৬২ শিক্ষার্থীকে কাঁদিয়ে জেলে গেলে সানরাইজের অধ্যক্ষ

প্রকাশঃ এপ্রিল ৩, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

চলতি বছরে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল নাইমা তাজরিনের। রাতদিন পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন। অথচ কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতারণার শিকার তাজরীন পরীক্ষা দিতে পারলেন না। পড়ার টেবিলে থাকার বদলে তিনি অসুস্থ হয়ে এখন বিছানায়। তাঁর মতো এ অবস্থা হয়েছে উত্তরার সানরাইজ কলেজের ৬২ জন পরীক্ষার্থীর। প্রতারণার শিকার হয়ে পরীক্ষা দিতে না পারা ১০ জন শিক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের অভিযোগ, লাখ লাখ টাকা নিয়েও তাঁদের প্রবেশপত্র দেয়নি রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের সানরাইজ কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গতকাল রবিবার উত্তরা পশ্চিম থানায় ৭৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেন অভিভাবকদের একজন।

আজ সোমবার কলেজটির অধ্যক্ষসহ তিনজনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রত্যেকের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

শিক্ষার্থী তাজরিনের মা সাজেদা বেগম প্রতিবেদককে বলেন, মেয়ের পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন। পরীক্ষার ফরম পূরণ করার নাম করে এক লাখ টাকা নিয়েছে সানরাইজ কলেজ কর্তৃপক্ষ। অথচ কলেজ তাঁর মেয়ের পরীক্ষার প্রবেশপত্র আনতে পারল না। যখন থেকে এ সংবাদ শুনেছে, তাজরিন তখন থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
প্রবেশপত্র না পাওয়ায় পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের একজন মোস্তাফিজুর রহমান। তাঁর বাবা মতিউর রহমান বাদী হয়ে সানরাইজ কলেজের চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ ওরফে শিপুসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ ঘটনায় তিনজন গ্রেফতার হলেও বাকিরা পলাতক। গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলেন সানরাইজ কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ জিয়া উদ্দিন সরকার ও কলেজের পরিচালক আলমাস হোসেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা-পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, সানরাইজ কলেজের ৬২ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৭৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন আসামিরা। বর্তমানে তাঁরা উত্তরা-পশ্চিম থানায় রয়েছেন। মামলায় এজাহারে যাঁদের নাম আছে, তাঁদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

মামলার বাদী মতিউর রহমান বলেন, ‘সানরাইজ কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতারণার কারণে তাঁর ছেলে পরীক্ষা দিতে পারল না। দুই দিন ধরে সে অসুস্থ। সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে। অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছি। কথা বলার সময় আবেগতাড়িত হয়ে পড়ে সে।’

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত শনিবার সানরাইজ কলেজের ৬২ জন শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র আনার জন্য কলেজে যান। পরে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। প্রবেশপত্র দেওয়ার কথা বলে সেদিন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয়। কিন্তু প্রবেশপত্র তাঁদের দেওয়া হয়নি। পরে তাঁদের জানানো হয়, পরীক্ষার কেন্দ্রে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রবেশপত্র দেবে। সব পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হলেও সানরাইজ কলেজ কর্তৃপক্ষের কেই আর যোগাযোগ করেনি। প্রবেশপত্র না পেয়ে তখন তাঁর ছেলেসহ অন্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সাব্বির কবির নামের পরীক্ষার্থী বলেন, শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে সন্ধ্যায় প্রবেশপত্র না পেয়ে ওখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন পরীক্ষার্থী মাসুদ রানা। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের সঙ্গে এমন প্রতারণা করবে, তা তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি।

সানরাইজ কলেজের চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ বলেন, ৬২ জন পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র পাননি কথাটা ঠিক নয়। ৩৭ জনকে তাঁরা প্রবেশপত্র দিতে পারেননি। এঁরা কেউ সানরাইজ কলেজের নিয়মিত ছাত্র ছিলেন না। তারপরও তাঁদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন। অনেক চেষ্টা করেও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে তাঁদের প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারেননি। এ জন্য তিনি লজ্জিত।

অবশ্য মামলার বাদী মতিউর রহমানসহ কয়েকজন পরীক্ষার্থীর বাবা বলেছেন, প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিলেও কোনো রেজিস্ট্রেশন কিংবা পরীক্ষার ফরম পূরণ করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাঁরা এর বিচার চান।

Advertisement

কমেন্টস