প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য
সংসদ ভবনের পাশে প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্ধকৃত মাঠটি নিজেই ‘প্রতিবন্ধী’

প্রকাশঃ জুলাই ১৭, ২০১৭

ইসতিয়াক ইসতি।।

প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্ধ একমাত্র খেলার মাঠের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। জঙ্গল- আগাছায় ছেয়ে আছে পুরো খেলার মাঠ। দৃশ্যমান সাইনবোর্ড ছাড়া আর কোনো কাজের অগ্রগতি হয়নি শেষ ছয় মাসেও । কর্তৃপক্ষের দাবী বাজেট সমস্যার কারণে আটকে আছে মাঠের কাজ । মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল ৬ মাসের ভিতর কাজ শেষ করা, সেখানে কাজ শেষ করাতো দূরে থাক বরং কাজই শুরু করেনি দায়িত্বশীল ব্যাক্তিরা । 

বাংলাদেশের সংবিধানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমসুযোগ, সমঅধিকার, সমঅংশীদারিত্বের কথা বলা থাকলেও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের ক্ষেত্রে ঘটছে উল্টো চিত্র । সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিবন্ধী নাগরিক প্রথমে নাগরিক, পরে প্রতিবন্ধী বলে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও , আমাদের দেশের সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, একজন প্রতিবন্ধী শিশুকে ছোট থেকেই বেড়ে উঠতে হয় প্রতিবন্ধী পরিচয় নিয়ে। যার ফলে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তথা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্বের অধিকার খুবই নগন্য।

দেশের সর্বক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের অবদান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন সুস্থ মানসিক বিকাশ । আর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য প্রযোজন খেলার মাঠ। যেখানে ঢাকায় বসবাসকারি সুস্থ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই সেখানের প্রতিবন্ধীদের খেলার জন্য মাঠের কথা চিন্তা করা বিলাসিতা বলে অনেকের ধারনা।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে অঙ্গীকার করেছিলেন প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা একটি মাঠ হবে এবং সে মাঠ শুধু মাত্র প্রতিবন্ধী খেলার সুযোগ পাবে। যা তাদের মানুষের বিকাশের অবদান রাখবে। আর কথা অনুযায়ী ৫ বছর পর ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রায় পাঁচ একর জায়গা মাঠে বরাদ্ধ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মাঠের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে। সে সময় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মাঠের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে । আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। মাঠে অভিভাবকদের সঙ্গে সব ধরনের প্রতিবন্ধী শিশু, কিশোররা খেলতে পারবেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছিলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের খেলার কোনো জায়গা ছিল না এতদিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অবদানে অবশেষে দেশে প্রতিবন্ধীবান্ধব একটি খেলার মাঠ হতে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উৎসাহজনক। কিন্তু ঠিক ছয় মাস পরে মিরপুর সড়কের পাশে জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে (আসাদগেটসংলগ্ন) দেশের প্রথম প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠের কাজের অগ্রগতি দেখতে গেলে দেখা যায়, কালো সাইনবোর্ডে সাদা রঙে বড় করে লেখা,‘শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উন্মুক্ত খেলার মাঠ’। কিন্তু সাইনবোর্ডের অনেকটাই লতাগাছ দিয়ে ঢেকে আছে এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য খেলার মাঠ ঘোষণা করার পরে এখানকার জঙ্গল পরিষ্কার করা হলেও আবার ভিতরের গোটা জায়গাটা জঙ্গলা ও আগাছা দিয়ে ভরে গিয়েছে। যা প্রতিবন্ধীদের খেলার মোটেও উপযোগী নয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুন নাহার খানমমের কাছে মাঠের কাজ শেষ না হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি) জমি হস্তান্তর করে দেওয়া পরে কাজ ধরলেও পরে বাজেট পেতে সমস্যা হচ্ছে আমাদের। তাই কাজ শেষ করতে সময় লেগে যাচ্ছে।

কমেন্টস