চার বছর অনুপস্থিতি থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর মারজানার

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা প্রতিনিধি-

কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মারজান আক্তার এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, পরকীয়া সম্পর্ক স্থাপন এবং অনৈতিক কাজের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করে সপ্তাহে একদিন গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কিছু সময়ে সে হাজিরা খাতায় অগ্রিম স্বাক্ষর করার অভিযোগ রয়েছে।

হাজিরা খাতায় দেখা গেছে, মারজান শুক্র ও শনিবার বন্ধের দিনেও স্বাক্ষর করেছেন। এতে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার শিমপুর গ্রামের হাজী মো: মকবুল হোসেনের কন্যা মারজান আক্তার প্রথম কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার জোরকানন ইউনিয়নের ভূমি অফিসে উপ-সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বদলীজনতি কারণে যোগদান করেন। কর্মস্থলে যোগদানের পরই চতুর মারজান আক্তার বিভিন্ন কৌশলে একই অফিসের ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো: মনির হোসেনের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক এবং অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পরেন।

বিষয়টি নিয়ে মো: মনির হোসেনের প্রথম স্ত্রী রুবিনা আক্তার মারজানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ১৯৮৫ এর ৩(বি) বিধি এবং এস্টাবলিস্টমেন্ট ম্যানুয়েল ১৯৯৫ এর ০৫/০৩/১৯৮৮ খ্রি. তারিখের সম (বিধি-৫) ১ ডি-১১/৮৭-২২নং পরিপত্র অনুযায়ী অসদাচরণের পর্যায়ভুক্ত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে ২৪/০৯/২০১৩ তারিখের বি:কা:মা: ০৫/২০১৩-৮৭৯২(৫)/কুম/এ.এ নং স্মারকে মারজান আক্তার বিরুদ্ধে বিভিাগীয় মামলা নং- ০৫/২০১৩ রুজু করে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ১০ কার্য দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

নোটিশ পেয়ে মারজান আক্তার সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ১৯৮৫ এর ৬ (বি) অনুসারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দাখিল করেন এবং বর্ণিত ভুল ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে অভিযোগের দায় হতে অব্যাহতি প্রার্থী না করেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ১৯৮৫ এর ৩ (বি) বিধি অনুযায়ী আনীত অসদাচরণের অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় মারজান আক্তারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে, মো: মনির হোসেন এর ১ম স্ত্রী রুবিনা আক্তার এর নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে ৩১৪/২০১৪নং মামলা রুজু করায় ৮/৫/২০১৪ইং তারিখে আদালত মারজান আক্তার এর জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

পরবর্তীতে বিবাদী রুবিনা আক্তার মারজানের সাথে আপোস মীমাংসার মাধ্যমে মামলা থেকে অব্যাহতি পান। পরে মারজান আক্তার এর বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহারের পর মারজান প্রথমে গোলপাশা ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও পরবর্তীতে আলকরা ইউনিয়ণ ভূমি অফিসে গিয়ে অফিস সহকারীর কাথে থেকে জোরপূর্বক হাজিরা খাতা নিয়ে একসাথে হাজিরা খাতায় সকল অনুপস্থিতির স্বাক্ষর করে।

আলকরা ইউনিয়নের অফিস সহকারী তোফায়েল জানান, ‘আমি মারজানকে বাধা দিলে সে আমাকে ধমকি দিয়ে হাজিরা খাতা ছিনিয়ে নিয়ে সকল স্বাক্ষর একসাথে করে ফেলে।’

আলকরা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘মারজান প্রায়ই অফিসে অনুপস্থিত থাকে। আমি তাকে বহুবার বলেছি কিন্তু সে আমার কথায় কোন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। আমি আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মৌখিক বিষয়টি জানিয়েছি। শীঘ্রই তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করব।’

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: রবিউল হাসান জানান, ‘আমি দীর্ঘদিন ট্রেনিংয়ে ছিলাম। বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। শীঘ্রই তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মারজান আক্তার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘আমি সকালে অফিসে গিয়ে চলে এসেছি। তাহলে আপনার ভূমি কর্মকর্তা বলেছেন আপনি আজ আসেনি এমন প্রশ্নের জবাবে সে জানান তাহলে আমি আসিনি।’

খবর নিয়ে জানা যায়, সেদিন সে ময়মনসিংহে ছিলেন। এর পর মারজান আক্তার সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি দেন।

কমেন্টস