দেশে একি চলছে! আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে!

প্রকাশঃ আগস্ট ৩, ২০১৭

অ আ আবীর আকাশ-
আমাদের এ যুগের উপর, সময়ের অধপতন হওয়ায় আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় ধরণের লানত অপেক্ষা করছে। কথাগুলো এজন্য বলছি যে আমরা যারা লেখালেখি করি মাঝে মাঝে চমকে যাই, ভিরমি খাই, নিজের কাছে নিজে লজ্জা পাই। একেক সময় একেক সংবাদ আসে লজ্জায় কাতর হয়ে পড়ি। প্রয়োজনের তাগিদে সংবাদ করতে হয়। নইলে অন্যকোনো উপায় থাকলে এড়িয়ে চলতাম।

দেখুন এসব সংবাদ পড়ে নিজেকে নিজে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। আমি আপনি জানবোও না এসব কি ঘটতে চলেছে, কে ঘটাচ্ছে! যা আমাদের কল্পনাতীত তাই বাস্তবিক অর্থে ঘটিয়ে চলছে মানুষচরিত্ররুপী অমানুষরা।

বিশ্বাস করতে পারছি না, এসব কি! মান-সম্মান, ইজ্জত, লাজ-লজ্জা, আপন-পর সম্পর্ক কোনো কিছুই বাধ সাদছে না তাদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে।

পৌনে ৩ বছরের শিশুকে চকলেট দেখিয়ে ধর্ষণ শেষে টয়লেটের ভেতরে পুঁতে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টা করা। ক্ষেত চাষে ট্রাক্টর আওয়াজ শুনে এসে পাঁচ বছরের শিশু ধর্ষিত হওয়া। গাজীপুর থেকে কিশোরীকে ট্রাকে তুলে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে সারারাত চালক হেলপার মিলে ধর্ষণ করা। নিউজ২৪চ্যানেলের আরমান তার সৎমেয়েকে ৮ বছর ধরে তার আপন মায়ের সহযোগিতায় ধর্ষণ করা এমনকি কয়েকবার গর্ভ নষ্ট করা।এ রকম আরেকটা কিশোরগঞ্জে নিজ স্ত্রীকে বিদেশে পাঠিয়ে সৎমেয়েকে দেড় বছর ধরে ধর্ষণ করা, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে চোখ নষ্ট করে দেয়া।
রামগঞ্জ স্কুল ছাত্রীকে গলায় ছুরি ধরে বাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা। রামগতিতে গৃহবধূকে সিএনজির চালকসহ ৩ জন মিলে রাতভর ধর্ষণ করা। বগুড়ায় মা-মেয়েকে ২ বার গণধর্ষণ শেষে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে মাথা ন্যাড়া করে দেয়া। গৃহবধূকে ধর্ষণ করতে এলে ওই ঠোঁট কামড়িয়ে ছিঁড়ে রেখে থানায় জমা দেয়া। কমলনগরে নবজাতককে গলাটিপে হত্যা করে কার্টনভর্তি করে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়া। গৃহবধূকে মা ডেকে মা মেয়ে ২ জনকেই ধর্ষণ করা। চাচার সাথে ৩ সন্তানের জননী উদাও হওয়া। শ্বশুর মেঝো বউকে ধর্ষণের পরে বড় বউকে ধর্ষণের চেষ্টা করা। মা অক্ষম বলে আপন মেয়েকে তার বাবার বিছানায় দেয়া (তবু সংসার টিকে থাক!)। ভাগিনার সাথে মামি চলে যাওয়া। আবার মামা ভাগ্নিকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ করা। আপন বোনের ছেলে কর্তৃক খালা গর্ভবতী হওয়া। ভাসুরের ছেলে কর্তৃক চাচি অন্তঃসত্ত্বা হওয়া। আপন বোনকে মাসের পর মাস প্রেমিকা বানিয়ে ধর্ষণ করা!

ছি, ছি আর পারছি না, আল্লাহ, এবার আমাদের রক্ষা করুন। সারা দেশব্যাপী একি শুরু হলো?

মাওলা আমাদের তুমি ছাড়া আর কে রক্ষা করবে? তুমিই ভরসা আল্লাহ। এসব বিষয়ে আমার কিছু মতামত রয়েছে। আশা করি মতামতগুলো প্রয়োগ করলে ভালো ফল আসবে।
মতামতগুলো নিন্মরুপ মেয়েদের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। ঘরের বাইরে পর্দানশিন হতে হবে।
ওপেন রিলেশন বা উন্মুক্ত সম্পর্ক বন্ধ করতে হবে। হোক বাবা, ভাই বা আত্মীয় যে কেউ। মেয়েদের মাদ্রাসা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সময় সম্পর্কে অভিভাবকগণ চতুর দৃষ্টি রাখতে হবে।
বান্ধবীর বাড়ী বিয়ে, গায়ে হলুদ, বই আনা বা অন্য যেকোন উছিলায় যাওয়া বন্ধ করতে হবে। আঁটশাঁট জামা, বোরকা পরা নিষিদ্ধ করতে হবে।মেয়েদের ধর্মীয় রীতিনীতি শিখিয়ে রাস্তায় হাসাহাসি, আড্ডা, চাইনিজে যাওয়া, দোকানে দোকানে ঘোরা বন্ধ করতে হবে।
প্রবাসীদের বউদের কোনো একাউন্ট না খোলা বা তাদের নামে কোনো টাকা না দেয়া, দিতে হলে লিমিট করে দিতে হবে। তাদের হাতে টাচ মোবাইল না দেয়া। তাদের বাজারে আসতে না দেয়া, ডাক্তারের কাছে যেতে হলে ননদ শ্বাশুড়ি কেউ সাথে যাওয়া।

তবেই আমার বিশ্বাস ধর্ষণ অশ্লীলতা বেহায়াপনা কমবে।নারীকূলের সেভ হওয়া, সংশোধন হওয়া মানেই সমাজ রাষ্ট্র থেকে জঘণ্যতম পাপ ধুলিস্যাৎ হওয়া।

প্লিজ নারীকূলের মা বোনেরা আপনারা পোশাকে শরীর প্রদর্শনী বন্ধ করুন। পর্দার নামে বোরকা পরে দেহের ভাঁজ কিবা কোমরের পিছনের সাইট প্রদর্শন করার কোনো মানেই দেখছি না বরং সমাজ আর রাষ্ট্রকে বিশৃঙ্খলের দিকে টেনে নেয়। প্লিজ একটু সাবধানতাই আমাদের শান্তিতে রাখতে পারে।

আসুন আমরা পুরুষেরা যে যার ঘরের দিকে নজর দিই, মা বোন মেয়েকে নিয়ন্ত্রণ করি। নিজেরাও সংশোধন হই।

লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক

কমেন্টস