চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী হতে বলায় শিক্ষকের গালে শ্রমিকলীগ নেতার চড়

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৯, ২০১৭

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি-

সিএনজি অটোরিক্সার চাঁদা তুলতে বাধা দেয়ায় হাইস্কুল শিক্ষককে জনসম্মুখে মারধর করে আহত করলেন শ্রমিকলীগ নেতা ইয়াবা রাসেল। রাসেল ধর্মপুর গ্রামের মুরহুম আবদুল বাকির ছেলে ও এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং চাঁদাবাজ নামে পরিচিত। আহত শিক্ষকের নাম মো. ইউসুফ মাহমুদ সংগ্রাম এবং তিনি ধর্মপুর গ্রামের বাসিন্ধা। তিনি লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এবং প্রগতিশীল কবি, লেখক।

গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় ভবানীগঞ্জ চৌরাস্তা সিএনজি স্টেশনে জনসম্মুখে এই ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণাত কেউ প্রতিবাদ করেনি। তবে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজন পথচারী শিক্ষককে স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন রাসেল।

চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী কর্তৃক শিক্ষককে মারধর করে আহতের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় ভবানীগঞ্জ স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিবাবক এবং এলাকাবাসী ভবানীগঞ্জ লক্ষ্মীপুরের মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় সড়কের উপর দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। লক্ষ্মীপুর থানা পুলিশ  ঘটনাস্থলে এসে রাসেলকে গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে প্রায় দুইঘণ্টা পরে অবরোধ তুলে নেয় প্রতিবাদকারীরা। এ সময় সুষ্ঠু বিচার না হলে কঠোর কর্মসূচির হুশিয়ারী দেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকলীগ নেতা রাসেল ভবানীগঞ্জ চৌরাস্তায় সিএনজি স্টেশনে চাঁদা তুলে আসছেন। এছাড়াও মদ, গাঁজা, ইয়াবার সাথে সরাসরি জড়িত রাসেল চৌরাস্তাবাসীর কাছে অনেক আগ থেকেই আতঙ্ক ও বাবা রাসেল নামে পরিচিত। চৌরাস্তার যুব সমাজকে বাবা রাসেলই ইয়াবার পথে নিয়ে আসছেন।

ভবানীগঞ্জ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ইউসুফ মাহমুদ সংগ্রাম শিক্ষার্থীদের মুখে রাসেলের কর্মকাণ্ড শুনার পর ক্লাসে ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন। ফলে ইয়াবা রাসেল তাঁর উপর ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। এবং ঘটনার দিবাগত রাত ১১ টায় বাজারে সিএনজি চালকের কাছ থেকে চাঁদা তুলতে গেলে ইউসুফ বাধা দেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেলও তার সহযোগিরা ওই শিক্ষককে মারধর করে আহত করেন।

নাম প্রকাশ না করার শতে চৌরাস্তা বাজারের অনেক ব্যবসায়ী বলেছেন, রাসেল শুধু সিএনজি নয়, ব্যবসায়ীদের থেকে চাঁদাও নেয়। রাসেলের এমন দৈরাত্ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, রাসেলের পিছনে স্থানীয় ও পুলিশ প্রশাসনের একাধিক অসাধু ব্যক্তির হাত রয়েছে। মাঝে মধ্যে দাগি আসামিদের জন্যে থানায় তদবীর করেন রাসেল এবং মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশের যোগসাজে তাদের ছাড়িয়ে আনেন রাসেল। প্রতিবাদতো নয় বরং তারাই উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে বললেন, প্রতিবাদ করে কি এলাকা ছাড়া হবো নাকি?

রাসেলের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। আহত শিক্ষক মো. ইউসুফ মাহমুদ সংগ্রাম বলেন, আমি অন্যায়ের প্রতিবাদে শিক্ষাথীদের সচেতন করেছি এবং নিজে সরাসরি প্রতিবাদ করেছি বলে আমার উপর হামলা করা হলো। আমি মনে করি এটা আমার কাজ, আমি করেছি। কিন্তু আমি হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং এই সকল চাঁদবাজদের থেকে এলাকবাসীকে মুক্ত করতে চাই।

ভবানীগঞ্জ স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ যে আমার শিক্ষকের উপর হামলা হয়েছে। এর বিচার হওয়া উচিত। অভিযুক্ত যেন কোনভাবেই পার না পান সেই দাবি অন্যান্য শিক্ষকদেরও।

 সদর থানার এসআই মোর্শেদ আলম জানান, শিক্ষক লাঞ্চনার ঘটনা আমি শুনেছি। এটা দু:খজনক যে শিক্ষকের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে।

কমেন্টস