অনিয়ম দুর্নীতিতে শোকজের পাহাড়, তবু চাকরিতে বহাল মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা জাহান ইভা!

প্রকাশঃ অক্টোবর ১৭, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

অনিয়ম দুর্নীতিতে শোকজের পাহাড়, তবুও চাকরিতে বহাল তবিয়তে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারহানা জাহান ইভা! টাঙ্গাইলের উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেগম ফারহানা জাহান ইভার বিরুদ্ধে রয়েছে অনিয়ম দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ।

জাতীয় শোক দিবসের কর্মকাণ্ডে উপস্থিত না থাকা, সরকারি কাজে সহযোগিতা না করা, অনুমতি ব্যাতিরেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, বদলির সময়ে দায়িত্ব হস্তান্তর না করা, চাবি এবং ফাইলপত্র আটকে রাখা, সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা- এ রকম বহু অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এমনকি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে ফোন করলেও তিন ফোন ধরেন না- এমন ঘটনাও ঘটেছে। এসব অনিয়ম দুর্নীতির কারনে তাকে বারবার কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা না করেই সামাজিক গণমাধ্যমে নিজের অপরাধ ঢাকতে অন্য পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ লেখালেখি করে যাচ্ছেন তিনি। সরকারি চাকরিজীবী হলেও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করেন না তিনি। ফলে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাকে বারবার কারণ দর্শিয়েছেন।

এদিকে টাঙ্গাইলের উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বেগম ফারহানা জাহানের বিপুল পরিমাণ অনিয়ম দুর্নীতির প্রমাণ থাকার পরও তার রিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় শোক দিবসে অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক হলেও তিন বিনা নোটিসে শোক দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে ছিলেন অনুপস্থিত।

শোক দিবসে অনুপস্থিত থাকায় এই কর্মকর্তাকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কারণ দর্শানোর নোটিস দেন। শোকজ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারও।

এদিকে বকশীগঞ্জ জামালপুরের উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় দীর্ঘদিন চাবি ও অফিসের প্রয়োজনীয় ফাইলপত্র ও রেজিস্টার আটকে রাখেন তিনি। এই কারণে জামালপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মজিদ প্রশাসনিক কাজ ব্যহত হচ্ছে উল্লেখ করে বেগম ফারহানা জাহানকে পত্র দেন এবং দায়িত্ব, রেজিস্ট্রার ও চাবি বুঝিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। চিঠিতে উল্লেখ করতে দেখা যায় তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হয়ে এক সপ্তা ধরে ফোন করা সত্ত্বেও বেগম ফারহানা জাহান তার ফোন ধরছেন না।

এদিকে জামালপুরের উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরীফা আক্তার প্রেরিত গত ৯/১০/১৭ তারিখের একটি সরকারি পত্রে দেখা যায় তিনি উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা বকশীগন জামালপুরকে অনুরোধ করেছেন নতুন যোগদানকৃত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেয়ায় এবং মোটর সাইকেলের চাবি না হস্তান্তর না করায় বেগম ফারহানা জাহান ইভার এলপিসি (বেতন বিলের কাগজ) যেন আটকে রাখা হয়।

সর্বশেষ প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তা ও সচিবরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন তার কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা করেন তিনি যা সরকারি প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকা-২০১৬ অনুযায়ী পরিহারযোগ্য এবং সরকারি কর্মচারি শৃঙ্খলা ও আপীল বিধিমালা ১৯৮৫-এর ৩ (বি) ধারা অনুযায়ী অসাদাচারণের শামিল বলে মন্ত্রণালয় মনে করছে। ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হাফসা বেগম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তিন কার্যদিবসের মধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বেগম ফারহানা জাহানের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী অপরাধের জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা জানানোর জন্য মহাপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে দুর্নীতিবাজ ও সরকারি আদেশ অমান্যকারী এই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ক্যাডার ও অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে একটি বিশেষ গোষ্ঠী। জাতীয় শোক দিবসের কর্মকাণ্ডে উপস্থিত না থাকা, সরকারি কাজে সহযোগিতা না করা, অনুমতি ব্যতিরেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, বদলির সময়ে দায়িত্ব হস্তান্তর না করা, সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা- এরকম বহু অভিযোগ যে মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তার পাশে দাঁড়িয়েছে খোদ মৎস্য অধিদপ্তর। সর্বশেষ ফেসবুকে সরকার ও প্রশাসন বিরোধী কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ উপেক্ষা করে মৎস্য অধিদপ্তর তার অন্যায় অবস্থানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে মর্মে জানা যায়।

অপরদিকে, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে খুলনায় এ বিষয়ে (১৭ অক্টোবর) বিকাল ৫ টায় আলোচনা সভা আহ্বান করেছেন ডা. বাহারুল আলম, যিনি একজন নন-ক্যাডার কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন ক্যাডারের সাথে অন্যান্য ক্যাডারের দ্বন্দ্ব সৃষ্টির জন্য কুরুচিপূর্ণ ফেসবুক পোস্ট দেন মর্মে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পেশাজীবীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি ও সরকারি চাকুরেদের শৃঙ্খলা বিধি ভঙ্গ করে সরকারবিরোধী বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।

কমেন্টস