ধর্ষণের শিকার কিশোরীর গর্ভপাতে মৃত্যু, লাশ গুমের সময় আটক ২

প্রকাশঃ জানুয়ারি ৬, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক:

পরকীয়া থেকে ধর্ষণ এবং দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ থেকে অবৈধ গর্ভবতী হয়ে পড়ে কিশোরীটি। কিশোরীটির নাম তাছলিমা বেগম (১৩) এবং ধর্ষকের নাম নুরুল ইসলাম মাদবর(৫৫)। ঘটনার পর থেকে ধর্ষক পলাতক রয়েছেন। ধর্ষক ও ধর্ষিতা উভয়ে প্রতিবেশী।

তাশরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার মহিষকান্দি গ্রামে পরকীয়ার কারণে অবৈধ গর্ভবতী এক কিশোরীকে জোর করে গর্ভপাত করতে গিয়ে  কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর লাশ গুমের চেষ্টা কালে ধরা পড়ে এ ঘটনায় জড়িতরা।

এ ঘটনায় নিহত কিশোরীর বাবা গোসাইরহাট থানায় ৫ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেছেন।

গোসাইরহাট থানা পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে হাতেনাতে স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা ও তার সহোদরকে গ্রেফতার করে কোর্টে সোপর্দ করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে মামলার মূল আসামিকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

গোসাইরহাট থানা পুলিশ জানায়, গোসাইরহাট উপজেলার মহিষকান্দি গ্রামের ইউসুফ আলী খানের কিশোরী মেয়ে তাছলিমা বেগমের (১৩) সঙ্গে প্রতিবেশী ৫৫ বছর বয়সী ৩ সন্তানের জনক নুরুল ইসলাম মাদবরের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দু’জনের মধ্যে অবৈধ মেলামেশার কারণে একপর্যায়ে কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়ে।

এ খবর জানাজানি হলে লোকলজ্জার ভয়ে নুরুল ইসলাম মাদবরের স্ত্রী আয়েশা খাতুন কিশোরীর গর্ভের সন্তান গর্ভপাত করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। তিনি কিশোরী তাছলিমাকে নিয়ে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ছুটোছুটি করেন।

বুধবার উপজেলার কুচাইপট্টি একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা মাজেদা বেগম তাছলিমা বেগমকে নিরাপদে গর্ভপাত করার জন্য তার গ্রামের বাড়ি কোদালপুর ইউনিয়নের ভুলু সরদারপাড়া গ্রামে নিয়ে যান।

স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা মাজেদা বেগম কিশোরী তাছলিমাকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিজ বাড়িতে গর্ভপাত করার সময় গর্ভবতী কিশোরী মারা যায়।

এ ব্যাপারে নিহত কিশোরীর মামা সিরাজুল আকন বলেন, আমার ভাগ্নিকে গর্ভপাতের নামে নুর ইসলাম মাদবর ও তার স্ত্রী আয়েশা হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।

গোসাইরহাট থানার ওসি মেহেদী মাসুদ বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কমেন্টস