“এ কেমন বিচারক মো. আলী হোসাইন!”

প্রকাশঃ জুলাই ২৩, ২০১৭

ফারুক আহমাদ আরিফ-

একের পর এক কেলেংকারী ফাঁস হচ্ছে বরিশালের মূখ্য মহানগর হাকিম মোঃ আলী হোসাইনের। প্রথমে বরিশাল সার্কিট হাউজে থেকে ভাড়া পরিশোধ না করে আলোচিত হয়েছেন তিনি। এবারে অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রীনলাইন ওয়াটারবাস কর্তৃপক্ষকে চাপে রেখে গত দু’বছর ধরে কোন রকম ভাড়া না দিয়ে যাতায়াত করছেন তিনি ‘ভিআইপি টিকেট’ এর নাম করে।

শুধু নাই নয়, গত রোজার ঈদে গ্রীন লাইন ওয়াটারবাস কর্তৃপক্ষ টিকেট দিতে অপারগ হলে তাদেরকে পুলিশের মাধ্যমে থানায় নিয়ে হয়রানি করেন তিনি। বরিশালের কোতোয়ালী থানার পুলিশ সদস্যরা বিচারক আলী হোসেনের অন্যায় আবদার মেনে গ্রীন লাইনের কর্মচারীদের থানায় ডাকতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছেন বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এদিকে গ্রীনলাইনকে দু’বছরে সেই মুখ্য মহানগর বিচারকের যাতায়াতের জন্য গুনতে হয়েছে দু লক্ষ টাকা। হয়রানির ভয়ে তারা এতোদিন মুখ খুলতে পারেননি।

শুধু সার্কিট হাউজ নয় লঞ্চের ভাড়াও দিতেন না ইউএনওকে শাস্তিদাতা বিচারক

প্রতি সপ্তাহে ঢাকা যেতে বরিশালের ওয়াটারবাসে বুকিং দিতেন এই বিচারক। প্রতি মাসে তিনি আট হাজার টাকার সমপরিমাণ ভ্রমণ করেছেন, দু বছরের বেশি সময়ে যার পরিমাণ প্রায় দু লক্ষ টাকার কাছাকাছি।

ভিআইপি টিকেটের নামে ফ্রি টিকেট দিতে না চাইলে বিচারক আলী হোসেন এবং তার নাজির সুমন গ্রীনলাইনের কর্মীদের ভয়ভীতি এবং হয়রানি করে আসছেন। কোতয়ালী থানা পুলিশের সাথে কথা বলে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে।

সার্কিট হাউজের ভাড়া পরিশোধের আগে জামিনযোগ্য মামলায় বরিশালের আগৈলঝড়ার ইউএনও তারিক সালমনকে জামিন না দিয়ে হাজতে পাঠিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন এই বিচারক। বিকেলে ইউওএনও তারিককে জামিনে মুক্তি দিলেও তার সকালে জামিন নামঞ্জুর করে বিকেলে মঞ্জুর করা বিষয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনা হয়। এরই মাঝে বেরিয়ে আসে বিচারকের একের পর এক কেলেংকারী। প্রথমে জানা যায় দিনের পর দিন বরিশাল সার্কিট হাউজে থেকেও ভাড়া না দিয়ে চলে যান তিনি। আর এখন গ্রীনলাইনের ওয়াটারবাসের কর্মীদের উপর জুলুমের চিত্র উঠে এসেছে তদন্তে।

জানা যায়,  প্রতি বৃহস্পতিবার চিফ মেট্রেপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হোসাইন বরিশাল থেকে ৩টার লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতেন। মাস ছয়েক হলো তার সাথে আরো যুক্ত হয়েছেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গোলাম ফারুকের জন্য বিনা ভাড়ায় টিকেট নেওয়া। এই দুই বিচারককে তাদের পছন্দের ছিট দিতে হয়।

গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, এবার ঈদুল ফিতরে দুই বিচারকের পছন্দের সিট দিতে না পারায় বরিশাল কোতোয়ালি থানার পুলিশ তাকে ডেকে নিয়েছিলেন। অবশ্য পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে তার সাথে খারাপ কোন আচরণ করেননি।

বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগে ইউএনওকে শাস্তি দানকারী বিচারক ৭ মাস যাবত সার্কিট হাউজের ভাড়াই দেন না

লঞ্চে বিনা ভাড়ায় টিকেট নেওয়া সার্কিট হাউসের ভাড়া পরিশোধ না করার বিষয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর গিয়াস উদ্দিন কবুল বলেন, তিনি জানতেন লঞ্চে তাদের কোটায় থাকা সিটে ভাড়া পরিশোধ করে বিচারকরা যাতায়াত করেন। ভাড়া না দিয়ে যাতায়াত করে থাকলে এটা নৈতিকতা বিরোধী। এ নিয়ে সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম ইকবাল বলেন, বিচারকদের পরিচ্ছন্ন মনোভব থাকা আমাদের কাম্য। এ বিষয়গুলো সমাজের মানুষ জানতে পারলে তাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্ম নিবে এটাই স্বাভাবিক।

জানা গেছে, এই বিচারক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরিশাল জেলা সার্কিট হাউজের ৯৩ হাজার ৯৫০ টাকা বকেয়া ভাড়া দেননি। তিনি ২০১৫ সালে ২৭ অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত সার্কিট হাউজের ৭ নম্বর কক্ষে বাস করে মাত্র ৫ দিনে ৩৯০ টাকা ভাড়া দিয়েছেন। তার কাছে ৯৩ হাজার ৯৫০ টাকা পাওনা আছে বলে ৪ আগস্ট ২০১৬ তারিখ ওই সময়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর কল্যাণ চৌধুরী চিঠি দিয়েছিলেন।

কমেন্টস