ওয়ার্ড বয় থেকে অধ্যাপক! ভুয়া চিকিৎসার দায়ে কারাদণ্ড

প্রকাশঃ এপ্রিল ২০, ২০১৭

শামীম খান, মাগুরা প্রতিনিধি-

একসময় তিনি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়। কিন্তু এখন পুরোদস্তুর চিকিৎসক। শুধু কী তাই ! রীতিমত নিউরো সার্জন। নিয়মিত রোগী দেখতেন মাগুরা শহরের সদর হাসপাতাল পাড়ায় গ্রামীণ ল্যাব নামের একটি প্রতিষ্ঠানে।

গতকাল বুধবার খোরশেদ আলম (৪৫) নামে এ ধরনের এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করে ১ বছরের কারাদণ্ড দিযেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ম্যাজিষ্ট্রেট দীপক কুমার দেব শর্মার নেতৃত্বে গঠিত ভ্র্যামমাণ আদালত সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এ কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ভুয়া চিকিৎসকের বাড়ি চট্টগ্রামের পাচলাইশ এলাকায়। তার বাবার নাম আব্দুর রহিম। সে মাগুরার ওই ল্যাবে বিশেষজ্ঞ নিউরো মেডিসিন চিকিৎসককে পটিয়ে নিয়মিত রোগী দেখে আসছিল।

মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মুন্সী ছাদ উল্লাহ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার ভুয়া পরিচিতির বিষয়ে নানা অভিযোগ উঠে আসছিল। এটির প্রেক্ষিতে গত কয়েকদিন সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট সুত্রগুলোতে খোঁজ নিয়ে তার ভুয়া পরিচিতির ব্যাপারে তথ্য প্রমাণ মেলে।

এমনকি একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে দেখা যায় ২০১৩ সালে কুমিল্লার লাঙ্গল কোর্টে ভুয়া চিকিৎসক হিসাবে ধরা পড়ে জেলে যায় কথিত ওই চিকিৎসক খোরশেদ আলম। এই সব তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে তার বর্তমান কর্মস্থল মাগুরা শহরের হাসপাতাল পাড়ায় গ্রামীণ ল্যাব নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১ বছরের জেল দিয়ে তাকে মাগুরা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে খোরশেদ আলম ঢাকা মেডিকেল কলেজের কোনো ডাক্তার নয়। সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় ছিল।

এদিকে ভুয়া ওই চিকিৎসকের কর্মরত প্রতিষ্ঠান সদর হাসপাতাল পাড়ার গ্রামীণ ল্যাবে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রেফতার হওয়া চিকিৎসকের সাইনবোর্ডে তার নামের সাথে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপকসহ শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিসিএস (স্বাস্থ্য) এমবিবিএস ও এফসিপিএস (মেডিসিন), এমডি (নিউরো মেডিসন), এফআরসিপি (লন্ডন) পরিচয় দেয়া। সাইনবোর্ডের পাশাপাশি তার ব্যবস্থাপত্রে এ সকল ডিগ্রির উল্লেখ করেছেন।

প্রতিষ্ঠানে গিয়ে এটির মালিক পরিচয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর পেয়েই তারা পালিয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। একই প্রতিষ্ঠানে আরো অনেক ভুয়া চিকিৎসক আছেন যাদের মধ্যে কেউ কেউ মাগুরা সদর হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় ছিলেন এমন দাবি এলাকাবাসীর। এছাড়া একজন গোপালগঞ্জে ভুয়া সার্জন সেজে ভুল অস্ত্রোপচার করে জেল খেটেছেন।

Advertisement

কমেন্টস