কাশিমপুরে কারাগারে দুই এম্বুলেন্স, যেকোন সময় মুফতি হান্নান ও শরীফের ফাঁসি

প্রকাশঃ এপ্রিল ১২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিনেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তাঁর দুই সহযোগী শরীফ শাহেদুল ওরফে বিপুল এবং দেলোয়ার হোসেন রিপনের দণ্ড কার্যকর করতে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে।

গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বলেছে, আজ বুধবার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হতে পারে।

এদিকে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে দুটি অ্যাম্বুলেন্স কারাগারে প্রবেশ করেছে। আর পৌনে সাতটার দিকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ কাশিমপুর কারাগারে প্রবেশ করেছেন।

যান চলাচল বন্ধ: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নতুন বাজার মোড় থেকে কাশিমপুর কারাগারের প্রধান ফটক পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রধান ফটকের দুই পাশের ১৫০টির বেশি দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন বাজার মোড় থেকে কারাগারে ঢোকার মুখ পর্যন্ত পুলিশ দুটি তল্লাশিচৌকি বসিয়েছে। এর আশপাশে পুলিশ, র‍্যাব ও সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

কারা সূত্র বলেছে, হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল রয়েছেন এই কারাগারে। গতকাল মঙ্গলবার ফাঁসির মঞ্চ পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। শামিয়ানা টাঙানো হয়। জল্লাদদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি আবদুল হান্নানের সঙ্গে তাঁর স্বজনেরা দেখা করেছেন। মুফতি হান্নানের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও বড় ভাই কারাগারে এসে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আর দুপুরে দেখা করেন একই মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই ভাইও। মুফতি হান্নানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তাঁর স্বজনদের কাছে গতকাল মঙ্গলবার বার্তা পাঠিয়েছিল কারা কর্তৃপক্ষ।

কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. মিজানুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, মুফতি হান্নান ও তাঁর সহযোগী শরীফ শাহেদুল ওরফে বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গতকালই ফাঁসির মঞ্চ পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। শামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। জল্লাদদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সিলেটে ২০০৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা ও তিনজন নিহত হওয়ার মামলায় মুফতি হান্নান এবং তাঁর সহযোগী বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগেও তা বহাল থাকে।

রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) তিনজনের করা আবেদন খারিজ হয়। গত ২৭ মার্চ তিনজনই প্রাণভিক্ষা চেয়ে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন।

গত রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, তাঁদের প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি নাকচ করেছেন। তিনজনের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার পর কারাবিধি অনুযায়ী তাঁদের ফাঁসি কার্যকর করতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

কমেন্টস