বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায়, ধর্ষণের শিকার কিশোরী

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

ক্রাইম ডেস্ক-

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় একটি বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিলো ১৪ বছর বয়সী এই কিশোরীর। বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শামছুল হক নামের এক ব্যাক্তি মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন এবং বন্ধুদের সহায়তায় ধর্ষণের দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও করেন। পুলিশ এ ঘটনায় অভিযুক্ত শামছুলকে গ্রেপ্তার করে গতকাল শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

জাজিরা থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দেবে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরী। তাকে বিয়ে করার জন্য উত্ত্যক্ত করতেন শামছুল হক। ওই কিশোরীর পরিবার বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শামছুল গত ১২ ডিসেম্বর মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন এবং বন্ধুদের সহায়তায় ধর্ষণের দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও করেন। ওই কিশোরীর পরিবার সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখে। কিন্তু ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মেয়েটিকে পুনরায় ধর্ষণ করতে এবং বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন শামছুল।

কিশোরীর পরিবার শামছুল হকের পরিবারকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছিল না। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ওই কিশোরীর বাবা গত বৃহস্পতিবার র‌্যাবের মাদারীপুর ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেন। র‌্যাব ওই দিনই শামছুল হককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে শামছুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার এবং ধর্ষণের দৃশ্যের ভিডিও ও মুঠোফোনটি জব্দ করা হয়।

শুক্রবার মেয়েটির বাবা জাজিরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। মামলায় শামছুল হকসহ মজিবর রহমান, হৃদয় ছৈয়াল ও রায়হান নামের তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। শামছুল হককে র‌্যাব আটক করার পর ওই তিনজন গ্রাম থেকে পালিয়েছেন। মামলায় শামছুলকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জাজিরা থানার পুলিশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাজিরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বলেন, মামলার আসামি রায়হান ওই কিশোরী ও শামছুলের আত্মীয়। ঘটনার দিন রায়হান ওই কিশোরীকে আরেক আসামি মজিবুরের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। বাড়ির একটি ঘরে আটকে তাকে ধর্ষণ করেন শামছুল। সেই দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও করেন মজিবুর, হৃদয় ও রায়হান।

কিশোরীর বাবা বলেন, ‘সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে বিষয়টি থানা-পুলিশকে জানাইনি। কিন্তু শামছুল হক নানাভাবে আমাদের পরিবার ও আমার মেয়েকে বিরক্ত করছিল। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল। শুক্রবারের মধ্যে তার কাছে মেয়েকে বিয়ে না দিলে সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেবে এমন হুমকি দেয় মুঠোফোনে। তখন বিষয়টি র‌্যাবকে জানাই।’

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, শামছুলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক তিন আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

কমেন্টস