামী ইনস্টিটিউটের ছাত্র।

কমেন্টস