মন্ত্রীর এপিএসের ভাই- ‘নিয়োগটা দিয়ে দেন, হালকা পাতলা পাঠালাম, বাকিটা পরে দিবানে’

প্রকাশঃ মে ২৬, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটা। এ সময় তৌহিদুর রহমান নামের এক যুবক মাগুরার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দেখা করতে আসেন। এসেই কিছুটা কাঁচুমাচু করছিলেন। এমন সময় জেলা প্রশাসকের ফোনটি বেজে ওঠে। ফোনটি ধরলে ওপাশ থেকে এক মন্ত্রীর এপিএসের ভাই পরিচয়ে একজন বলেন, ‘নিয়োগটা দিয়ে দেন। হালকা পাতলা পাঠালাম। বাকিটা পরে দিবানে।’

এরপরই তৌহিদুরকে সন্দেহ হলে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ তল্লাশি করে তাঁর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পায়। আজ শুক্রবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তৌহিদুর ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পুড়ানিয়ার চর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে থাকেন। সার্টিফিকেট সহকারী পদে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার এক নিয়োগ প্রার্থীর পক্ষে তিনি তদবির করতে এসেছিলেন।

জেলা প্রশাসকের দাপ্তরিক সূত্র জানায়, মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পদমর্যাদায় বিভিন্ন পদে ২০ জন কর্মচারী নিয়োগ করা হবে।

এ ছাড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের বিষয়টি এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। মোট ২১টি পদের বিপরীতে মোট ২ হাজার ৫৩৫ জন আবেদন করেন। আজ শুক্রবার তাঁদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, গত বুধবার অর্থমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মিজানুর রহমান পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করেন। তিনি সার্টিফিকেট সহকারী পদে শ্রীপুরের একজনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন। পরদিন (গতকাল বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তিনি দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় তৌহিদুর রহমান নামে ওই যুবক তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন।’

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘ওই যুবক আমার কক্ষে এসেই গোপনে কথা বলার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু আমি সবার সামনেই তাঁকে কথা বলতে বলি। ঠিক এ সময় অর্থমন্ত্রীর এপিএসের ভাই পরিচয়ে একজন আমাকে ফোন করে বলেন, ‘নিয়োগটা দিয়ে দেন। হালকা পাতলা পাঠালাম। বাকিটা পরে দিবানে।’ ওই ফোনের পর আমার সন্দেহ হয়। পরে আমার নিরাপত্তারক্ষী ও অন্যদের সহযোগিতায় তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে তাঁর শরীর তল্লাশি করে তাঁর কাছে থাকা একটি প্যাকেটে পাঁচ লাখ টাকা (৫০০ টাকার ১০ বান্ডিল), যে প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করতে এসেছিলেন তাঁর প্রবেশপত্র ও অন্য কাগজপত্র এবং তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। পরে রাত পৌনে ১০টার দিকে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।’

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায় মিজানুর রহমান নামে অর্থমন্ত্রীর কোনো এপিএস নেই।

যোগাযোগ করা হলে মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইলিয়াস হোসেন প্রতিবেদককে বলেন, ওই যুবক একজন দালাল। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি অফিসে ঢুকে সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) পরিমল কুমার সরকার বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আজ শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

কমেন্টস